|
নাস্তিকের ঈশ্বরজ্ঞান
আতিকা
বিনতে বাকি
প্রাণ
ভরে গান গেয়ে চলছে নাস্তিক তার নিজ নিয়মে।
কতো হেদায়েত আসে যায়।
গতি-প্রকৃতি
অপরিবর্তিত-ই থাকে তার।
বুঝাতে আসে অনেকেই, জীবন প্রকৃতির
চেহারা-অপচেহারার যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগে।
নাস্তিক শুধু হাসে আর
হাসে।
আস্তিকরা তাদের অসীম
ও স্বচক্ষে (!!) দেখা জ্ঞানের আলোকে বর্ণনা করে
নরকের লোমহর্ষক আগুন এবং নানাবিধ ভয়াবহ শারীরিক শাস্তি।
নাস্তিক হেসে লালন
শাঁই-কে গলায় বাঁধে,
'শুনি মলে পাবো বেহেশতখানা, তা শুনেতো মন মানে না, বাকির লোভে নগদ পাওনা কে
ছাড়ে এ ভূবণে।'
আস্তিকরা ধৈর্য হারায়, গালাগাল দেয় এবং একসময়
উপলব্ধি করে উলো বনে মুক্ত ছড়ানোর সত্যতাকে।
পথ চলতে
বহু মানুষ দেখে নাস্তিক।
তাদের কাওকে-কাওকে ভালোও
লেগে যায় তার।
কিন্তু ক'দিন
পরে দেখা যায় মুখোশের আড়ালে আর এক মুখ।
নাস্তিক বিহবল হয়ে পড়ে
মুখ ও মুখোশের সত্যতা বিচারে। কোনটা মুখ আর কোনটা
মুখোশ।
চলতে থাকে এভাবেই জীবনের
পরিক্রমায়।
তবে কিছুদিন থেকে সে আর ব্যস্ত
হয় না পুরোনো খেলায় মুখ ও মুখোশের টানাপোড়েন-এ।
তার কাছে এখন দুটাই এক ও
অভিন্ন।
তাই বুদ্ধি করে একসময় সে এসব
ভাবনা মাথা থেকে ডিলিট করে দেয়।
কারণ এতো দিন যাদের
বিষয়ে সে এ-চিন্তাগুলোতে মত্ত হতো, আসলে তারা নিজেরাই জানে
না কোনটা তাদের মুখ আর কোনটা তাদের মুখোশ।
ভালোই
কাটছিলো নাস্তিকের জীবন।
কিন্তু বাধ সাধলেন খোদ
ঈশ্বর।
ঈশ্বর একদিন তার সামনে এসে
দাঁড়ালেন অন্যের চেহারা ধার করে।
নাস্তিক জানতে চাইলো তার
পরিচয়।
ঈশ্বর জানালেন তিনি আর কেউ
নই, স্বয়ং ঈশ্বর।
নাস্তিকের মুখের
সেই হাসি আবারও খেলে উঠলো এবং সাথে-সাথে
সে-ধরেই নিলো সামনে দণ্ডায়মান ব্যক্তিটি পাগল
ছাড়া আর কিছু নয়।
ঈশ্বর তার মনোভাব বুঝতে পেরে
রেগে গেলেন এবং নানা ধরণের কীর্তি-কলাপের মাধ্যমে তার অস্তিত্ত্ব প্রমাণের চেষ্টা
শুরু করে দিলেন।
নাস্তিক এবার ভেবে নিলো এ-ব্যক্তি হয় পাগল নয়তো জাদুকর।
ঈশ্বর এবারও তার মনের
কথা পড়ে ফেললেন এবং নাস্তিককে তার সৃষ্টির
আরও প্রমাণ দেখাতে ব্যস্ত হলেন।
নাস্তিকের মনে সন্দেহ
দেখা দিতে লাগলো ব্যক্তিটি সম্পর্কে এবং সেও ব্যস্ত হয়ে পড়লো সামনে দণ্ডায়মান
ব্যক্তিটিকে কিছু প্রশ্ন করতে।
ঈশ্বরের মুখে এবার মুচকি
হাসি, মনে-মনে বললেন যাক বিশ্বাস তবে
জন্ম লাভ করতে শুরু করেছে।
কষ্ট করে নাস্তিককে আর
তার ইচ্ছের কথা বলতে হলো না।
এরপর ঈশ্বর তার চোখের
পুরু চশমা খুলে জামার কোণা দিয়ে মুছতে-মুছতে বললেন, বলো তোমার প্রশ্নগুলি, আমি ঈশ্বর এবং সর্বময়
ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী।
তাই তোমার প্রশ্নের
উত্তর দেয়া আমার জন্য যে-কঠিন কিছু না,
তা বুঝতেই পারছো।
কারণ আমিই তোমাকে সৃষ্টি
করেছি।
নাস্তিক
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো এ-ভেবে যে, এ-ব্যক্তি
যেই হোক না কেনো, দু-দণ্ড
অন্ততঃ
বসে কিছু আলাপ চালাচালি করা যাবে।
নাস্তিক
ঈশ্বর নামক ব্যক্তির কাছে তার প্রশ্নগুলো একে-একে উপস্থাপন করতে শুরু করলো।
তার প্রথম প্রশ্ন,
'আপনার দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ
জীব বলে আপনি মানুষকে তৈরী করেছেন, তবে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব
কোনটি তাতো বলেননি।'
ঈশ্বর একটু ভাবলেন এবং
বললেন, সকল সৃষ্টির একমাত্র অধিকারীতো
আমি নিজেই।
তাই তোমাদের ভাষাতেই বলতে হয়
দইওয়ালা কি নিজের দৈকে কখনও টক বলে?'
