|
বিজয় দিবস সংখ্যা ২০০৮
মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্যাঞ্চলের জুম্ম জনগণ ও প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়
মঙ্গল কুমার চাকমা
১৯৬৬
সালে ছয়দফা দাবীতে সারাদেশের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলও আন্দোলিত হয়েছিলো।
সে-সময় জুম্ম ছাত্র-যুব
সমাজ এ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
অসহযোগ আন্দোলনের অংশ
হিসেবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও দোকানপাট রাস্তা-ঘাট অচল
করে দিয়েছিলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম-বাঙ্গালী জনগণ সম্মিলিতভাবে।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে
অনেক জুম্ম ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং জুম্ম জনগণ মুক্তিবাহিনীকে
সর্বাত্মকভাবে সহায়তা প্রদান করে।
কিন্তু পরে আওয়ামী-লীগের
কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক নেতা ও আমলার ষড়যন্ত্রে অনেক জুম্ম
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়।
জেনারেল
ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্ট-কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি
হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামেও ছাত্র-যুবকদের রাইফেল প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
সেই প্রশিক্ষণে অনেক
জুম্ম ছাত্র-যুবকও অংশগ্রহণ করে।
জানা যায় যে,
তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও
বর্তমানে আওয়ামী-লীগের অন্যতম পরামর্শক হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম) ও
আওয়ামী-লীগের স্থানীয় নেতা সাইদুর রহমানের প্ররোচনায় জুম্ম ও বাঙ্গালী
ছাত্র-যুবকদের মধ্যে কৌশলে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়।
প্রশিক্ষণে বাঙ্গালী
ছাত্র-যুবকদের আসল রাইফেল দেয়া হলেও জুম্ম ছাত্র-যুবকদের দেয়া হতো ডামি রাইফেলগুলো।
জানা যায়
যে,
সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু
হওয়ার সাথে সাথে জুম্ম ছাত্র-যুবকরাও আন্দোলনে যোগ দিতে সংগঠিত হতে থাকে।
তৎকালীন প্রাদেশিক
পরিষদের সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে
সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জুম্ম ছাত্র-যুবকদেরও
উদ্বুদ্ধ করেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য।
১৯৭০ সালে প্রাদেশিক
পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী-লীগের প্রাথী কোকনদাক্ষ রায়ও (রাজা ত্রিদিব রায়ের কাকা)
মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়েছিলেন।
এ-সময় কয়েকশো
জুম্ম ছাত্র-যুবকও
মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়েছিলো।
প্রথম অবস্থায় তারা
অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণও করেছিলো।
কিন্তু পরবর্তীতে এইচ টি
ইমামের প্ররোচনায় জুম্ম ছাত্র-যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া
হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ-সময় ত্রিপুরা রাজ্যের
রাজধানী আগরতলায় কোকনদাক্ষ রায়কেও কোনো অজুহাত ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়।
ফলে অনেক জুম্ম
ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পেরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ফেরত আসে।
মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন মং সার্কেলের তৎকালীন রাজা মং প্রু
সাইন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার
সাথে-সাথে যখন শতো-শতো লোক পরিবার-পরিজন নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে শরণার্থী
হিসেবে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিল, তখন তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িস্থ রাজবাড়ীতে তাদের
খাওয়া-দাওয়া-সহ নানাভাবে সহায়তা প্রদান করেন।
পাক-সেনারা রামগড় দখল
করার পূর্বেই তিনি ত্রিপুরা পালিয়ে যান।
সেখানে গিয়েও তিনি বসে
থাকেননি।
কর্ণেলের ব্যাজ পরে তিনি
কুমিল্লার আখাউড়াতে যুদ্ধ করেছিলেন।
সেজন্য পাক সেনারা
মানিকছড়িতে এসে রাজবাড়ী,
তৎসংলগ্ন বৌদ্ধ মন্দির ও
গ্রামের জুম্মদের ঘারবাড়ী ধ্বংস ও লুটপাট করে।
তৎসময়ে
ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) বাহিনীতে কিছু জুম্ম ছিলো।
তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ করেন।
