|
বিজয় দিবস সংখ্যা ২০০৮
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে কার্টুন
জোবাইদা নাসরীন
ব্যঙ্গচিত্র
বা কার্টুনকে আমরা সাধারণতঃ মজার বা আনন্দ-লাভের একটি জায়গা হিসেবে দেখি।
কিন্তু এ-কার্টুন কখনও
কখনও ধারালো অস্ত্র হয়ে ওঠে,
জ্বলে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা
হিসেবে।
যুগে-যুগে বিভিন্ন জাতির
সঙ্কট-কালে এবং যুদ্ধের সময় আমরা কার্টুনকে আবিস্কার করি প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ধরণ
হিসেবে।
রেঁনেসাত্তোর যুগে ইউরোপ যখন
যুদ্ধ-বিগ্রহে সামাজিক,
রাজনৈতিক,
ধার্মিক,
অর্থনৈতিক অরাজকতায়
আচ্ছন্ন, তখন শিল্পীদের চিত্রে ব্যঙ্গধর্মী বিষয়াদি উপস্থিত হতে থাকে।
এরপরে ফ্রান্সের
গৃহযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্পেইন এবং অন্যান্য আরও কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক
অবস্থা নিয়ে ব্যঙ্গচিত্রের চর্চা বাড়ে।
যে-কোনো দেশের মুক্তি-সংগ্রামে
সে-দেশের বিভিন্ন পেশা এবং জগতের মানুষ স্ব-স্ব
অবস্থান থেকেই মুক্তি-সংগ্রামে
অংশ নেন।
তাইতো মুক্তির আন্দোলনে জেগে
উঠে শিল্পীর তুলি।
সেই তুলিতে আঁকা কার্টুন
কখনও শত্রুর দিকে বুলেটের মতো ধাবিত হয় আবার কখনও মুক্তিকামী মানুষকে সাহসে
উজ্জীবিত করে।
বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে
সে- রকমই ভূমিকা রেখেছিলেন কার্টুনিষ্টরা এবং তাদের আঁকা বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্র।
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে দেশী
এবং বিদেশী পত্রিকায় দেশ-বিদেশের নানা শিল্পীর অনেক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
এ-কার্টুন শিল্পীরা কখনও
নিজের নামে,
কখনও ছদ্মনামে আবার কখনও
নাম-বিহীনভাবেও প্রকাশ করেছেন এসব ব্যঙ্গচিত্র।
বিভিন্নভাবে প্রকাশিত
চারশোর বেশি ব্যঙ্গচিত্রে মুক্তিযুদ্ধ,
মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব-গাঁথা,
পাক হানাদার বাহিনী ও
তাদের দোসর আলবদর,
রাজাকার বাহিনীর নৃশংসতা,
ধ্বংস,
ধর্ষণের এবং বর্বরতা-সহ
বহু বিষয় স্থান পেয়েছে ।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য
জাতীয় পরিষদেও সভা স্থগিত ঘোষণা করা হলে সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান ৩ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
অসহযোগের ডাক নিয়ে
কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিলো কোলকাতার সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে।
চ্যালেইঞ্জ শিরোনামের
কার্টুনটি অসহযোগ আন্দোলনের গতিকে তীব্রতর করেছিলো।
এ-৬ মার্চ তারিখেই
ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদ অধিবেশন ২৫ মার্চ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন।
৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স মাঠে এক
বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু সে-ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম মুক্তির
সংগ্রাম।
সারাদেশ বিক্ষোভে ছড়িয়ে পড়ে,
ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার
কারফিউ দেয়,
জনগণ বিভিন্ন-স্থানে কারফিউ
ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে।
জনগণের এ-বিদ্রোহ চিত্রই
ধরা পড়ে কার্টুনিষ্ট রফিকুন্নবীর ১৩ মার্চের দুটো কার্টুনে।
একটির শিরোনাম ছিলো
বাংলাদেশের বিদ্রোহ।
