|
গল্প
ঝড়ের গান
আতিকা বিনতে বাকী
বাস থেকে
নেমে দাঁড়িয়ে c‡ড়
তৌফিক।
বাস রাস্তাটা আজ তার বড় ফাঁকা
লাগে।
জন-মানব-শূণ্য এ-যেনো এক নতুন
জনপদ।
ভাবলে অবাক হয়ে পড়ে সে। এইতো
কদিন আগে পরীক্ষার পরে কটা দিন কাটিয়ে গেছে মা-বাবা আর পাড়ার বন্ধুদের সাথে।
আজ আর সে কাউকে পায় না
রাস্তায়।
বাস রাস্তা ধরে এগোতে থাকে
তৌফিক।
ভিতরের হাহাকারটা যেনো মাথা
Pvড়v
দিয়ে ওঠে।
রাস্তার পাশে গাছের লাশ,
নদীতে গবাদিপশু ও
gvbyl-cÖvYxi
লাশ।
পথে পাড়ার বন্ধু আযমের
সাথে `„wó-wewbgq
হয় শুধু।
কেউ কারও সাথে কথা বলতে
পারে না আজ।
অথচ অন্য-সময় তাদের এ-মিলনে
জেগে উঠতে কুন্ঠিত হয় না পুরো জনপদ।
আজ যেনো
evm-iv¯—vi
মতোই সব নিথর,
ফাঁকা ও হাহাকারে
ভরা।
তৌফিক বাড়ী পৌঁছে লণ্ডভণ্ড
আইলার পদচিহ্ন দেখে মৃত-দৃষ্টিতে।
দৃষ্টিটা মৃতই।
কারণ এ-দৃষ্টিতে আপাততঃ
কোনো
শান্তনা
বা স্বপ্ন নেই।
তৌফিকের আগমনে আজ আর ছোট
ভাই-বোন দুটি ছুটে আসেনি
।
মা আবেগে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে
ঠিকই, কিন্তু যখনই বুঝতে পারে তার ঘর্মাক্ত শরীর ছেলেকে ভিজিয়ে দিয়েছে, তখন
weব্রZ-‡eva
করেন।
তার এ-চেহারাটা দেখতে
তৌফিকের অসম্ভব ভালো লাগে।
সে ভেবে রেখেছিলো কোনো
একদিন মাকে বলবে, মার এ-মুখ দেখার জন্য সে
evi-evi
ছুটে আসতে পারে।
কিন্তু তার আর বলা হয়ে
ওঠে না।
কারণ, শোনার মানুষটা হারিয়ে
গেছে ঝড়ের প্রচণ্ডতায়।
আশি
ঊর্ধ্ব
আমজাদ চাচা আজ বেরি‡q‡Qb
অনেক ভোরে। হাতে ছোটো
একটা পলিথিন ব্যাM|
তার মধ্যে অযত্নে
c‡ড়
থাকা গোটা-কয় চকোলেট,
সস্তার চানাচুর ও ডাল
ভাজা।
না,
সে তার নাতী-নাতনীর জন্য
বাড়ী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে না এ-সব।
evm-রাস্তার
পাশে ফাঁকা-মতো জায়গা পেলেই বসে
cড়‡e
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে।
বাড়ীতে চাচার পঁয়ষট্টি
বছরের আপন-জন,
সবচেয়ে কাছের মানুষটি চোখে ছানি
নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় বসে আছে গত দুদিন থেকে।
বাড়ী বলাটা ভুল হলো।
কারণ, সেটা এখন একটি
aŸsm-¯‘c
ছাড়া আর কিছুই না।
আমজাদ চাচা বসে মানুষ
গুনতে থাকেন। তার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য সফল হয় না।
কারণ যে-সব মানুষের
প্রাণ রক্ষা হয়েছে, তাদের শুধু প্রাণটাই রক্ষা হয়েছে; রক্ষা হয়নি
mnvয়-সম্বj
কিছুই|
এরই মধ্যে তাকে ঘিরে
Av‡শ-cv‡k
