|
২০৯৩ সালে
আকাশে মধুচন্দ্রিমাঃ বিমান-কোম্পানী ফিন এয়ারের
প্রত্যাশা
চৌদ্দ
শতকে লিওনার্দ দ্য ভিঞ্চি উড়াল-যানের
নকশা এঁকেছিলেন। আর গত শতকে যখন রাইট ভ্রাতৃদ্বয় বিমান তৈরী করেন, তখন হয়তো ভাবেননি
একবিংশ শতকে এ-প্রযুক্তি এতোটা এগিয়ে যাবে। বর্তমানে আকাশপথে ভ্রমণ অনেকটাই সহজলভ্য
আর প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এ-শতকের শেষের দিকে আকাশ-পথে
ভ্রমণের প্রযুক্তি এতোটাই আধুনিক আর উন্নত হবে যে, সদ্য-বিবাহিত দম্পতিরা আকাশে
ভাসমান হোটেলে তাদের মধুচন্দ্রিমা উদ্যাপন করতে পারবেন।
খবরে প্রকাশ,
সম্প্রতি ফিনিশ কৌম্পানী ফিন এয়ার তাদের ব্যবসার ৮৫ বছর পূর্তি পালন করেছে
'ডিপার্চার ২০৯৩' প্রৌজেক্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে। ফিন এয়ার বস্ জুকা হেনোনেন আশা
প্রকাশ করে জানান, উড়োজাহাজ ব্যবসার বর্তমান মন্দাভাব কেটে গিয়ে ২০১০ নাগাদ ঠিক পথে
এগুতে থাকবে। ফিন্ এয়ার টীম সাংবাদিকদের জানায়, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায়
এমিশন-মুক্ত বিমান তৈরী করা সম্ভবপর হবে, আর ২০৮০ সাল নাগাদ পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ
দৈনন্দিন ভিত্তিতে আকাশ-পথে ভ্রমণ করবে। কারণ নতুন-নতুন ইঞ্জিন আবিষ্কার
হবে
যা আকাশ-যান ও স্থল-যানের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।
আন্তঃমহাদেশীয়
ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত বিমানগুলো শব্দের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি গতিবেগে চলাচল
করবে। এর অর্থ, ইউরৌপ থেকে অস্ট্রেলিয়া যেতে তিন ঘন্টারও কম সময় লাগবে। ফিন্ এয়ার
মনে করে, আকাশ-পথে ভ্রমণের হার ২০২০ সাল থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে বেড়ে যাবে। ফলে
এ-পরিবর্তনের পরবর্তী পর্যায়ে আকাশে মধুচন্দ্রিমা উদ্যাপন জন্য ভাসমান হোটেল রাখা
কোনো অবাস্তব বিষয় হবে না। কারণ ততোদিনে ৮৫০ আসনের উড়োজাহাজ বর্তমানের ক্রুজ্
শিপের মতোই বিলাস-বহুল উড়ান-তরীতে পরিণত হবে।
৯ নভেম্বর ২০০৮ |