নাস্তিক এবার তার পরের
প্রশ্ন উপস্থাপন করলো।
আপনার সৃষ্ট
সর্বত্তম জীবই একমাত্র জীবিত অবস্থায় একজন অন্যজনের সাথে রক্তের হোলি খেলে, যা আপনার অন্য কোন সৃষ্ট
জীবই করে না।
ঈশ্বর
দ্বিধান্নিত
স্বরে বললেন, 'আমি তোমাদের বিবেক
নামক এক বিশেষ ক্ষমতা দান করেছি।'
উত্তর শুনে নাস্তিক বললো, শুধু বিবেক দিয়েইতো আপনি
ছেড়ে দিলেন, আমাদেরকে এ-বিবেকের সঠিক
কার্যকারিতার একটা ওরিয়েন্টেশনতো দিতে পারতেন।'
'আসলে আমরা মানুষরা বিবেক
হাতড়েও বিবেকবান হতে পারি না এবং বুঝতে পারি না কোন ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করবো',
বললো নাস্তিক।
ঈশ্বর এবার রেগে গেলেন
এবং বলে উঠলেন
'হে মানব সন্তান, তুমি কি বুঝতে সক্ষম হইতেছ না যে, তোমার সামনে কে
দণ্ডায়মান রহিয়াছেন?'
নাস্তিক
এবার ক্রুদ্ধস্বরে বলে উঠলো,
'হে দন্ডায়মান ঈশ্বর, আমি
আপনার পুরো অবয়ব দেখতে পাচ্ছি এবং এও দেখতে পাচ্ছি আপনার অবয়ব একজন মানুষের মতোই।
আর হয়তো শুধুমাত্র
এ-কারণেই আপনি মানুষকেই শ্রেষ্ঠ জীব বানিয়েছন।
তবে যদিও আমার এ-কথাটিতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।'
ঈশ্বর নাস্তিকের সন্দেহ
সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলেন।
নাস্তিক জানালো,
'আসলে আমরা মানুষরাতো
শুধু আমাদের ভাষাই বুঝি এবং অন্য প্রাণীরা
কী ভাষায় কথা বলে তা আমরা জানি না।
এক্ষেত্রে জানার সুযোগও
নেই।
তাই, নিজেরা সার্টিফিকেট তৈরী
করে তাতে নিজেদের নামটি বসিয়ে নিয়েছি।
আর তাই আপনার
অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য আপনি সবচেয়ে
বিশ্বাসযোগ্য প্রাণীর চেহারা ধার করে উদয় হয়েছেন।
নাস্তিক তার সহজাত
হাসিটি হাসতে-হাসতে বলতে শুরু করলো,
'হে ঈশ্বর আমি আপনার দু-পা, দু-হাত, চোখ, কান সবই দেখতে পাচ্ছি।
হয়তো বিবেক জিনিসটিও
আপনি শরীরের ভেতরের সিন্দুকে পুরে এসেছেন।
কিন্তু চোখ থেকেও আপনি
দেখতে পান না, কান থাকতেও আপনি শুনতে পান না
এবং নাক থাকতেও আপনি গন্ধ অনুভব করেন না।
নাস্তিকের এমত কথায় ঈশ্বর ক্ষিপ্ত হলেন এবং আগের মতোই নানা কীর্তির আশ্রয় নিয়ে তার
অস্তিত্ব প্রমাণে ব্যস্ত হলেন।
নাস্তিক সব কিছু দেখে
একপর্যায়ে বলে উঠলো,
'আমি আপনার কাছে এ-ধরণের চাক্ষুস
প্রমাণ চাইনি হে ঈশ্বর।'
হঠাৎই
যেনো ঈশ্বর একটু
অবাক হলেন এবং জানতে চাইলেন কিভাবে তিনি তার
অস্তিত্বকে প্রমাণ করবেন।
নাস্তিক ঈশ্বরের দিকে
সেই মৃদু হাসিটি হেসে বললো, আপনার চোখ আছে অথচ আপনি-যে দেখতে পান না, কান থাকতেও-যে আপনি শুনতে পান
না, তা আমি কিছুক্ষণের মধ্যে প্রমাণ করে দিচ্ছি।'
