London:

Home

About us

Contact

Archive

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুরে দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

ফীচার

ছাত্র লীগের হাত ধরে বাংলাদেশে শিক্ষার জাহান্নাম-যাত্রা

চিররঞ্জন সরকার

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছেসবাইকে 'উচিত শিক্ষা' দিয়ে শিক্ষাঙ্গন থেকে শিক্ষা মোটামুটি বিদায় হতে বসেছে২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন হওয়ার পর যে-কায়দায় শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে ছাত্র লীগকে বিতাড়িত করে ছাত্র দল একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলো, ঠিক একই কায়দায় বর্তমানে ছাত্র লীগ ছাত্র দলকে বিতাড়িত করছেদখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-টেণ্ডারবাজিতে এখন ছাত্র লীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী - নাম্বার ওয়ানতাদের দাপটের কাছে ছাত্র দল ও ছাত্র শিবির খুব একটা সুবিধা করতে পারছে নাতাদের গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়েছে রাজশাহী,চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেমোটের ওপ্‌ শিক্ষার বারোটা বাজাতে ছাত্র লীগ বর্তমানে অপরিমেয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেতারা দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, হত্যা ও দখলদারি-সহ নানা রকম বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেতাদের সন্ত্রাস-উৎসবের কারণে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছেবিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যা-পীঠের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ছুটি পেয়েছেন মাত্র দু-মাসে ৩০টিরও বেশি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট-কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছেবেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে ছাত্র লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জের ধরেছাত্র লীগ, ছাত্র শিবির ও ছাত্র দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের কারণেও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন অবসর বিনোদনের ব্যবস্থা করে ছাত্র লীগের সোনার ছেলেরা সত্যিই কৃতজ্ঞ-ভাজন হয়েছেন!

আগের দিনের জমিদাররা লাঠিয়াল বাহিনী পুষতোচর-দখল, জমি-দখল, দখল করা ভূমি রক্ষা, প্রতিপক্ষ দমন, খাজনা আদায় এবং সর্বোপরি জমিদারের স্বার্থ-রক্ষা করাই ছিলো এ-লাঠিয়ালদের কাজজমিদারী আমলে তাই এ-লাঠিয়াল বাহিনীর গুরুত্ব ছিলো অপরিসীমএ-যুগে জমিদারতন্ত্র নেই বটে, তবে অন্য চেহারায় জমিদার বাহাদুররা ঠিকই রয়ে গেছেনতাদের সেই মানসিকতাও এখনও অটুট রয়েছে এ-কালের জমিদার হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরাতারাই দেশ চালানঅন্ততঃ দেশ চালানোর অভিনয় করেন তাদের স্বার্থ-রক্ষার জন্য রয়েছে নানা বাহিনী সরকারি দলের 'জমিদার'দের প্রৌটেকশন দেয়ার জন্য রয়েছে আনসার, পুলিস ও র‌াব-সহ নানা ইউনিফর্ম-ধারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীএর বাইরে আছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনীছাত্র সংগঠনই হচ্ছে এ-কালের জমিদার-রূপী রাজনীতিকদের অঘোষিত লাঠিয়াল বাহিনীদখল, পাল্টা দখল, চাঁদা-বাজি, টেন্ডার-বাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও প্রতিপক্ষ দমন-সহ রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বার্থ-রক্ষায় এ-বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব ঠ্যাঙ্গাড়ে লাঠিয়াল বাহিনীর আবাসস্থলছাত্র-রাজনীতির নামে ছাত্র সংগঠনের মোড়কে এ-লাঠিয়াল বাহিনী মূলতঃ রাজনীতিকদের ইচ্ছার দাস হিসেবে ভূমিকা পালন করে চলেছে বিভিন্ন বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সমর্থনে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্র-রাজনীতির এ-'সোনার ছেলেরা' অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জাহান্নামের পথে নিজেদের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেএগিয়ে যাওয়াটাই অবশ্য বড়ো কথা তা, সে জাহান্নামের পথেই হোক, কিংবা যেখানেই হোক।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ-লাঠিয়াল বাহিনীর দখলে চলে গেছেকলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় এ-লৌকিক বীরদের অবদান দেশের উন্নয়নের অভিযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেআমাদের নির্বাচিত সরকারের তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানেই হচ্ছে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবিরের দখলদারিত্ব, আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণএকে অপরকে দাবড়ে বেড়ানোমাঝে-মধ্যে দলীয় কোন্দলখুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিআমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শাসক-রূপী জমিদারদের হাত ধরে জাতীয় জীবনে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন আর জ্ঞান-তত্ত্ব-গবেষণা এসবে সীমাবদ্ধ নেইজ্ঞানের ব্যাপ্তি বেড়েছে, বিদ্যার সীমান্ত  বিস্তৃত হয়েছেএখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামাতের দলীয় রাজনীতির প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং এ-রাজনীতি প্রসারের জন্য প্রাণপাত করাই হচ্ছে জ্ঞানচাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, হত্যা, হল-দখল, ক্যাম্পাস-দখল, ফাউ-খাওয়া এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কোন্দল, উপদলীয় সংঘাত, প্রতিপক্ষকে মেরে তক্তা বানানো, প্রতিদ্বন্দ্বীকে কবরে পাঠানো, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, জিয়া, খালেদা জিয়া ও নিজামীর নামে মাতম, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টিই 'নলেইজ' বিদ্যা-চর্চায় ও জ্ঞান অনুশীলনে এগুলোই মূল সিলেবাসএ-পাঠ যারা আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে, সমাজে তারাই সফল হয়এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত হয়ে যায়

এখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মানেই হচ্ছে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবিরের দলীয় রাজনীতিএ-রাজনীতি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যুক্তি বা আদর্শ নয়, বরং অর্থ, অস্ত্র আর পেশী-শক্তিই হচ্ছে এ-রাজনীতির চালিকা শক্তিমারো-কাটো-খাওসন্ত্রাস-অস্ত্রবাজি-দখলখুন-মামলা-হামলাছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবির শিক্ষার আঙিনায় এখন আর ছাত্র নেই থাকলেও তাদের কেউ পোছে নানতুন ব্যবস্থায় এখন শক্তিশালী ও দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক অসংখ্য ক্যাডারতারাই দাপিয়ে-লাফিয়ে বেড়ায় তাদের দখলেই ক্যাম্পাস

ছাত্রের অনুষঙ্গ বই আর খাতা-কলমআর এসব ক্যাডারের উপাচার হচ্ছে, অস্ত্র-মাদক-পারভার্সন-দলবাজিলেজ ছাড়া যেমন কুকুর হয় না, পারভারসান ছাড়া ক্যাডারও দেখা যায় নাপশু যেমন যে-কাউকেই প্রতিপক্ষ মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কোনো যুক্তি-বুদ্ধি ও বিবেচনা-বোধ ছাড়াই ক্যাডাররাও প্রতিপক্ষের ওপর একই কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়েমানুষ হওয়ার মন্ত্র তাদের জানা নেই সে-মন্ত্র তাদের শেখানোও হয় নাতারা কেবল ক্যাডার নামক জানোয়ার হওয়ার তন্ত্র ও যন্ত্রে (মোবাইল, পিস্তল, রাইফেল, মোটরসাইকেল ও কার) পারঙ্গম

বর্তমানে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে পাগলা কুকুরের 'আদর্শ' ভর করেছেএ-তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সারাক্ষণ 'কামড়ে দেয়া'র সাধনায় মশগুলমাঝে-মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আদিম হিংস্র প্রবৃত্তিএক দল অপর দলের ওপর ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হলে নিজেরাই নিজেদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেপশু-শক্তির গর্জন আর হুঙ্কারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেঁপে-কেঁপে উঠছেবিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর এখন ছাত্র রাজনীতির আচ্ছাদনে ঢাকা দুর্বৃত্ত এবং পুলিসের পার্টনারশিপে পরিচালিত হচ্ছে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবিরের গুণ্ডারা বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নরককুণ্ড বানিয়ে ফেলছেঅথচ এ-ব্যাপারে কারও কোনো উদ্বেগ নেই, ক্ষোভ নেইঘৃণাও নেইক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলে থাকা বিএনপি-জামাত মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনুগত লাঠিয়ালদের দিয়ে গুণ্ডামীর অভয়াশ্রম বানিয়ে ফেললেও সবাই কী আশ্চর্য রকম নির্বিকারঅনেক 'সাধের' আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেও সরকারী দলের অনুগত ক্যাডার বাহিনী শিক্ষাকে লাটে ওঠানোর চূড়ান্ত আয়োজনে ব্যস্ত অথচ এ-ব্যাপারে শাসক-দলের তেমন কোনো অনুশোচনা নেই। নেই কোন বিকারতারা বসে-বসে যেনো মজা দেখছেন আর মাঝে-মাঝে বায়বীয় হুঙ্কার ছাড়ছেন প্রধান-মন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র লীগকে মৌখিকভাবে 'ত্যাজ্য-পুত্র' করেই খালাস (ছাত্রলীগের সাংগঠনিক উপদেষ্টা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন!)। কিন্তু এ-গুণ্ডাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারে কঠোর কোনো উদ্যোগ বা সংকল্প এখনো দেখা যাচ্ছে নাতবে কি শিক্ষাকে ধ্বংস করে, শিক্ষাঙ্গনকে অচল করে বর্তমান সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা ক্ষমতায় থাকতে চান? দেশ-জাতির কল্যাণ করতে চান? এটাই কি বর্তমান সরকারের 'পরিবর্তনের রাজনীতি'র নমুনা?