এ-কার্টুনটি প্রকাশিত
হয়েছিলো মুম্বাই
থেকে প্রকাশিত ব্লিৎজ
পত্রিকাতে।
অন্যটি প্রকাশিত হয়েছিলো
ঢাকার সাপ্তাহিক ফৌরামে, যেখানে স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছিলো জনতার জয়ের ইঙ্গিত।
১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়
মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা।
২২ মার্চ ইয়াহিয়া খান
আবারো জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন মূলতবী ঘোষণা করেন।
এবং একই দিনেই ভূট্টোও
আলোচনায় যোগ দেন।
ভূট্টোর এ-যোগ দেয়া নিয়ে স্টেইটসম্যান পত্রিকায় ২৩ মার্চ কার্টুনিষ্ট অমলের একটি
কার্টুন প্রকাশিত হয়, যা পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিক
পরিস্থিতি প্রকাশ করে।
পরের দিনই মুজিব নগর
সরকারের দ্য পিওপল পত্রিকায় প্রকাশিত স্যার আর কোথাওতো পাকিস্তানের চিহ্ন দেখছি না
শিরোনামের কার্টুনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বিদ্রোহ নিয়ে পাকিস্তানী
সেনা-শাসকদের ভীত-ভাব লক্ষ্য করা যায়।
এ-কার্টুনটিতেই প্রথম
বাংলাদেশের প্রথম পতাকা লক্ষ্য করা যায়।
ইয়াহিয়া খান
২৪ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ২৫ মার্চ শুরু হয় অপারেশন সার্চ লাইট।
২৬
মার্চ ইয়াহিয়া খান মুজিবকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরাসরি সামরিক আইন
জারী করেন।
পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরের যে-কোনো সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার কঠোর হস্তে রোধ করা হয়।
শেখ
মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের
স্বাধীনতার
ডাক দেন।
এ-প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই আহমদ এর করা ২৯ মার্চের কার্টুনটি।
যেটি
প্রকাশিত হয়েছিলো ঢাকার মর্নিং স্টারে।
কার্টুনটির শিরোনাম ছিলো চিড়িয়া খানার রক্ষক বদল,
যেখানে ইয়াহিয়া খানকে খাঁচার ভিতরে বন্দী অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন শোষণে থাকা কোন জাতি
এক সময় ঘুরে দাঁড়ায়,
রুখে দাঁড়ায়।
বাঙালীও রুখে
দাঁড়িয়েছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে,
যার ফলে গভর্ণর টিক্কা খান বেছে
নিয়েছিলেন হত্যার কৌশল।
সে-কথাই যেনো বলছে
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হওয়া কার্টুনিষ্ট আহমদের করা শেষ সম্বল শিরোনামের
ব্যঙ্গচিত্রটি।
পাকিস্তানী সৈন্যদের যুদ্ধের
শপথকে ব্যঙ্গচিত্রে রূপ দিয়েছেন আবু আব্রাহাম।
তার করা শেষ পাঞ্জাবী
জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাব এ-শিরোনামের কার্টুনটি
প্রকাশিত হয় ৩০ মার্চ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে।
এর পরের দিনই একই
পত্রিকায় একই কার্টুনিস্টের করা বিশ্বাসঘাতকের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন লক্ষ একে
শিরোনামে একটি
ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়
।
মুক্তিকামী
জনগণকে উৎসাহ এবং ইয়াহিয়ার ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে ৯ এপ্রিল কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিলো
সাপ্তাহিক দর্পণে
।
অমলের
কার্টুনটির শিরোনাম ছিলো এ-কবরটি ইয়াহিয়া খাঁর জন্য রিজার্ভ রহিল।
১৯৭১-এ পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন সমর্থন ক্ষোভের সৃষ্টি করে সকল মহলে।
শিল্পীর তুলিতেও এ-ক্ষোভ দেখা যায়।