ছোটো একটা জটলা তৈরী হয়
শিশুদের ।
কয়েক দিনের
Abvnv‡i|
এ-শিশুগুলোর
আবদার করার শক্তিটুকুও আর
†bB।
এদেi
অনেকেরই বাবা মাছ ধরতে
গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে খুঁজতে গিয়ে সে-প্রলঙ্করী রাতে মা-যে কোথায় গেলো, তার
হিসেবটা AমীgvswmZ
রয়েই যায় শিশু-মনে|
শিশুদের দিকে তাকিয়ে আজ
আর আমজাদ চাচা রেগে ওঠেন না।
কোথায় যেনো মানুষ হওয়ার
যন্ত্রণাটা তাড়িত করে তাকে।
এরই মধ্যে ডvgv‡Xvj
বাজিয়ে
AvKvk-evZvm
কঁvwc‡q
হেলিকাপ্টারের শব্দ শুbv
যায়।
ছোট শিশুগুলো এবার আমজাদ
চাচাকে ছেড়ে আকাশপানে চেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে|
আমজাদ চাচার ভিতরেও যেনো
কী একটা ঘটে যায়।
আমজাদ চাচা হাতের ব্যাM
ফেলে ছুটতে শুরু করেন
ছোট শিশুদের সাথে তাদের দল-নেতা হয়ে।
বয়সটা আর তাকে ভাবায় না,
শুধু চোখের সামনে ভেসে
ওঠে পঞ্চাশ বছর আগের প্রিয় একটা স্মৃতি-ধোঁয়া ওঠা ভাত সাজিয়ে লাজুক মুখে বসে আছে
তার মনের মানুষটি|
আমজাদ চাচা আর ভাবতে পারেন না,
শুধুই ছুটে চলেন
শিশুদলের সাথে।
শান্তনুর
আজ একটা জরুরী মিটিং আছে ফরেইন ডৌনারের
mv‡_।
ইমারজেন্সী ডিসাস্টার মীটিং।
পাওয়ার পয়েন্টে সারা রাত
জেগে একটা প্রেসেন্টেশন তৈরী করেছে সে।
গত বন্যায় তার
প্রেসেন্টেশন যাকে বলে একদম ফাটাফাটি হয়েছিলো।
তার আইডিয়াও হিট।
বিশাল আয়োজনে
mv‡f©-dg©
পূরণ করেছে তার
Aধীbস্থ
কর্মচারীরা।
সেই
mv‡f©-d‡g©i
ভিত্তিতে ত্রাণ পেয়েছে তারাই
যারা নিরন্ন ও অভূক্ত হিসাবে বেশি স্কৌর করতে পেরেছে|
অফিসে তার ভালো একটা
অবস্থান তৈরী হয়েছে।
বীর দর্পে ছুটে বেড়াচ্ছে
শান্তনু।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবার তার
বিপর্যস্ত ক্যারিয়ারটাকে শীর্ষ-স্থানে নিয়ে যাবে।
যাক,
যা হয় ভালোর জন্যই
হয়-প্রচলিত প্রবাদটা মনে মনে
AvIড়v‡Z-AvIড়v‡Z
শান্তনু রওনা হয় অফিসের
পথে।
তৌফিক,
আযম,
আমজাদ চাচা ও তার শিশুদল
খবর রাখে না শান্তনুর।
জানে না রাজধানীতে
শান্তনু কী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে,
সারা রাত জেগে একটা খাসা
প্রেজেন্টেশন তৈরী করে ফেলেছে সে।
শান্তনুও খবর রাখে না
ওদের।
কিন্তু আমরা জানি,
পত্রিকা ও টেলিভিশনের
কল্যাণে।
ওপরের ঘটনাগুলো বিভিন্ন
পত্রিকায় ও টেলিভিশনে প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সত্য।
কখনও আমাদের চোখে পড়ে,
কখনও পড়ে না।
আপলৌড ২২
জুন ২০০৯
|