তাদের মধ্যে রমণী রঞ্জন চাকমা
রামগড় সেক্টরে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে নিহত হন।
সিপাহী হেমরঞ্জন চাকমা
বগুড়া সেক্টরে নিখোঁজ হন।
তার লাশও পাওয়া যায়নি।
সিপাই অ্যামি মারমাও
বগুড়া সেক্টরে যুদ্ধে শহীদ হন।
পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে
সম্মুখ সমরে অসম সাহসিকতার জন্য বান্দরবানের অধিবাসী তৎকালীন ইপিআরের রাইফেলম্যান
উখ্য জিং মারমাকে যুদ্ধের পরে বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
তিনি এখনও বেঁচে আছেন।
অভাব-অনটনের মধ্যে
কষ্টকর জীবন অতিবাহিত করছেন বান্দরবান শহরে।
সে-সময়
পূর্ব পাকিস্তান পুলিস-বাহিনীতেও কিছু জুম্ম চাকরীরত ছিলেন।
তাদের মধ্যে অন্যতম
বিমলেশ্বর দেওয়ান ও ত্রিপুরা কান্তি চাকমা-সহ ২০/২২ জন জুম্ম সিভিল কর্মকর্তা ও
কর্মচারী ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এঁদের মধ্যে বরেন
ত্রিপুরা,
কৃপাসুখ চাকমা ও
আনন্দ বাঁশী চাকমা ছিলেন
অন্যতম।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান তাঁর বাহিনী ও ইপিআর বাহিনী নিয়ে
রাঙ্গামাটি হয়ে ত্রিপুরা পাড়ি দিয়েছিলেন।
জিয়া বাহিনী-সহ
রাঙ্গামাটি পৌঁছলে জুম্ম জনগণই তাদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য রসদ যুগিয়েছিলো।
রাঙ্গামাটি জেলার
বন্দুকভাঙ্গায় যেখানে বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের সমাধিক্ষেত্র রয়েছে,
সেখানে পাকবাহিনীর সাথে
যুদ্ধের পর মেজর জিয়া তাঁর বাহিনী নিয়ে জুম্মদের গ্রামের ভিতর দিয়ে নানিয়ারচর,
মহালছড়ি ও খাগড়াছড়ি হয়ে
রামগড় সীমান্তে চলে যান।
সে-সময় গ্রামে-গ্রামে
জুম্ম গ্রামবাসীরা মেজর জিয়ার বাহিনীকে খাদ্য-সহ নানাভাবে সহায়তা করেছিলো।
কথিত আছে,
খাগড়াছড়ি জেলার কমলছড়ি
গ্রামের পাশ দিয়ে চেঙ্গী নদী পার হওয়ার সময় নদীতে হাঁটু পানি থাকায় যাতে
জুতা-প্যান্ট ভিজে নষ্ট না হয় সে-জন্য কমলছড়ি গ্রামের জনৈক মৃগাঙ্গ চাকমা মেজর
জিয়াকে পিঠে তুলে নদী পার করে দেন।
জিয়ার বাহিনীকে সহায়তা
দেয়ার জন্য পাক-বাহিনী মহালছড়ির সভ্য মহাজন,
গৌরাঙ্গ দেওয়ান ও
চিত্তরঞ্জন কার্বারীকে ধরে নিয়ে যায়।
পাকবাহিনী তাদেরকে আর
ফেরত দেয়নি।
তাদের লাশও পাওয়া যায়নি।
শুধু তাই নয়,
এজন্য অনেক জুম্ম নারী
বিভিন্ন জায়গায় পাক সেনা সদস্যের ধর্ষণেরও শিকার হয়।
অত্যন্ত
পরিতাপের বিষয় যে,
মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধে
জুম্ম জনগণের ভূমিকা নিয়ে একটি কায়েমী স্বার্থবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী
বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে।
প্রচার করা হয় যে,
জুম্ম জনগণ
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলো,
তারা পাক-বাহিনীকে
সহায়তা করেছিলো,
তারা পাকিস্তানপন্থী ছিলো
ইত্যাদি।
চক্রটি এখনো সক্রিয়।
১৯৪৭ সালে দেশ-বিভাগের
পর জুম্ম জনগণকে আখ্যায়িত করা হয়েছিলো পাকিস্তান বিরোধী বা ভারতপন্থী বলে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার
পর বলা হলো জুম্ম জনগোষ্ঠী পাকিস্তান-পন্থী।
এভাবেই ইতিহাসের প্রতিটি
সন্ধিক্ষণে জুম্ম জনগণকে মনগড়া অভিধায় আখ্যায়িত করে জুম্ম জনগণের উপর বঞ্চনা ও
পীড়নের আশ্রয় নিয়েছিলো একের পর এক শাসক-গোষ্ঠী।
পার্বত্য
চট্টগ্রাম সর্ব উত্তরে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির সীমান্ত চৌকি থেকে ১৯৭১
সালের ৪ ডিসেম্বর
পাক-বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়।
এর পরই ৫ ডিসেম্বর
ত্রিপুরা থেকে একদল মুক্তিযোদ্ধা পানছড়িতে প্রবেশ করে।
মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে
অবস্থান নেয়ার অজুহাতে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য পানছড়িতে
সমবেত হওয়া জুম্মদের মধ্যে ১৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধারা।
এছাড়া সেদিন প্রায় দুই
শতাধিক জুম্মদের ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধা দলটি।
পরে ১৪ ডিসেম্বর
খাগড়াছড়ির কুকিছড়া এলাকায় আরও ২২ জনকে হত্যা করে।
দীঘিনালায় হত্যা করা হয়
১৮ জন জুম্মকে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয়-দিবসের দিনে
খাগড়াছড়ি বাঙ্গালকাটি গ্রামে হত্যা করা হয় ৯ জন জুম্ম গ্রামবাসীকে।
জ্বালিয়ে দেয়া হয় অনেক
ঘরবাড়ী ও বহু নারীর উপর করা হয় অত্যাচার।
আটক করা হয় খাগড়াছড়ির
অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে।
অন্যদিকে
বোমাং সার্কেলের রাজ পরিবারের উপর করা হয় নানা অত্যাচার ও অপমান।
রাজ পরিবারের সদস্য কেএস
প্রুকে মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা পরিয়ে বান্দরবান শহরে ঘুরানো হয়।
মারমা সম্প্রদায়কে হুমকি
দেয়া হয় যে,
বাঁচতে যদি চাও তো বাঙালী হয়ে
যাও,
অন্যথায় বার্মায় চলে যাও।
এভাবে রাঙ্গামাটিতেও
হামলার আতঙ্ক বিরাজ করছিলো।
পরে মিত্র-বাহিনীর
তিব্বতী সৈন্যরা আসায় তা রোধ হয়।
পূর্বেই
উল্লেখ করেছি যে,
প্রথম অবস্থা থেকেই
আওয়ামী-লীগের একটি কায়েমী স্বার্থবাদী উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী বরাবরই জুম্মদের
সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতো এবং জুম্মদেরকে মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত
করার নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
অধিকন্তু তৎকালীন চাকমা
রাজা ত্রিদিব রায় পাক-বাহিনীর পক্ষ নিলে এটাকে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক
গোষ্ঠী কাজে লাগায়।
বস্তুতঃ অনেক আগে থেকেই
রাজ পরিবার তথা সামন্ত শ্রেণী সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তারা জনগণের স্বার্থকেই
কখনও প্রাধান্য দেয়নি।
বরাবরই তারা নিজেদের
স্বার্থ প্রধান্য দিয়ে এসেছিলো।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগ,
১৯৬০ কাপ্তাই বাঁধ,
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ
ইত্যাদি প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা জুম্ম জনগণের জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রেখে
ভূমিকা পালন করেনি।
তারা বরাবরই প্রগতির
বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে
এ-জনবিচ্ছিন্ন সামন্ত প্রভূদের ভুলের মাশুল গোটা জুম্ম জাতির উপর চাপানো হবে কেনো?
পাক-বাহিনীর পক্ষে
হাজার-হাজার বাঙালী অবস্থান নিয়েছিলো,
রাজাকার-আলবদর বাহিনীতে
যোগ দিয়েছিলো;
কিন্তু তাই বলে তো গোটা বাঙালী
জাতি তার জন্য দায়ী হতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধে জুম্ম জনগণের অসামান্য ভূমিকা ও অংশগ্রহণ আজো উপেক্ষিত।
আজো যথাযথভাবে স্বীকৃত
হয়নি মুক্তিযুদ্ধে জুম্ম জনগণ-সহ দেশের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান।
গণতন্ত্র,
জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র ও
ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির ভিত্তি করে যে-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকশিত হয়,
স্বাধীনতার পরপরই সেই চেতনা প্রকারান্তরে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়তাবাদী
চেতনায় রূপান্তরিত হতে দেখা গেছে।
জাতিগত নিপীড়ন ও বঞ্চনার
বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও এর অব্যবহিত পরেই দেশের
নব্য শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জনগণের উপর জাতিগত নিপীড়ন ও বঞ্চনার আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
ফলতঃ ১৯৭২ সালে সংবিধান
প্রণয়ন কালে জুম্ম জনগণ-সহ দেশের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জাতিগত
স্বীকৃতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবী সম্পূর্ণভাবে
উপেক্ষিত হয়।
বস্তুতঃ
গণতন্ত্র,
জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র ও
ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ব্যতীত দেশে
ক্ষুদ্র-বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী,
সবল-দুর্বল শ্রেণী,
নারী-পুরুষ,
ধনী-গরীবের বৈষম্য অবসান
হতে পারে না।
সত্যিকার গণতন্ত্র,
জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র ও
ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা কখনও অন্য জাতি বা জনগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্ব এবং ঐতিহাসিক
ভূমিকাকে অস্বীকার করে না।
সকল জাতিগোষ্ঠীর
রাজনৈতিক,
অর্থনৈতিক,
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
অধিকারকে স্বীকার করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র ও
ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা অর্থবহ হয়ে উঠে।
[তথ্যসূত্রঃ শরদিন্দু শেখর চাকমার রচিত জুম্ম জনগণ যাবে কোথায়
ও জনসংহতি সমিতির
প্রকাশিত জুম্ম সংবাদ বুলেটিন]
আপলৌডঃ ১৬
ডিসেম্বর ২০০৮
মঙ্গল
কুমার চাকমাঃ লেখক |