|
ফীচার
দোররা মারা বন্ধ হবে কবে?
জোবাইদা
নাসরীন
নারীর
প্রতি সহিংসতা কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ,
সরকারী,
বেসরকারী
প্রচার-মাধ্যমের নানা তৎপরতা,
২০০১ সালের ২ জানুয়ারী হাইকৌর্টের রায় অনুযায়ী ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা,
সর্বশেষ যৌন হয়রানী
নিরোধ বিষয়ে হাইকার্টের যুগান্তকারী রায়,
কোনোটিই থামাতে পারছেনা
বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসার ধরণ এবং গতিকে।
এদেশে ফতোয়াকে আইনগতভাবে
নিষিদ্ধ করা হলেও এ-রায়কে অগ্রাহ্য করে,
বিভিন্ন জায়গায়
সমাজপতিরা নারীর বিরুদ্ধে,
অপরাধীর পক্ষে অবস্থান
নিচ্ছেন,
নারীকে দোররা মারার রায় দিচ্ছেন
এবং সেটি প্রয়োগও হচ্ছে অগোচরে নয়, সকলের চোখের সামনে।
আবারও
দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারীকে দোররা মারার ঘটনা ঘটছে।
এর মধ্য দিয়ে নারী দফা
নির্যাতনের শিকার n‡”Qb।
কোনো-কোন নারীকে গ্রাম
থেকে বিতাড়িত হতে হচ্ছে। কোনো-কোনো ক্ষেত্রে নারীর পুরো পরিবারই সমাজপতিদের হুমকির
মুখে পড়ছে ।
দশ দিনের ব্যবধানে দেশের দুটি
এলাকায় দোররা মারার ঘটনা জানা যায়।
কুমিল্লার দাউদকান্দির
পর এবারের ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল মেহমানkvnx
গ্রামে।
সে-গ্রামের একজন নারী
ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রায় দু-মাস আগে।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবর
থেকে জানা যায় ধর্ষণের সময়ই অভিযুক্ত ধরা পড়েন গ্রামবাসীর কাছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়
Gখানে
গুরুত্ব¡c~Y©|
তিনি বাইরের লোক নন।
সে-গ্রামেরই প্রভাবশালী
মাতব্বর।
তাই, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন।
মেয়েটি অনেক চেষ্টা করেও
বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত
wmivজগঞ্জের হাকিম
আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা
১৮ মে আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ধর্ষণের শিকার নারী
বিচার চেয়েছেন দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী।
কিন্তু
এতোকিছুর মধ্যেও ধর্ষককে নির্দোষ হিসেবে প্রমাণ করতে তার পক্ষ নিয়ে সমাজপতিরা
ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
অবস্থান নেয়াতেই শেষ হয়ে
যায়নি তাদের নড়াচড়া।
তারা সামাজিকভাবে এটির
দফারফা করতে †P‡q‡Qন,
যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো
মেয়েটিকে শাস্তি দেয়া।
মেয়েটিকে হুমকি দেয়া
হয়েছে মামলা cÖZ¨vnv‡ii।
শালিসে একতরফাভাবে অপরাধী করা হয়েছে মেয়েটিকে।
শালিসের রায় মেয়েটির
বিপক্ষে যায়।
এতেই ক্ষান্ত থাকেনি সমাজের
পুরুষতান্ত্রিক
দাপট।
সেই রায়কে কার্যকর করা
হয়েছে।
মেয়েটিকে শতাধিক বেত্রাঘাত করা
হয়েছে এবং দশ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার হবার পরও
মেয়েটির দ্বিতীয় অপরাধ হলো, সে সমাজপতিদের কথা অমান্য করে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মামলা
করেছে।
এ-দোররা মারাতেই শেষ হয়ে যায়নি
সমাজপতিদের ক্ষমতার দৌরাত্ম্য।
তারা ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে
মেয়েটির দ্বিতীয় অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলেছে, এ-মামলা প্রত্যাহার করা না হলে
সাতদিনের মধ্যে তাকে গ্রাম ছাড়া করা হবে।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
৮ জুন ২০০৯ -এ প্রকাশিত রিপৌর্ট)।
এ-রিপৌর্ট থেকে আরও জানা
যায়, শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