কার্টুনিষ্টের নাম-বিহীনভাবে বাংলাদেশে ছাড়া সকলের জন্য স্বাধীনতা শিরোনামে
একটি
কার্টুনটি প্রকাশিত হয় ৯ এপ্রিল হিন্দুস্থান স্টান্ডার্ডে।
১০
এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।
এ-সরকার একটি স্বাধীন শিশু হিসেবে কার্টুনিষ্টের তুলিতে স্থান পায়।
স্বাধীন
বাংলাদেশ
সরকার ১৩৭৮
এ-শিরোনামে
অমলের করা কার্টুনটি প্রকাশ পায় কোলকাতার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ১৬ এপ্রিল ১৯৭১
তারিখে।
স্বাধীন
রাষ্ট্র
হিসেবে বাংলাদেশের আলো দেখতে পাওয়া এবং তার সঙ্গে-সঙ্গে
পাকিস্তান
সেনাবাহিনীর পরাজয় সংক্রান্ত একটি কার্টুনও আঁকেন অমল।
পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে
এ-শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে এটি প্রকাশিত হয়।
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর
ধ্বংসলীলা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্য তৈরী করা বিভিন্ন ধরণের ব্যঙ্গচিত্র।
তবে অনেক শিল্পী
পাকিস্তানী হানাদারদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে পরিচয় গোপন রেখে কার্টুন
আঁকতে থাকেন।
এরকমই একটি কার্টুন আমরা পাই
সাপ্তাহিক দর্পনের ১৬ এপ্রিল ১৯৭১ সংখ্যায়,
যেখানে ইয়াহিয়া ও ভূট্টোকে
শকুনের সঙ্গে তুলনা করে ব্যঙ্গচিত্র করা হয়েছিলো এবং যার শিরোনাম ছিলো সবটা শেষ করে
দিস না যেনো ইয়াহিয়া,
ভূট্টোর জন্য খানিকটা রেখে দিস।
আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৭
এবং ১৮ এপ্রিল,
যথাক্রমে পাশের ঘরে আগুন
এবং ইয়াহিয়া জিন্দাবাদ
শিরোনামে দুটি কার্টুন
ছাপা হয়।
ইয়াহিয়া জিন্দাবাদ-এ
লাশের উপর শকুনের মুখ দিয়ে শ্লোগান দেখানো হয়েছিলো।
এপ্রিল-মে মাসে পাকিস্তান
ফৌরামে প্রকাশিত কে ফিঞ্চের করা একটি কার্টুন বিশ্ব-জুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।
কার্টুনের শিরোনাম ছিলো
'পরম করুনাময় পাকিস্তানকে রক্ষা করেছেন - চেয়ারম্যান ভূট্টো।Õ
কার্টুনটিতে পাক-নৃশংসতা অত্যন্ত নিপুনভাবে তুলে আনা হয়।
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ
হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যও বিভিন্নভাবে অবদান রাখেন কার্টুননিষ্টরা।
অমল তেমন একটি কার্টুন
এঁকেছেন ৪ মে ১৯৭১-এ,
দৈনিক যুগান্তরে।
১৯ মে জাতিসংঘের
সেক্রেট্যারী জেনারেল উ থান্ট ভারতে অবস্থানরত পূর্ব-বাংলার শরনার্থীদের জন্য
সাহায্যের আহবান জানান।
একেও ব্যঙ্গ চিত্রের
মাধ্যমে ফুটিয়ে আনেন শিল্পীরা।
২১ মে দ্য ইন্ডিয়ান
এক্সপ্রেসে প্রকাশিত আবু আব্রাহামের কার্টুনটি তারই প্রমাণ।
ইয়াহিয়া চক্রের জঘন্যতা
নিয়ে আবু আব্রাহাম আরেকটি কার্টুন আঁকেন ২৩ মের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে।
লাখো মানুষের কঙ্কালের ওপর
দাঁড়ানো শকুনকে বসিয়ে কামরুল হাসানের তুলিতে ইয়াহিয়া খান বলছেন,
বাংলাদেশে সব শান্ত।
পাকিস্তানী হানাদারদের
সরাসরি খোঁচা লাগানো কার্টুনটি প্রকাশিত হয়েছিলো সাপ্তাহিক জয়বাংলায়,
২৬ মে তারিখে।
জুন মাসের প্রথম দিকে
ইয়াহিয়া খানকে ব্যঙ্গ করে প্রকাশিত হয় বেশ কিছু কার্টুন।
আনন্দবাজার পত্রিকায়
সুফির করা স্বাধীন বাংলা গিলে খাবে ইয়াহিয়া;
হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডে
কুট্টির আঁকা দেহরক্ষী;
দৈনিক টেলিগ্রাফে গারল্যান্ডের
চাকু, ..করাত..কুড়াল
ব্যান্ডেজ জলদি! ইয়াহিয়া;
দ্য পিওপল পত্রিকায় নয়নের করা
