|
যতো বোকা ভাবা হয় ততো বোকা নয়ঃ গরুও করতে পারে
দিক-নির্ণয়
বাংলা
ভাষায় নির্বোধ লোককে অনেক সময় গরু বলে তার বুদ্ধির লঘুত্ব
নির্দেশ করা হয়। দিক-বিদিক জ্ঞানহীনদের অনায়াসে তুলনা করা হয় গরু
সাথে। অর্থাৎ, ধারণ করা হয়, গরুর কোনো দিক-বিদিক জ্ঞান নেই। সম্ভবতঃ এ-বোধ থেকেই
পাচন হাতে রাখাল-বালক পিছন-পিছন চলে গরু। কিন্তু এ-ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে
ডুইসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর সাবিন বেগ্যাল ও তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন
যে, গরু মোটেও বোকা নয়। কারণ দিক চিনে তারা পথ চলতে জানে।
গরুর আবহাওয়া বিষয়ক
বুদ্ধিমত্তার কথা বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন কিন্তু তাদের দিকনির্ণয়ের বিষয়টি আমলে
আনেননি। গরুরা বুঝতে পারে কখন বৃষ্টি হবে বা কোন্ দিক থেকে বৃষ্টি আসবে। আর এখন
দেখা যাছে যে, তারা দিক-নির্ণয়ও করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা তাদের মস্তিষ্কের
প্রকৃতি প্রদত্ত কম্পাস ব্যাবহার করে থাকে। প্রকৃতির কম্পাস আর পৃথিবীর চৌম্বক
ক্ষেত্র এ-দু'য়ের সমন্বয়ে তারা দিক-নির্ণয়ের দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করে থাকে।
গবেষকরা গুগল
আর্থ-এর মাধ্যমে ব্রিটেইন, আয়ারল্যান্ড, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের গবাদি-পশুর হাজারো
ছবিতে দেখেছেন যে তারা [প্রাণীরা] উত্তর অথবা দক্ষিণ মুখী হয়ে আছে। এছাড়া ডক্টর
সাবিন ও তার দল চেক রিপাবলিকের ৩০০০ হরিণের ছবি দেখেছিলেন যেখানে তারা দেখেন যে,
বিশ্রাম বা চারণের সময় হরিনগুলো উত্তরমুখী হয়ে আছে। এর থেকে তারা সিদ্ধান্তে আসেন
যে, গরু আর হরিণ একইরকম ভাবে দিক-নির্ণয় করে পথ চলে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে
এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রাণীকূলের অনেক প্রজাতিই পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার
করে দিকনির্ণয় করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে পাখি বা কচ্ছপের কথা উল্লেখ করা যায়। পোষা
কবুতর বাড়ী ফেরার জন্য তাদের ঠোঁটে থাকা বিশেষ একধরণের পদার্থের কারণে নিঁখুত ভাবে
দিক-নির্ণয় করতে পারে।
আপলৌডঃ ২৭ অগাস্ট,
২০০৮ |