|
দিন কেটে যায় নতুন দিনের প্রত্যাশায়
আতিকা
বিনতে বাকী
আসছে ২৯
wWm¤^i
২০০৮।
বাংলাদেশের মানুষ
অপেক্ষার প্রহর গুনছে আরেকটি নির্বাচনের।
এখন চলছে নির্বাচনী
বাতাস।
ভোটের আগে কিছুদিন শ্বাস নিতে
গিয়ে বুঝতে পারি আমরা কতোটা ক্ষমতাধর মানুষ! ৩০
ডিসেম্বর
থেকে আবার আমরা
ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বো,
সন্দেহ নেই।
অনেকদিন পর রাজনৈতিক
নেতাদেরকে পথে-ঘাটে হাত উচিয়ে,চিৎকার
দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব
জানান দিতে দেখা যাচ্ছে,
যারা কি-না
এতোদিন লাল দালানের ওপার কিংবা কোন বিদেশী গুহায় সংসার পেতেছিলেন।
আবারও
মুখোশধারী রাজনৈতিক নেতারা হাস্যোজ্জ্বল
মুখে,
বিনয়ী হাসিতে বুকে জড়িয়ে ধরছেন
দেশের আবেগী সাধারণ মানুষদের।
তারা নানা ধরণের ছেলে
ভোলানো গল্প শোনাচ্ছেন।
বাংলাদেশে জনসাধারণের
আবেগ নিয়ে যে-নেতা
যতো বেশি খেলতে
পারবেন,
তার ততো
লাভ।
তিনি হবেন নির্বাচিত
জনপ্রতিনিধি।
নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও
শোনা যাচ্ছে এ-সব
মহান রাজনৈতিক নেতাদের ভোট দিলে তারা জনগণের
জন্য কী-কী
কারিশমা করে দেখাবেন।
বাঙালী জাতি-যে
শুধু আবেগী তা নয়,
অত্যন্ত ক্ষমাশীলও বটে।
তারা অতীত অভিজ্ঞতা ভুলে
যায় এবং পূর্ব-পাপের জন্য ক্ষমা করে আবারো গদিতে বসায় ভাঁওতা দেয়া নেতাদের।
চমকের
বাহার আছে সরকারের দিক থেকেও।
বর্তমান সরকার দু-বছরের
নাটকের শেষ দৃশ্যে পৌঁছেছেন।
তারা এখন জনগণকে
শেষ চমক হিসেবে একটি সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ হাতে তুলে দিয়ে হাসিমুখে বিদায় নেবেন।
ঠিক যেনো
রূপকথার গল্পের মতো
অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল।
এক্ষেত্রে হবে অতঃপর
বাংলাদেশের জনগণ সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে আরম্ভ করিলেন।
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারও জনগনের আবেগ নিয়ে খেলেছেন দুটি বছর।
জনগণ প্রতিটা দিন
কাটিয়েছে একটি নতুন দিনের আশায়।
স্বপ্ন ও আবেগের এক জটিল
সমীকরণে এসে জনগণ হতবিহবল হয়ে পড়েছে আজ।
কদিন
আগে সেনাপ্রধানকে দেখা গেল হাস্যোজ্জ্বল
মুখে সব টেলিভিশন চ্যানেলে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইছেন
- জনগণ যেনো
তাদের ভুল না বোঝে,
আসলে তারা জনগণেরই বন্ধু।
প্রশ্ন হলো,
জনগণের যে-বন্ধু,
তাকে কেনো সাধারণ জনগণকে জোর করে শোনাতে হয়
বন্ধুত্বের কথা?
সেনাপ্রধান সাহেবের বক্তব্য শুনে যে-কারো
মনে হতে বাধ্য যে,
সেনাবাহিনী গত দু-বছরে
যা করেছে, তা
অত্যন্ত জনকল্যাণকর
এবং জনগণের এর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু বাংলাদেশের
বাৎসরিক বাজেটের দিকে তাকিয়ে দেখি,
সবচেয়ে বেশি
টাকা বরাদ্দ রযেছে সেনাবাহিনীর জন্য।
এ-অর্থ
কাদের?
সেনাপ্রধান সাহেব কি একটু
সচেতনভাবে ভেবে দেখবেন?
উত্তর হলো,
এ-অর্থ
জনগণের।
আর তাই জনগণের জন্য যা কিছুই
তার বাহিনী করে থাকুক
না কেনো, তা জনগণেরই প্রাপ্য।
সেনাপ্রধান সাহেব আরও জানিয়েছেন,
যখন বিভিন্ন মহল থেকে মার্শাল-ল জারী প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিলো,
তখন তিনি না-বোধক উত্তর দিয়েছিলেন।
এক্ষেত্রে তিনি
সচেতনভাবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে,
তিনি অত্যন্ত দয়ালু একজন সেনাপ্রধান।
তিনি উল্লেখ করেন যে,
গত দু-বছরে
তিনি ও তার বাহিনী
যা করেছে, তা সরাসরি বর্তমান সরকারের আদেশে করেছেন এবং
অতীতেও যতোবার সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে তা তৎকালীন সরকারদের আদেশেই নেমেছে।
সেনাপ্রধান সাহেবের কথা
শুনে মনে হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সব-সময়ই সরকারের অত্যন্ত আজ্ঞাবহ বাহিনী।
পাঠক,
ভেবে দেখুনতো কেমন
রূপকথা
ও ছেলে-ভোলানো
কাহিনীর মতো শোনায় না কথাগুলো?
বর্তমান সরকারের
সময়-সীমার শেষে এসে এমন কি হলো যে,
সেনাপ্রধান সাহেবকে নিজের কাজের জন্য বিস্তর সাফাই গাইতে হচ্ছে?
বুকে বাঁধি আশা যে,
একদিন জনগণ বিষয়গুলির
সঠিক উত্তর পাবেন।
আমরা
সাধারণ নাগরিকরা রাজনীতি বুঝি না,
সরকার বুঝি না এবং বোঝার
চেষ্টাটিও কঠিন।
কারণ আমাদের নুন আনতে পান্তা
ফুরানোর
অবস্থা।
আমরা মরি আমাদের পেটের
ভাবনায়।
এ-ধরণের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভাববার
মতো সময় আমাদের নেতাদের নেই
।
আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আশার আলো হলো না
ভোট।
প্রার্থী পছন্দ না হলে
আমরা আমাদের রায়টা অন্ততঃ
দিতে পারি।
সবার কাছে বিনীত অনুরোধ
প্রার্থীর যোগ্যতা এবং পূর্ব-ইতিহাস দেখে তাকে নির্বাচিত করুন।
আমার বিশ্বাস আমরা যারা
এতো কিছুর পরও সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশকে ভালোবাসি,
তারা সবাই যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচারী
ও লুটেরাদের ভোট দেয়া থেকে বিরত
থাকবো এবং সত্যিকার অর্থেই একটি স্বপ্নের
বাংলাদেশ গড়ার
প্রতিজ্ঞায় ভৌট
দেবো।
আতিকা
বিনতে বাকীঃ লেখক
atiqua23jan@yahoo.com
আপলৌডঃ ২৫ ডিসেম্বর
২০০৪ |