বাংলাদেশে সবকিছু
স্বাভাবিক শিরোনামের কার্টুন প্রকাশিত হয়।
এ-জানোয়ারকে হত্যা করতে
হবে কার্টুনটির মতো অন্য সব কার্টুনেও কামরুল হাসান তার শাণিত প্রতিবাদের স্মারক
তৈরী করেন।
সাপ্তাহিক জয়বাংলাতে তার আঁকা
বাংলার বুকে পাকিস্তানী হানাদার শকুন
কার্টুনটি বাংলাদেশের পক্ষে
জনমত সৃষ্টিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের শরনার্থীদের সাহায্য
করা মানেই বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
সংগ্রামে
সাহায্য করা, এ-বিষয়টি নিয়ে জনমত তৈরীতে ভূমিকা রাখেন কার্টুনিষ্ট কুট্টি এবং অমল।
এ-বিষয়ে এদের কার্টুনে
প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক দেশে এবং দৈনিক যুগান্তরেও,
১৯ জুন ১৯৭১।
রেডিও পাকিস্তানে বাঙালী
শিল্পীদের কোনো ধরণের স্বাধীনতা ছিলো না।
শিল্পীদের স্বাধীনতা
নিয়ে কার্টুন আঁকেন নয়ন।
এ-ব্যঙ্গচিত্রটি
প্রকাশিত হয় দ্য পিওপলে ২৪ জুন।
ইয়াহিয়া খানের ব্যঙ্গাত্মক ছবি
আঁকা প্রথম শুরু করেন কামরুল হাসান।
২৫ জুন সাপ্তাহিক
জয়বাংলায় ইয়াহিয়া খানের উপরে তার প্রথম কার্টুনটি প্রকাশিত হয়েছিলো।
ইয়াহিয়া খানের দস্যুতা
নিয়ে আরও কয়েকটি কার্টুন প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়,
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
ছিলো সাতুনের করা ইয়াহিয়ার দস্যুতা
শিরোনামের কার্টুনটি।
এটি প্রকাশিত হয় ১ জুলাই,
দ্য পিওপলে।
কোন-কোন কার্টুন সেই সময় হাসির
খোরাক যুগিয়েছে বাংলার মুক্তি সেনাদের।
আলবদরদের বিভিন্ন
চরিত্রকে ভেড়ার রূপ দিয়ে কার্টুন এঁকেছেন নয়ন
।
এটি প্রকাশিত হয় ১৭ জুলাই,
দ্য পিওপল
পত্রিকায়
।
জুলাই মাসে পাকিস্তানের ৬৫টি
মিশন সরকারীভাবে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে স্বাধীন
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যোগ দেয়।
দ্য পিওপল
পত্রিকায় এনিয়ে নয়ন একটি
কার্টুনে ২২ জুলাই।
মিশনগুলোর পক্ষ
পরিবর্তনের ঘটনায় ভূট্টো এবং ইয়াহিয়া এক অপরকে দোষারোপ করেন।
২৩ জুলাই দ্য ইন্ডিয়ান
এক্সপ্রেস
এ-বিষয়ে আবু আব্রাহাম আঁকেন আমি
একা নই,
তুমিও দায়ী
শিরোনামের কার্টুনটি।
অগাস্টে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন।
তার আগমনকে
ব্যঙ্গচিত্রের মধ্যে উপস্থাপণ করেন নয়ন - দ্য পিওপল
পত্রিকায় ৫ অগাস্ট।
এ-মাসের প্রথম সপ্তাহেই
পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহযোগীদের সম্পত্তি নিলাম করে।
এ-বিষয়ে যে-কার্টুনটি
সাপ্তাহিক জনমত এবং দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ হয় তার শিল্পী ছিলেন অমল।
২
†m‡Þ¤^i
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে
পাকিস্তানের ভরাডুবি নিয়ে কার্টুন আঁকেন কে,
লসমন।
ইয়াহিয়া খান ছাড়াও পূর্ব
পাকিস্তানের গভর্নর মালিক-সহ বিভিন্ন লোকজন স্থান পেয়েছে ১৯৭১-এর কার্টুনে।
এ-রকম একটি কার্টুন আমরা
পাই ১০ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ নিউজ লেটারে।
বাংলাদেশের শিল্পী অরুপ,
মাসুদ,
মহম্মদ ইউনুস,
নয়ন,
পীর আলী,
কামরুল হাসান,
রফিকুন্নবী,
সাতুন,
সঞ্জয়,
সাত্তার এবং সুবীর
চৌধুরী নিজ নামে অনেক কার্টুন এঁকেছেন
।
এর বাইরে কানাডা,
বেলজিয়াম,
ব্রিটেন,
ভারত এবং ইউএসএ এর
শিল্পীরা কার্টুন তৈরী করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।
জোবাইদা নাসরীনঃ লেখক ও
সাংস্কৃতিক কর্মী
আপলৌডঃ
১৬ ডিসেম্বর ২০০৮
|