|
মরদেহর
ছাই থেকে হীরাঃ আপনজনকে কাছে রাখার নতুন কৌশল
হীরক-খন্ডের
আবেদন সবসময়ই চিরন্তন। কিন্তু আপনজনের মরদেহ থেকে তৈরী হীরা? হ্যাঁ, বিষয়টি নতুনই
বটে। সুইৎজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব
পার্বত্য এলাকায় আলগৌরদানৎসা নামের
একটি ছোট্ট কোম্পানী ঠিক এভাবেই আপনজনকে কাছে রাখার উপায় বের করেছে।
জুলাই থেকে চালু হওয়া কোম্পানীটি ইউরৌপের
প্রথম কোম্পানী যারা মানব দেহের ছাই থেকে হীরা তৈরী করে।
মৃত্যুতে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে যারা হারাবার
বেদনা ভুলতে চায়, তাদের জন্য এ-কোম্পানীটি সেই প্রিয়জনদের মরদেহের ভষ্ম থেকে
হীরা তৈরী করে দেয়। আর তাদের তৈরী
করা হীরাগুলোও একটি অন্যটির মতো
দেখতে হয় না, ঠিক যেমন
দু-জন মানুষ দেখতে একরকম হয় না।
বিশেষত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যে, হীরা তৈরীর
মেশিনের ভিতরে একদেহের ছাইয়ের সাথে অন্য
দেহের ছাই গুলিয়ে যাবার কোন আশঙ্কা থাকে না।
হীরা তৈরীর প্রথম
ধাপে মরদেহের ভষ্ম বিশেষ পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ করা হয়।
তারপর সে-ভষ্মগুলো তিন থেকে চার
সপ্তাহ ধরে একটি নির্দিষ্ট চাপে
ও তাপে রাখা হয়। কোম্পানীর দাবী, তৈরীকৃত হীরাগুলো এতোটাই
নিখুঁত যে, বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত হয়রান হয়ে যাবেন
এগুলোর সাথে প্রাকৃতিক হীরার
পার্থক্য খুঁজে বের করতে। কোম্পানীটি জানায়, তাদের মেশিনটি
একবারে পাঁচ থেকে ছয়টি হীরা তৈরী করতে পারে। হীরা তৈরীর
নূন্যতম খরচ প্রায় পাঁচ হাজার ইউরো।
কোম্পানীর চেয়ারম্যান
ভিয়েত ব্রিমার বলেন,'কেউ কেউ আছেন
যারা সমাধিক্ষেত্রে মৃত প্রিয়জনকে
সমাহিত করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করে শান্তি খুঁজে পান। আবার এমন
মানুষও আছেন যারা এ-ধরণের বিদায় চান না।'
তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই
খৃস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা বলেন,' আমি কেনো বিদায় বলবো? আমি তো পনেরো বছরের
মধ্যেই আমার স্বামীকে স্বর্গে গিয়ে দেখতে পারবো' এর আগে ব্রাইমার জানিয়েছিলেন যে,
প্রতিদিন প্রায় দু'শ ব্যক্তি তাদের ওয়েব সাইটে অনুসন্ধান করেন যারা আপনজনের দেহভষ্ম
বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ তাদের নিজেদের ব্যাপারেও জিজ্ঞাসা
করছিলেন যারা চান যে তাদের মৃত্যুর পর তাদের দেহ ঠিক এভাবেই সংরক্ষণ কর হোক। পাঠক
আপনিও চাইলে খোঁজ নিতে পারেন এই ওয়েব সাইটে
www.algordanza.com.
লন্ডনঃ ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮
|