|
বিজ্ঞানীদের গবেষণাঃ স্টৌনহেঞ্জের
কাছে কেনো এতো গবাদি-পশু?
স্টৌন
এইজের কথা কে না জানে! সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ইংল্যান্ডের স্টৌনহেঞ্জ
নামক স্থানে স্টৌন-এইজের মানুষেরা শত মাইল দূর থেকে ধর্মীয় আনুষ্ঠিকতা পালনের জন্য
গবাদি-পশু নিয়ে আসতো। বিজ্ঞানীরা স্টৌনহেঞ্জের কাছে মাটি-চাপা দেওয়া পশুর দেহাবশেষ
পরীক্ষা করে এ-তথ্য উদঘাটন করেছেন। উল্লেখ্য স্টৌনহেঞ্জ হলো ব্রিটেইনের অন্যতম
প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন।এটির বর্তমান কাঠামোটি প্রায় ৩৫০০ বছর আগে তৈরী হয়েছিলো
কিন্তু এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ৫০০০ বছর আগে। বর্তমান সভ্যতার মানুষের কাছে
স্টৌনহেঞ্জ এক বিষ্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পুরাতত্ত্ববিদদের গবেষণায়
দেখা গেছে
নিয়োথিলিক মানুষেরা সাংস্কৃতিক
কর্মকান্ডে
অংশগ্রহণের
জন্য দূর-দূরান্তে পরিভ্রমণ
করতো। ডারিংটন ওয়াল স্টৌন এইজের একটি গ্রাম যেখানে
প্রচুর পরিমাণে
গবাদি-পশুর
দেহাবশেষ
পাওয়া গিয়েছে। এগুলো দেখে এটা মনে হয় যে কো্নো সফল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর
এগুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিলো। স্থানটি স্টৌনহেঞ্জ থেকে দু'মাইল উত্তর পূর্ব দিকে
অবস্থিত।
ব্রিটিশ জিয়োলজিক্যাল সার্ভের ডঃ জেইন
ইভান্স বলেন, 'আমরা যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিকতা সর্ম্পকে খোঁজ করছি যেটা দক্ষিণের
মানুষগুলোকে এই স্টৌনহেঞ্জের কাছে নিয়ে এসেছিলো। আমার মনে হয় আমরা যা দেখছি এখানে,
তা হলো ডারিংটন ওয়ালে আপনার নিজের গবাদি-পশুর বারব-কিউ আপনি নিজেই আনুন গোছের।'
ইভানের দল পশুগুলোর দাঁতের এনামেল পরীক্ষা করে দেখেছেন। এ-পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা
পশুগুলোর লালন-পালনের জায়গা বের করতে পেরেছেন। এদের মধ্যে মাত্র একটি পাওয়া গেছে
যেটা স্টৌনহেঞ্জের চক-ল্যান্ড এলাকায় লালন-পালন করা হয়েছিলো,আর বাদবাকি গুলো আরও
দূরের জায়গা থেকে আনা হয়েছিলো। ডারিংটনের আশে-পাশে ঐ সময়ের কোনো খামার থাকার প্রমাণ
পাওয়া যায়নি। তাই মনে করা হয় পরিব্রাজকেরা উৎসবে ভোজনের জন্য নিজেরাই নিজেদের পশু
নিয়ে আসতো।
লন্ডনঃ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮
|