kতো-kতো
মানুষের সামনে ধর্ষণের
শিকার মেয়েটির ভাই ছদরুলকে দিয়ে একশো বার বেত্রাঘাত করা করা হয এবং মেয়েটি
†m-mgq
কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
বর্তমানে মেয়ে রায়গঞ্জ
উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ২২ মে
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের একজন নারীতে দোররা মারার ঘটনা ঘটে।
সন্তানের
wcতৃZ¡
স্বীকার করার জন্যে এক
ব্যক্তিকে চাপ দিলে সমাজপতিরা ঢাকা থেকে মাওলানা ডেকে এনে রাতে মেয়েটিকে ৩৯টি দোররা
মারে।
মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন,
তিনি এর বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করলে সমাজপতিরা তাকেও দোররা মারেন।
পরবর্তীতে
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ব্যবস্থায় মেয়েটিকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করা হয় এবং অভিযুক্ত
পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বার-বার
দোররা মারার ঘটনা আমাদের বেশ কিছু নতুন প্রশ্নের সামনে হাজির করে।
দেশে সামগ্রিকভাবে নারী
প্রতিনিধিত্বশীলতার এক ধরণের চেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই।
কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘটনা
ঘটার পরে ব্যবস্থা নেয়াটাই হচ্ছে বাস্তবতা - বিশেষতঃ অপরাধীকে শাস্তি দেবার
ক্ষেত্রে।
ধরেই নেয়া হয়, অপরাধীর শাস্তি
হলেই সমস্ত wn‡me-wb‡Kk
শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু এ-ধরণের ঘটনার
মধ্য দিয়ে bvixকে
শারীরিক,
মানসিক ও সামাজিক যে-নিপীড়নের
শিকার হয়, সে-ক্ষতি ঘোচানো সম্ভব নয়
।
তাই এ-ধরনের ঘটনা যেনো না ঘটে,
তা নিশ্চিত করা না গেলে ঘটনা ঘটে যাবার শেষে ব্যবস্থা নিয়ে তেমন কোন লাভ হবে না।
এবারের
জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বেশি নারী প্রতিনিধি
i‡q‡Qb
- যার সংখ্যা ৬৫।
এ-সংখ্যা
Avgv‡`iকে
একটা স্বপ্ন দেখায়|
স্বপ্ন দেখায়
wbh©vZb-wenxb bvix-gy‡Li|
কিন্তু এ-সম্ভাবনার cvkv-পাwk
বাংলাদেশের বিভিন্ন
এলাকায় ঘটমান দোররার চিত্রকে কিছুতেই মিলানো যায় না - গ্রহণ করা যায় না।
প্রশ্ন আসে,
তাহলে আমরা কীভাবে
মুক্তি পাবো এ-দোররার অভিশাপ থেকে।
kyধুgvÎ
ঘটনা ঘটার পর
অভিযুক্তদের গ্রেফতারই কী এ-বিষয়ে একমাত্র সমাধান?
ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করার পরও কীভাবে এ-ধরণের
দোররা মারার ঘটনা ঘটে? এ-wel‡q
ভাবা খুবই জরুরী।
এখানে অপরাধের ধরণ দু-টি।
প্রথমতঃ নারীর প্রতি
wbh©vZb;
দ্বিতীয়তঃ হাইকৌর্টের রায়ের প্রতি অবমাননা।
কিছু
প্রশ্ন থাকে, প্রশাসনের প্রতিও।
দোররা মারার মতো ঘটনা
ঘটে যাবার আগে কী কখনও কিছু জানতে পারে না স্থানীয় প্রশাসন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই
দেখা যায়, ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন সেটি জানতে পারেন - কীভাবে সম্ভব? ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা নির্বাচিত সদস্যরা তাহলে কী এলাকায় থাকেন না? তারাও
কীভাবে এমন একটি বিষয় না জেনে থাকেন?
G-mKj
বিষয়ে তাদের জবাবদিহিতা
বাধ্যতামূলক করে দেয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে এ-ধরণের ঘটনার
ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা সকলের জানা প্রয়োজন।
দোররা
মারা বন্ধ হবে কবে এ-প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা
†bB।
তবে আমরা এতোটুকু বুঝি,
এ-বিষয়ে সকলের মিলিত প্রতিরোধের প্রয়োজন।
লেখকঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
আপলৌডঃ ২২
জুন ২০০৯ |