|
ব্রিস্টল থেকে গুজরাট অভিমুখে হাঁটা শুরু মার্ক বয়লের
মানবতার
প্রতি আস্থা প্রদর্শনের স্মারক হিসাবে বুধবার ব্রিটেইন থেকে পায়ে হেঁটে ভারত
অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন
মার্ক বয়েল।
তাঁর বাসনা মোহনদাস করমচাঁদ
গান্ধীর জন্মস্থান গুজরাটের পোরবন্দর দেখে আসা।
ব্রিস্টল শহর থেকে শুরু
হয়েছে বয়েলের এ-অভিযাত্রা।
বার্তা-সংস্থাগুলোর সাথে আলাপে বয়েল জানিয়েছেন, ভারত যাত্রাকালে তাঁর সঙ্গে থাকছে
না কোন টাকা-কড়ি, চলতি পথে তিনি নামবেন না কামাই-কাজের
কোন ধান্দায়।
তাহলে চলবে কী করে? বোয়েল
নিশ্চিন্তে জানিয়েছেন, পুরো পথটাই তিনি পাড়ি দেবেন মানুষের শুভেচ্ছার উপরে ভর করে।
আটাশ বছরের বোয়েল রঙ্গ
করে বলেন, 'আমরা সম্বল হবে কিছু সানস্ক্রীন, একটি ভালো ছুরি, একটি চামচ, আর কিছু
ব্যান্ডেজ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি না নিচ্ছি
কোন ভিসা কার্ড বা ট্রাভেলার্স চেক; আমার না থাকবে কোন ব্যাঙ্ক অাকাউন্ট
-
বলতে পারেন শূণ্য হাতে
রওনা দিচ্ছি আমি।'
আইরিশ
বংশোদ্ভূত মার্ক বয়েলের পরিকল্পনা হলো প্রতিদিন পনেরো থেকে পঁয়তাল্লিশ মাইলের মতো
হাঁটা।
ব্রিটেইন থেকে বেরিয়ে সুদূরের
পোরবন্দরে পৌঁছার পথে তিনি পাড়ি দেবেন অনেক দেশ, অনেক নগর আর অনেক বন্দর।
হাঁটতে-হাঁটতে বয়েল
যাবেন ফ্রান্স, সেখান থেকে ইতালী।
ইতালী পেরিয়ে পূর্ব
ইউরোপে ঢুকবেন তিনি।
তারপর ইরান, আফগানিস্তান
আর পাকিস্তান।
অতঃপর এখন থেকে আড়াই বছরের
মাথায় বয়েল পৌঁছুবেন গান্ধীর জন্মস্থানে।
বুধবার
বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে মার্ক বিপুল ধরণীর পথে নামার এই সিদ্ধান্তকে
'তীর্থযাত্রা' হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
মার্ক জানিয়েছেন, সাবেকী
দিনে আয়ারল্যান্ডে সরল জীবন-যাপনে দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিনা-অর্থে ঘর
ছাড়ছেন।
মার্ক
বলেন, 'মা-বাবার কাছে সব-সময় শুনতাম, এমন এক সময় ছিলো, যখন আইরিশরা একে অপরের ফসল
তোলা বা বুনে দেয়ার কাজটি করে দিতো এবং এ-কাজে অর্থ বিনিময়ের কোন ব্যাপার ছিলো না।'
বিমর্ষ মার্ক উল্লেখ
করেন, 'এখন সব কিছু গেছে পাল্টে। এখন আর বাড়ীর পাশের রাস্তার মোড়টিতেও কেউ কাউকে
চেনে না।
আর বাড়ীঘরের সদর দরোজাগুলোও
থাকে সদা-সর্বদা বন্ধ।'
ব্রিস্টল থেকে পোরবন্দর
যেতে-যেতে পথে পাওয়া মানুষ-জনকে শোনাবেন মার্ক বোয়েল শোনাবেন তাঁর আকাঙ্খার কথা।
মার্কি
বলবেন, 'আমরা ফিরে যেতে চাই সে-সময়ে, যখন প্রতিটি বাড়ী সদর দরোজা থাকবে উন্মুক্ত।'
মার্ক নিজেকে ফ্রীকোনোমী
আন্দোলনের একজন হিসাবে পরিচয় দেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে
শুরু হওয়া ফ্রীকোনোমী আন্দোলনের লোকেরা টাকা-কড়ির ব্যবহারহীন সমাজ-ব্যবস্থার
প্রবর্তনে আগ্রহী।
অর্থ-হীন হয়ে যাবার
ব্যাপারটি স্পষ্ট করে মার্ক বোয়েম বুধবার বলেন, 'যত বেশি সম্পদ আহরিত হতে থাকে,
কমিউনিটি ততো বেশি পরিমাণে ভেঙ্গে পড়ার দিকে এগুতে থাকে।'
যাত্রা
শুরুর দু'দিন আগে সোমবার নিজের ব্লগে বয়েল লিখেছেন, 'আটাশ বছরের জীবনে আমি এমন এক
পৃথিবীর অংশ হিসাবে থেকেছি, যেখানে অর্থ মানে নিরাপত্তা।
আমার এই আটাশ বছর হচ্ছে
নিরাপত্তাহীনতা, ভীতি, আত্মতুষ্টির আর বিশ্ব-প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম অবোধ থাকার সুদীর্ঘ
এক জীবন।'
সোমবার নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে
বয়েল উল্লেখ করেন, বুধবার থেকে তার জীবন পাল্টে যাবে।
তিনি লেখেন, 'আমি আমার
জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করবো। আমি আর কোন আপোষের পথে হাঁটবো না।'
সুদীর্ঘ সময়ের জন্য পথে
নামার ব্যাপারটি নিয়ে কারও-কারও কাছ থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা নিয়েও
সচেতন মার্ক।
তিনি বলেন, 'এতে কিছুই এসে যায়
না।'
আগামী আড়াই বছর ধরে পৃথিবীর
পথে-পথে মানবতার গান গেয়ে যাবার অঙ্গীকার করেন মার্ক বয়েল।
৩০
জানুয়ারী, ২০০৮ |