ছাত্রদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন আর কোনো কাঙ্খিত স্থান নয়জ্ঞান, শিক্ষা, কর্ম ও অনুশীলনের সমন্বয়ে জীবন যুদ্ধের প্রকৃত সৈনিক হতে এখন আর কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে বলে মনে হয় নাশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ-কেউ আসে অনন্যোপায় হয়েআর কেউ-কেউ আসে লাঠিয়াল বা ক্যাডার হতে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল অথবা ছাত্র শিবির নামে ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনীর সদস্য হয়ে তারা খুবই আনন্দে থাকেএকবার ছাত্র লীগ, ছাত্র দল বা ছাত্র শিবিরে নাম লেখাতে পারলে জীবন একেবারে ফক্‌ফকাতাদের কোনো অভাব থাকে নাপাওয়া যায় যা খুশি তাই করার অবাধ স্বাধীনতা। যেভাবে খুশী টাকা উপার্জনের সুযোগঅস্ত্রবাজি, খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডাকাতি করার লাইসেন্সএ-দুর্বৃত্তরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিম্মি করে রাখবে আর অন্য সবাই তাদের দয়া বা মর্জির দিকে তাকিয়ে থাকবেতারাই কলেইজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার মালিকখোলা রাখার মালিকও তারাই

এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান (অধ্যক্ষ-ভিসি) হওয়ার জন্য আমাদের বরেণ্য শিক্ষাবিদরা মরিয়া চেষ্টা চালানদালালী করেনএ-দুর্বৃত্তদের পায়ের নিচে বসে, তাদের ইচ্ছার দাস হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব নিতে এসব শ্রদ্ধেয় 'শিক্ষাবিদ'  ও 'সম্মানীত' ভিসিদের কোনো আপত্তি দেখা যায় নাএটাকে আমরা কী বলব? দায়িত্ব গ্রহণের ও দায়িত্ব পালনের অসীম সাহস? নাকি পদ ও ক্ষমতার প্রতি নির্লজ্জ লোভ? দুর্দমনীয় আকাঙ্খা? আমাদের শিক্ষাঙ্গনে এখন আর শিক্ষা আছে বলে মনে হয় নাএক পাল দুর্বৃত্তক-বলিত স্বেচ্ছাচারীদের পীঠস্থানে পরিণতছাত্র-ছাত্রী নেই, আছে মেরুদণ্ডহীন কিছু জড়ের অস্তিত্বশিক্ষকও নেই, লাজ-লজ্জা, আদর্শ, শক্তি ও সাহসহীন ক্লীবদের অক্ষম পদচারণা আছে শুধুতা না হলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ছাড়া পশুশক্তির দখলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলে যাচ্ছে কীভাবে?

গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের অনেক কিছুই নষ্ট হয়েছে - ধ্বংস হয়েছেঅনেক কিছুকে হত্যাও করা হয়েছে তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হয়েছে সম্ভবতঃ দেশের শিক্ষারশিক্ষাঙ্গন থেকে শিক্ষাকে নির্বাসন দেয়াটাই ছিলো বুঝি গত কয়েক দশকের নির্বাচিত-অনির্বাচিত সরকারগুলোর প্রধান এজেন্ডাতা না হলে ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও শিবির নামক লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে ছেড়ে দেয়া হবে কেনো? কেনো এ-দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না? এতো ক্ষতি, এতো মৃত্যু, এতো সমালোচনার পরও কেনো ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও শিবিরের গুণ্ডাদের দমন করা হচ্ছে না?

বিভিন্ন কলেইজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খামোখাই এ-দুর্বৃত্তদের পায়ে তেল মাখছেনশিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পুলিস মোতায়েন করছেনকর্তৃপক্ষের উচিত হলো, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পুলিস প্রত্যাহার করে নেয়া, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র লীগের গুণ্ডাদের জন্য অবাধ এবং উন্মুক্ত করে দেয়াওরা লড়ুকমরুকওরা শক্তি দিয়ে সবকিছু দখল করে নিক বাকী সবাই পালিয়ে যাক, গুলি খেয়ে মরুক। জাহান্নামে যাকসব কিছু ছারখার হোকতাতে কার কী?

স্রষ্টা যা করেন, তা নাকি আমাদের মঙ্গলের জন্যই করেনছাত্র লীগের গুণ্ডামী আর শেখ হাসিনার সরকারের এ-গুণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেয়ার মধ্যে নিশ্চয়ই আমাদের মঙ্গল নিহিত রয়েছে আমরা নির্বোধ বলেই তা টের পাচ্ছি না!

আপলৌডঃ ১১ এপ্রিল ২০০৯

-এ ফিরতি

-তে ফিরতি

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.