|
নিয়ান্ডার্থাল-মানুষের হারিয়ে যাবার নতুন ব্যাখ্যা দাবী গবেষকদের
নিয়ান্ডার্থাল-মানুষ
ঠিক মানুষ নয়। নৃবিজ্ঞানীদের মতে এরা মনুষ্য-প্রায়। প্রাণী হিসেবে মানব-প্রজাতি ও
নিয়ান্ডার্থাল-মানুষ একই পূর্ব-পুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে দাবী করেন বিজ্ঞানীরা।
ডিএনএ গবেষণায় এ-দু'প্রজাতির মধ্যে ৯৯.৯৫ শতাংশ হুবহুতা পাওয়া গেছে। কোনো-কোনো
বিজ্ঞানীর মতে ৫ লক্ষ, আবার কারও মতে ৮ লক্ষ বছর আগে একই পূর্বসূরী থেকে
মানব-প্রজাতি ও নিয়ান্ডার্থাল-প্রজাতি পৃথক হয়ে যায়। আজ থেকে ২৫ হাজার বছর আগেও ১০
হাজার বছর ধরে প্রতিযোগিতা করে টিকে ছিলো এ-দু'প্রজাতি। বিবর্তনের ধারায়
মানব-প্রজাতি টিকে আছে কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে গেছে নিয়ান্ডার্থাল-প্রজাতি।
নিয়ান্ডার্থালের
বিলুপ্তির ব্যাখ্যায় মানব-প্রজাতির অস্ত্রের চেয়ে তাদের অস্ত্রের আপেক্ষিক
অনুৎকর্ষতাকে দায়ী করা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা দেখা গেছে যে, কার্যকারিতার দিক
থেকে মানব-প্রজাতির অস্ত্রের চেয়ে নিয়ান্ডার্থাল-প্রজাতির অস্ত্র কোন অংশে পিছিয়ে
ছিলো না।
ব্রিটেইনের
এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের সাদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়,
টেক্সাস স্টেইট বিশ্ববিদ্যালয় এবং থিঙ্ক কম্পিউটার কর্পৌরেশনের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন
ধরে জাদুঘরে সংরক্ষিত দুই প্রজাতির অস্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ-সিদ্ধান্তে
উপনীত হয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা নিজেরা
তিন বছর ধরে পাথরে-পাথর-ঠুকা পদ্ধতিতে অস্ত্র তৈরীর প্রক্রিয়া শিখে
নিয়ান্ডার্থাল-প্রজাতি ও মানব-প্রজাতির অস্ত্রের অনুরূপ অস্ত্র বানিয়ে তাদের
আপেক্ষিক উৎকর্ষতার তুলনা করেছেন। অস্ত্র তৈরীর প্রক্রিয়ায় ব্যয়িত সময়, সৃষ্ট
ভগ্নাংশের পরিমাণ, অস্ত্রের ধার ও ধারের স্থায়িত্বকে হিসাবে রেখে উপরোক্ত
সিদ্ধান্তে এসেছেন গবেষকরা। গবেষকদের একজন, মার্টিন এরেন, বলেন, 'কৃৎকৌশলের দিক
থেকে বলতে গেলে, একটির চেয়ে অন্যটির স্পষ্ট কোনো সুবিধা নেই।' তিনি দাবী করেন,
অস্ত্র-তৈরীতে নিয়ান্ডার্থালরা 'বুদ্ধিতে খাটো' না ভেবে আমাদের ভাবা উচিত 'পৃথক'
হিসেবে। বিজ্ঞানীদের মতে, কেনো কার্যকরিতার দিকে থেকে উৎকর্ষ না হওয়া সত্ত্বেও কেনো
যে ভিন্ন ধরণের অস্ত্র তৈরীর দিকে মানব-প্রজাতি গেলো, তা-ই অনুসন্ধানের বিষয়।
এরেনে দাবী,
'মানব-প্রজাতির অস্ত্র নিয়ান্ডার্থাল-প্রজাতির অস্ত্রের চেয়ে অনেক অগ্রসর ছিলো বলে
দীর্ঘদিনের ধারণার একটি প্রধান স্তম্ভ আমাদের এ-গবেষণায় ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এখন
প্রত্নবিজ্ঞানীদের সময় এসেছে নিয়ান্ডার্থালের বিলুপ্তির অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান
করার।'
আপলৌডঃ ২৭ অগাস্ট,
২০০৮ |