|
জাস্ট এক ইঞ্চি
নিচ
দিয়ে!
আমেরিকান, রাশান ও
এক বঙ্গ-সন্তান। তিন সহযাত্রী
তারা। এক আষাঢ় মাসে ট্র্যানজিটে লন্ডন হিথরৌ এয়ারপৌর্টে বসে গল্প করছেন
- আষাঢ়ে গল্প।
আমেরিকানঃ জানেন, আমাদের দেশে
এখন যে-সুপারসৌনিক বিমান হয়েছে, তা এটমৌসফেয়ারের (বায়ুমন্ডলের) উপর দিয়ে চলে।
রাশানঃ এটমোস্ফেয়ারের উপর দিয়ে
মানে? গ্রেইভিটেশন ফৌর্স (মধ্যাকর্ষণ শক্তি) ভেদ করে? বলেন কী! তার জন্য তো রকেট
টেকনোলজী দরকার।
আপনি কি শিওর, এটমৌসফেয়ারের উপর
দিয়ে এই বিমান চলে?
আমেরিকানঃ সরি!
ঠিক এটমৌসফেয়ারের উপর
দিয়ে নয়। তার, একটু নিচ
দিয়ে। জাস্ট এক ইঞ্চি
নিচ দিয়ে।
রাশানঃ ও!
তাই বলুন।
আমেরিকানঃ রাশিয়াতে এ-রকম কিছু
আছে কি?
রাশানঃ থাকতেই হবে।
আমদের হলো সাবমেরিন।
গত দুর্ঘটনার পর থেকে
আমাদের সবামেরিন টেকনোলজীতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
আমাদের লেইটেস্ট
সাবমেরিন চলছে সী-বটমের (সাগর তলের) নিচ দিয়ে।
আমেরিকানঃ বলেন কী! সী-বটম মানে
হচ্ছে হার্ড সারফেইস অফ আর্থ (কঠিন ভূপৃষ্ঠ)।
সাবমেরিন তার নিচ দিয়ে
চলবে কীভাবে? আপনি কি শিওর, সী-বটমের নিচ দিয়ে সাবমেরিন চলে?
রাশানঃ সরি! সী-বটমের ঠিক নিচ
দিয়ে নয়। তার এক ইঞ্চি
উপর দিয়ে - জাস্ট এক
ইঞ্চি উপর দিয়ে চলে সাবমেরিনগুলো।
আমেরিকানঃ ও! তাই বলুন।
বঙ্গ-সন্তানটি যাত্রী চুপ করে
শুনছিলো। তার
কিছু বলার ছিলো না।
কারণ, বাংলাদেশে এতো হাই
টেকনোলজী নেই, যার কথা বলে আমেরিকান ও রাশানদের মধ্যে স্থান পাওয়া যাবে।
সহযাত্রীকে নীরব দেখে আমেরিকান
ও রাশান যাত্রী জিজ্ঞেস করলো, 'বাংলাদেশে কি আমাদের মতো এরকম অভিনব কিছু আছে?'
বাঙালীঃ নিশ্চয় আছে।
আমেরিকান ও রাশানঃ (ভীষণ অবাক
হয়ে) কী?
কী আছে?
বলুন তো!
বাঙালীঃ আমাদের দেশের মানুষ ভাত
খায় নাক দিয়ে।
আমেরিকান ও রাশান আরও অবাক হয়ে
পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে প্রায় একত্রে জিজ্ঞেস করলো, 'বলছেন কী মশায়!
নাক দিয়ে ভাত খায়?' কি
করে সম্ভব? আপনি কি শিওর যে, ঠিক নাক দিয়েই খায়? নিজ হাতে?'
বাঙালীঃ অবশ্যই নিজ হাতে।
তবে এক ইঞ্চি নিচ দিয়ে -
নাকের জাস্ট এক ইঞ্চি নিচ দিয়ে।
এবার আমেরিকান ও রাশান যাত্রী
নিজ-নিজ নাকের নিচে আন্দাজ করে এক ইঞ্চি মেপে দেখলো সেখানে রয়েছে মুখ।
এবার সকলেই মুখ হা করে
হা-হা-হা করে হেসে উঠলো।
ইউকেবেঙ্গলির
অফিসে
শনিবারের আড্ডা থেকে সংগৃহীত
আপলৌডঃ ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ |