|
ফিচার
ওরা কারা ছিল মিডিয়া
ম্যানেইজমেন্টে?
সাঈফ ইবনে
রফিক
গুলির
আওয়াজে রুদ্ধ-শ্বাসেই দুপুর গড়িয়ে গেলো।
নাটকীয়তা শুরু হলো
জোরে-শোরে।
নানা দিক থেকে ফৌন আসতে শুরু
করেছে।
বন্ধু-বান্ধবের কান্নাও।
পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ
ততোক্ষণে হয়ে গেছে; চলছে লুটপাট আর চুরি-ডাকাতি।
এ-ব্যস্ততার ফাঁকে
পালিয়ে গেলো খুনীরা।
রাইফেলস স্কোয়ার থেকে
যমূনা, ছুটছে সেনাবাহিনী, ছুটছে মিডিয়াও।
পাল্টা মিডিয়া, তাই
সামহোয়্যার ইন ব্লগে ঢুকলাম।
সব সামরিক বিশ্লেষণ চলছে।
ইমেইল বক্সও ভরে উঠছে
সেনা কর্মকর্তাদের ই-মেইলে।
হরেক রকম তথ্য।
প্রৌপাগান্ডাই হবে।
হরেক প্রশ্নও উঠছে।
দেশে ক্যূ বা মিউটিনীর
ইতিহাসে এবার নতুন সংযোজন, পরিপাটি প্রৌপাগান্ডা।
মিডিয়া হ্যান্ডেলিংয়ে
সেনাবাহিনী কাঁচা, এ-বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে বলতেই হবে, এবার
নিশ্চিতভাবেই চমক দেখিয়েছে প্রতি-মিডিয়া।
মিডিয়ার আড়ালেই মানুষের
কানে পৌঁছে গেছে, সেনা সদরে প্রধান-মন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিলো জেনারেলদের।
কে ছড়ালো
অডিও ক্লিপ আর কীভাবেই বা ২৫শে ফেব্রুয়ারী সকালে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেইজ পৌঁছে
গেলো টিভি স্টেইশন- তা নিয়ে তদন্ত হওয়া সুযোগ নেই।
সময় বাড়ানো ছাড়া কোনো
কাজ থাকবে না তদন্ত কমিটীর।
মোদ্দা কথা, মিডিয়া
হ্যান্ডেলিংয়ে এবার বেশ সাফল্য দেখিয়েছে ওরা।
দারুণ মিডিয়া
ম্যানেইজমেন্ট!
মিডিয়ার
ওপর কড়া নজরদারী চলছিলো, তাই বিকল্প মিডিয়ার দারস্থ হয়েছে ওরা।
ওরা কারা? ওদের শনাক্ত
করা যায়নি।
তবে যে-মিডিয়া ট্রেন্ড শনাক্ত
করা গেছে, তার ওপর নজরদারী বাড়াতে নিশ্চয়ই রাষ্ট্রযন্ত্র উঠে পড়ে লাগবে।
এটাই স্বাভাবিক।
ইউটিউব বা ইস্নিপসের মতো
সাইট বন্ধ করেও তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি এবার।
জন-জীবন থেকে শুরু করে
ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ লেন-দেন বা মন দেয়া-নেয়া, সবই যখন
ই-মেইলে চলছে, তা লক করে দেওয়াটা রাষ্ট্রের জন্য হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। ই-মেইল
বন্ধ করাতো রীতিমতো তালেবানী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
আর এ-সুযোগে ই-মেইলেই
চললো তথ্য আদান প্রদান।
নানা চিন্তা।
নানা হিসেব-নিকেশ।
ব্রেইন-ওয়াশ থেকে শুরু
করে নানা গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ।
মিডিয়া
রণ-ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে।
এ-যুদ্ধে সাধারণ
ইরাকীদের বন্ধু বলে সম্বোধন
করে বেতার-বার্তা ছড়িয়েছিলো
যুক্তরাষ্ট্র।
গাজায়ও তাই হয়েছে।
গাজাবাসীকে মিডিয়ার
মাধ্যমেই বলা হয়েছিলো, 'আমরা তোমাদের শত্রু হামাসকে নির্মূল করতে এসেছি।'
সাঈফ ইবনে
রফিক, কবি ও সাংবাদিক
আপলৌডঃ ১
মে ২০০৯ |