|
কবিতা
ঢেউয়ের সাকিন
হারিসুল হক
ক
চর
কী কালের সাক্ষী নীল অই
মেঘনাজলে
নিয়েছে
স্মৃতিকে
টেনে তার বুকে অতল গহনে?
ভেসেছে
বর্ণমালা
মতিহারা মায়ের মতো
সকরুণ
আবেগ উচ্ছ্বাসে? চর কী
কালের সাক্ষী
গাঙে
ভাসা আর্ত বয়া?
আমার
স্বপ্ন মাঝে
কাতর একটি চর নোয়া
আধিচ্ছন্ন ঘুম ছেড়ে
হঠাৎ কখনো
জেগে উঠি
আমি, জেগে
ওঠে ঘোড়া
আশ্চর্য
নীলিমাতলে।
অসহ শরীর ভেজে
অতীন্দ্রিয় ঘামের
প্লাবনে।
মানুষ কি
দেখতে পায়
বর্ণোচোরা ঘাসের আবাদ
নাকি
দেখে চোরা ঢেউ
চরের মাটিতে তুমুল আছড়ায়
-যেভাবে
আকাঙ্খার
মাছ শোণিতে লোটায়
মানুষ কী
ভাঙতে পারে
মেঘ আর বৃষ্টির দুঃসহ
সীমা
মানুষ কি
ছিঁড়তে পারে
নূড়ি ও নদীর প্রেমবন্ধন?
মানুষ কি
পায় খুঁজে
শান্তনার আরধ্য চাবি
আর কোনোদিন
ভেসে যায়
হাঁস বয়ে
যায় পানা
গোত্রহীন
সাগরের
অবুঝ টানে
খ
মাছেরা
নদীতে মাতে
অধীর রাতে
নিঃশব্দ
মৈথুনে।
নদীতে
মানুষ নামে
সাথে নিয়ে অতীত ও
আঘ্রাত
যৌবন।
মানুষ সাঁতরাতে থাকে
আলো ছেড়ে
অন্ধ আঁধারে।
যে
আঁধারে স্বপ্ন জমে
স্তুপাকার-
নির্বাক
চরের মতো-
অনেকটা উঁইটিবি
ব্যথাপ্রজ
লুকোনো
চেতনা প্রবাহে
চৈতন্যে
বৃষ্টি ঝরে রাতের রাতভর
চৈতন্যে
ধুলি জমে নিঃসাড় ক্লন্তিহীন
দুরপথ
ছেয়ে
শরাহত
চিল ওড়ে
দুঃস্থ চরে,
উদভ্রান্ত আকাশে
যে আকাশে
সত্য লীন
সময়ের করাল গ্রাসে
গ
জলেরা
অদ্ভুত নাচে।
নাচেরও আছে কিছু
সনাতন
ধারা।
জলের
অদ্ভূত
নাচে
জলেরও
আছে কিছু
সামাজিক সীমা।
জলেরা
জলকে
চলে-তাদেরও আছে বুঝি
উষ্ণ
উপবন মৌলিক দহন
জলেরা
জলাঙ্গি হয়
স্বাদু জল ঢেউয়ের সাকিন
আমার
দৃষ্টি চষে চর
ছেড়ে জলের যৌবন
বাতাসে
দোদুল নাও।
দুলে ওঠা তীব্র পালে
অতনু
মনের মাছি ঝাঁক
বেঁধে মেঘনার চরে।
আপলৌডঃ
২২
জুন ২০০৯ |