সে বলে চলে, 'এ-যে আপনার দুনিয়ায় কতো
মানুষ না খেতে পেরে অভুক্ত অবস্থায় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কেঁদে বুক ভাষায়, অথচ আপনি তা দেখতে পান
না।
প্রতি রাতে রাস্তার ওপর কতো
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ
জীবেরা একটি ছাদের অভাবে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা
পার করে কি নিদারুন অমানবিকতায়, অথচ আপনি তা দেখতে পান
না।
প্রতি রাতে কতো মেয়ে হাত বদল
হয়ে বেঁচে থাকে, অথচ আপনি তাদেরও দেখতে পান না।
ক্ষমতাবান আদম সন্তানদের
তৈরী যন্ত্রদানব তার সমস্ত দানবিকতা নিয়ে যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে আপনার শ্রেষ্ঠ-সৃষ্টির
ওপর, তাতে আসমান ও জমিন কেঁদে উঠলেও, এর বাইরের আপনি
কাঁদেন না।
কারণ আপনি তা দেখতে বা
শুনতে পান না।'
নাস্তিক
বলে, 'ফুলের মতো শিশুগুলো যখন বোমার
আঘাতে মরে যায়,
তখনও আপনি তা দেখতে পান না।
আপনার সৃষ্ট পৃথিবীকে
আপনি নিজেই উন্নত, অনুন্নত বা উন্নয়নশীল বলে ভাগ
করার প্রয়োজন মনে করেননি, অথচ আপনার সৃষ্ট মানব
সন্তানরা নিজেদের মধ্যে সুবিধা অনুযায়ী তা করে নিয়েছে।
অথচ আপনি দেখতে পান না।
শুধু-যে দেখতে বা শুনতে
পান না, তাই নয়, পাশাপাশি আপনি আপনার বিবেক নামক
বস্তুটি সিন্দুকে পুরে নিশ্চিন্তে বসে থাকেন আর আপনার সৈন্য-সামন্তবৃন্দ নাকি
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে চলে মানুষের পাপ-পূণ্যের যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ।'
ঈশ্বর
এবার মৃদু হেসে বললেন,
'আমি সবকিছুর ঠিক-ঠিক
হিসেব সংরক্ষণ করছি এবং যথাসময়ে আমার একনিষ্ঠ কর্মীবৃন্দ আমার কাছে রিপোর্ট পেশ
করবে।
তারপর হুইসেল বাজিয়ে সবাইকে
একত্রিত করে বিচার কার্য সম্পাদন করা হবে।
বিচারের রায়েই
আমি যার যেখানে থাকা প্রয়োজন তাকে সেখানে প্রেরণ করবো।'
ঈশ্বরের কথা শুনে
প্রচণ্ড জোরে হেসে ওঠে নাস্তিক।
তার এ-হাসির ঔদ্ধত্যে
রেগে যান ঈশ্বর।
নাস্তিক বলে,
'আপনার এক বান্দার কথা
মনে করিয়ে দিই, যিনি এসব শোষিত ও নির্যাতিত মানুষদের প্রতিনিধি এবং যিনি বুঝে
গিয়েছিলেন
'টুমরো
ইজ টু লেইট' আগামী
অনেক দূরে।
তিনি চে গুয়াভারা।
সত্যি, হে ঈশ্বর, আগামী অনেকই
দূরে ও ধোঁয়াশা।
আমাদের প্রাণের সাধক লালন
শাঁই-ও তাই মানতেন।'
নাস্তিকের সাথে কথা বলতে-বলতে ঈশ্বর একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
ভয়ার্ত দৃষ্টিতে দেখতে
থাকেন তাঁর এ-সৃষ্টিকে।
তিনি হিসেব মেলাতে থাকেন।
মানব সন্তানদের তিনি
