|
বিশ্ব
নারী-দিবসঃ
ষ্টকহৌমের জিরৌ
পয়েন্ট
চিত্রা পাল
৮ই
মার্চ আন্তজার্তিক নারী-দিবস।
বাৎসরিক দিন-পঞ্জিকায়
এ-দিনটি
মনে করিয়ে দেয়, জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা
- কেউ বলুক বা না বলুক, কেউ শুনুক
বা না শুনুক, তোমার গুনগাথার জয়যাত্রার জয় হোক আজ। লজ্জ্বিত বিশ্বের নীরব
নির্যাতনের সুরঙ্গ পেরিয়ে,
উদয়ের পথে আত্ম-চেতনার
পুষ্প-পল্লবে
বিকশিত নারীরা এমনিই আয়োজনে মেতে ছিলো
এবার
ষ্টকহৌমের জিরৌ
পয়েন্ট সারগেল তরির মুক্ত অঙ্গনে।
গোটা বিশ্ব-জুড়ে
মৌলবাদী ও রক্ষণশীল ক্ষমতার বাড়-বাড়ন্ত
যতো হবে, ততো বেশি করে হিংসা ছড়াবে এবং একে হাতিয়ার করে নানাভাবে নির্যাতিত
এবং নিষ্পেষিত হচ্ছে সকল দেশের সকল ধর্মের নারীরা।
এ-অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে
সারগেল তরিতে এবার
শামিল হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের
নারী রাজনীতির কর্মীবৃন্দ। হাতে ছিল নারী দিবসের সংগ্রামী প্রতিবাদী ধ্বজা। বেলা
৪টা অবধি চলে মিছিল সমাবেশ। তারপর শুরু হয় ধারাবাহিক অনুষ্ঠান
ও প্রদর্শনী। 'যথেষ্ট! আর না' লেখা
টুপি মাথায় নারীবাদী সংগঠনের কর্মীরা
শহরের
পথ-পরিক্রমা
করেন। ইরানের নারী কর্মীরা
কালো বোরখায় মুখ ঢেকে
হাতে-পায়ে
লোহার জিঞ্জির পরে প্রতিবাদ-মিছিলে যোগ দেন। ইরানের মৌলবাদী সরকার
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-স্বরূপ এদের সবার
হাতে ছিলো
চোখ-বাঁধা নারীর
প্ল্যাকার্ড।
স্লুসেনের
মুসেব্যাক্যন থিয়েটারে প্যালেষ্টাইনী তরুণীরা মাথায় ওড়না পরে বয়স্কা
নারীদের
সাথে অভিজ্ঞতার আলোকে সংলাপ বিনিময় করেন। ছোট-বড়ো সকলে একসাথে গ্লাসে রেড ওয়াইনে
চুমুক দিয়ে নারীর দূর্গম যাত্রার শুভ-সূচনার
ঘোষণা দেন। এক উচ্ছসিত তরুণী বলেন , আমি সবসময় নারী-দিবস পালন করেছি কিন্তু জানতাম
না কেনো পালন করি। এখন বুঝি আমাদের আরও অনেকদূর যেতে হবে যতোদিন না অধিকারের সমতা
অর্জন হয়।
পেরুর নারী রাজনীতিক
কর্মী মারটা লুযা ও স্টকহৌমের নারী
ঔপনাসিক ও রঙ তুলি শিল্পী পিয়া ঈসাকসন এবং এরমা থেরাপিষ্ট উনিয়া আস্তেতে লুযার
আয়োজন করেন
নারীদের সৌজন্যে মধ্যাহ্ন ভোজ।
দিনটির তাৎপর্য
জানতে চাওয়া হলে মারটা লুযা বলেন, ১৮৯০ সালে আমেরিকায় এক কাপড় কারখানার
ন্যায্য মুজুরী আদায়ের
আন্দোলনে আনুমানিক ১৫০ জন নারী শ্রমিকে
হত্যা করা হয়। নারীরা চেয়েছিলো তাদের ন্যায্য অধিকার। সময় বদলে গেছে অথচ নারীর
মানবিধাকার সঙ্কটের চিত্র আগের মতোই ভয়াবহ। নারীদেরকে আরও কয়েকশো বছর সকল অবিচারের
বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
সুইডিশ নারী
ঔপন্যাসিক পিয়া বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী দিবসের আন্দোলন
আগে আমার বোধের
বাইরে ছিলো।
কারণ আমি কখনই নির্যাতিত
ছিলাম না। সময় ও বয়সের আলোকে আজ আমি স্বীকার করছি, নারীরা সত্যিই অসহায় ভাবে
নির্যাতিত
হচ্ছে বিভিন্ন দেশে প্রকার ভেদে। এ-সমস্যা
পরিবার থেকে সমাজে এবং সমাজ থেকে সকল স্তরে ছোয়াচ রোগের আকার ধারন করে বৈষম্যের
সৃষ্টি করে।
আপলৌড ১৪
মার্চ ২০০৯ |