পুনর্জন্মের উদ্দেশ্যে গোলাপী কফিনে 'মৃত্যুর' জন্য লাইন ধরেছে
থাইবাসী!
থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ মঠের পুরোহিতেরা ইহজগতের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য এক
অনন্য উপায় বের করেছেন। তারা বলছেন, যারা সমস্যাকে দূর করতে
চান, তারা 'মৃত' রূপে কফিনের ভিতরে প্রবেশ করে নতুন মানুষ
রূপে 'পুনর্জন্ম' লাভ করবেন। আর এভাবেই যে-কোনো ব্যক্তি তার
খারাপ সময়কে কাটাতে পারবেন। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য থাইরা বাথ খরচ করতে কুন্ঠা বোধ
করে না। তাই সমস্যা থেকে মুক্তির
জন্য প্রায় ৩ পাউন্ড সম-পরিমাণ ১৮০ বাথ কোনো ব্যাপারই না!
নতুন জীবন লাভের আশায় ব্যাঙ্ককের ৬৬মাইল
উত্তর-পূর্বের নাখোন নায়কের ওয়াত প্রামানী মঠে প্রতি সপ্তাহে প্রায় হাজার লোকের
সমাগম ঘটে। মঠের ভিতরে অবস্থিত হল ঘরে সাজানো আছে সোনার জমকালো কারুকাজ খচিত গোলাপী
রঙের ৯টি কফিন। পাপমোচনের এ-কার্য সম্পন্ন হতে সময় লাগে
মাত্র দেড় মিনিট।
মিসেস লাডমান নামে পরিচয় দেওয়া মঠের একজন শিক্ষিকা
সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'এটা কফিনের ভিতরে মাত্র পাঁচ মিনিটের
একটা ঘুম, যার মধ্য দিয়ে মানুষ সুখী
হতে চায়।' ইঞ্জিনিয়ার, আইনবিদ, খেলোয়াড়-সহ
সব পেশার সব বয়সের মানুষ ওই মঠটিতে ভীড় করছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রয়্যাল আর্মী
সসা'র টীমের সদস্যরা মঠে গিয়েছিলো ভালো ফলের আশায়। রয়্যাল আর্মী
সসা'র টীমের ২২ বছর বয়স্ক নিপ্পন খামথং বলেন,'আমরা
শুধু আগামীকাল জিততে চাই।'
বিশ্লেষকরা বলছেন,
থাইল্যান্ডের অর্থনীতির ক্রমানবতি আর সমস্যার চাপে জর্জরিত থাইবাসীরা এসব প্রচারণা
দ্বারা ভীষণভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ্ব ধর্ম এক বিষ্ময়কর রূপ
ধারণ করেছে। অনেকে বলে থাকেন থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ্ব ধর্ম তার স্বকীয়তা তথা মূল
উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের মতে থাইল্যান্ডে প্রচলিত বৌদ্ধ্ব ধর্ম
জাদুটোনা, আড়ম্বরতা আর লৌকিকতায় পূর্ণ। অনেক বৌদ্ধ-বিহার রীতিমতো ব্যবসা-কেন্দ্রে
পরিণত হয়েছে।
আপলৌডঃ ৫ অক্টোবর, ২০০৮
|