দুনিয়ায় নির্দিষ্ট কয়েকটা কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন।
মুলতঃ মানুষদের তিনি
পাঠিয়েছিলেন তার গুনগান করার জন্য এবং একই সাথে যার বিনিময়ে তিনি তাদের দিয়েছিলেন
অপরিসীম লোভ।
তিনি তার ল্যাপটপ খুলে
স্ট্র্যাটেজী প্ল্যান
বের করলেন এবং তা খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করলেন।
হ্যাঁ, সবই ঠিক আছে, আমার গুনগান গাও, আমি তোমাদের
স্বর্গে ফলমূল-কোর্মা-পোলাও খাওয়াবো, নদীর পাড়ে দোলনায় দোল
খাওয়াবো, তোমাদের বিনোদনের জন্য নারী
নামক জীবদের বিনোদনদাত্রী হিসেবে পাঠাবো, ইত্যাদি।
তবে, সমস্যাটা কোন জায়গায় হলো?
এবার
নাস্তিক, একগাল হেসে উদভ্রান্ত ঈশ্বরের
কাছে এসে বললো,
'আসলে ঈশ্বর আপনার
স্ট্রাটেজী
ঠিকই আছে, আপনার
এাকশান
প্ল্যানও
ঠিক আছে।
কিন্তু সমস্যাটা বেধেছে অন্য
জায়গায়।
ঈশ্বর হতবিহবল হয়ে জানতে চাইলেন
সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায় হয়েছে যা তিনি ধরতে পারছেন না? নাস্তিক শুধু মুচকি হেসে
জানালো আপনার সব স্ট্রাটেজি, সব
প্ল্যান
আপনার সৃষ্ট উৎকৃষ্টমানের মানব সন্তানরা চুরি করে তাদের কাজে লাগিয়ে চলেছে।
শুধু তাই নয়, তারা আপনার বহুবিধ
মিথ্যা প্রসংশাসূচক আলোচনা করে-করে আপনার মনকে, চোখকে, কানকে ভরিয়ে তুলেছে।
তাই আপনি আর কিছুই শুনতে
পারেন না, দেখতে পারেন না বা অনুভব করতে
পারেন না।'
ভয়ার্ত ঈশ্বর এবার নাস্তিকের
কাছে জানতে চান, এখন তবে
কী করণীয়।
নাস্তিক বলে, আপনি যদি ঈশ্বরই হন তবে
এবার সিংহাসন ছেড়ে,
স্বর্গের মায়া-আরাম ত্যাগ করে
ধরণীতে আসুন কিছুদিনের জন্য এবং নিজের সৃষ্ট উৎকৃষ্টমানের মানব ও আপনার
প্রসংশাকারীদের ধ্বংসলীলা নিজের চোখে দেখুন, শুনুন,
অনুভব করুন।
ঈশ্বর
তাই করলেন।
এতোদিনের আরাম আয়েশ ছেড়ে ক'দিনের
জন্য পৃথিবীতে এলেন।
প্রচণ্ড ঘোরাঘুরিতে তিনি
ক্লান্তই হয়ে পড়লেন।
তবে প্রতি মুহুর্তে তার
যে-অভিজ্ঞতাগুলো সঞ্চিত হতে থাকলো, তাতে তিনি ভীষণ লজ্জা পেতে শুরু করলেন।
তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত
দেশগুলোতে গেলেন এবং প্রথম অবস্থায় শিশুদের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে জানতে
চাইলেন কীভাবে তিনি তাদের সমস্যার সমাধান করবেন।
অর্থাৎ
তারা কী চায়।
শিশুরা নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে
দেখে ঈশ্বরকে।
বলে, কতোতো ডেকেছি তোমাকে,
আর কেনো।
আর ডাকতে চাই না।
আমাদের কারো হাত নেই, কারো পা নেই, কারো শরীর পুরোটাই ঝলসে
একাকার।
আমরা দুনিয়ায় না তোমার সৃষ্ট
নরকে সেটাই তো বুঝতে পারি না।
আমরা যে বেঁচে আছি তাও
বুঝতে পারি না।
তাই হে ঈশ্বর, আপনার কাছে আমাদের কিছুই
চাওয়ার নেই।
আগামীর জন্য আমরা আর বাঁচি না।
কারণ আগামী বলে কিছু নেই।
শিশুদের এ-ধরণের কথায়
লজ্জিতমুখে বেরিয়ে
এলেন ঈশ্বর।
ঈশ্বর
এবার কিছু বে-আব্রু
রাতের নারীদের কাছে যান ক্ষিপ্ত হয়ে।
তার পরিচয় দিয়ে বলেন,
'আমি তোমাদেরকে আব্রুর
মধ্যে থাকার
নির্দেশ
দিয়েছিলাম।
তোমরা তা অমান্য করেছ।
তোমাদের জন্য নরক বরাদ্দ
থাকলো।'
রাতের নারীরা হেসে বলে,
'হে ঈশ্বর তুমি শুধু
আমাদেরই আব্রুর মধ্যে থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলে কিন্তু তোমার সৃষ্ট পুরুষদের বিষয়ে
তোমার উদারতার ফল আমরা বহন করছি।
আর, ঐ যে তুমি বললে আমাদেরকে
তুমি শাস্তি-স্বরূপ নরকে ঠাঁই দেবে, ঈশ্বর তুমি কি দেখেছ
আমরা কেউ একটা মুহূর্ত
স্বর্গীয় সুখে আছি? আমরা প্রতি মুহুর্ত নরক
যন্ত্রণায় কাঁদি।
সে-দিনটিতেও কেঁদেছিলাম যেদিন
প্রথম নর-পশুরা
আমাদের শরীরটাকে ছিঁড়েকুঁড়ে খেয়েছিলো।
তারা আমাদের মনটার খবর
রাখেনি, তারা শুধু নিজেদের মতো করে
স্বর্গীয় সুখ গ্রহণ করেছিলো।
আমাদের সে-আহাজারি
তোমার কানে পৌঁছেনি সেদিন, আজও পৌঁছায় না।
আমাদের রক্ষা করতেও আসনি
তুমি।'
এরপর
ঈশ্বর পাড়ি জমালেন দুনিয়ার অঘোষিত রাজার রাজ্যে।
তিনি এই জায়গায় পৌঁছে
খুবই অবাক হলেন এবং সম্ভবতঃ
ভয়ও পেলেন।
কারণ জায়গাটা
স্বর্গের ডেকোরেশনকেও হার মানায়।
স্বর্গের
সুবিধাদির চেয়ে এখানে পানীয়
জল, খাবার, বিনোদন,
নারী সবকিছুর সুবিধা অনেক বেশি।
তিনি ঘাবড়ে গেলেন এবং অঘোষিত
রাজার সাথে কোনো ধরণের আলোচনায় না গিয়েই ফিরে এলেন।
ঠিক সেই মুহুর্তে তার
নাস্তিকের কথা মনে পড়ে
গেলো এবং তিনি বুঝতে পারলেন নাস্তিক ঠিক কথাই বলেছিলো।
তাঁর
স্ট্রাটেজি ও ওয়ার্ক
প্ল্যান
তাঁর সৃষ্ট উৎকৃষ্ট মানের মানব সন্তানেরা চুরি করে নিয়েছে এবং ঈশ্বর হিসেবে তাঁর
বিশেষ কোনো প্রাধান্য
এদের কাছে নেই।
অবশেষে
ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, লজ্জিত ঈশ্বর নাস্তিকের
কাছে এসে সবিস্তারে তার অভিজ্ঞতার বিশদ বর্ণনা করে ভীষণ লজ্জা নিয়ে ফিরে গেলেন তার
আস্তানায়।
নাস্তিকের আর কিছুই বলার ছিলো না
মহান লজ্জিত ও হতবিহবল ঈশ্বরকে।
তাই আবারও হাসতে-হাসতে
নাস্তিক লালনকে গলায় বেঁধে সব ভাবনা চিন্তাকে পেছনে ফেলে চলতি পথে গেয়ে ওঠে
'আছেন
কোথায় স্বর্গপুরে, কেউ নাহি সন্ধান জানে'। আসমানের
ঈশ্বর আসমানেই থাকেন, ধরণীর মানব সন্তানদের
আহাজারির অনেক বাইরে তার বাস।
আপলৌডঃ
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ |