|
ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবেঃ
ইউকেবেঙ্গলিকে
ঢাবি উপাচার্য
অধ্যাপক
ডঃ আআমস আরেফিন
সিদ্দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহন করেছেন ১৮ জানুয়ারী।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সাবেক চেয়ারম্যান,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
বিভাগ।
উপাচার্য হিসেবে তার
কর্ম-পরিকল্পনার কথা গত সপ্তাহান্তে
ইউকেবেঙ্গলিকে
জানিয়েছেন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক
।
সৌরভ রহমানের সাথে আলাপে
শিক্ষার মান বাড়ানো,
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা,
আবাসিক সমস্যা সমাধান,
ক্যাম্পাসে সহাবস্থান,
গবেষাণার
ক্ষেত্র প্রসারিত করা-সহ
ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট
বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইউকেবেঙ্গলিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত।
এর মধ্যে কোনো
সমস্যাটিকে আপনি বেশি প্রাধ্যান্য
দিবেন বা কোনোগুলো আগে
সমাধানের চেষ্টা করবেন?
অধ্যাপক
আরেফিন সিদ্দিকঃ
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে এটি সত্য।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায়
অনেক কিছুই আমার জানা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে শিগগিরই বসা হবে।
সমস্যা বের করতে পারলে
সমাধানও বেরিয়ে আসবে।
তবে ছাত্র-ছাত্রীদের
শিক্ষা কার্যক্রমকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে।
তাদের সার্বিক নিরাপত্তা,
আবাসিক সমস্যা সমাধানসহ
যতো ধরণের
সুযোগ আছে সব কিছু প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের
আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ভবন ও নতুন হল নির্মাণ করা হবে।
নতুন হল নির্মাণে
সরকারের পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা এগিয়ে আসলে সেটিও ভেবে দেখা হবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
উঠছে।
গবেষণাও
হচ্ছে না।
এসব বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ
গ্রহণ
করবেন কি?
অধ্যাপক
আরেফিন সিদ্দিকঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে আরো বেশি যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা সর্বাত্মক
চেষ্টা করা হবে।
টাকা পয়সার অভাবে গবেষণা
কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
হওয়ার ইচ্ছা করলেই সব সমস্যার সমাধান করা যায় না।
গবেষণা কার্যক্রমকে আরো
গতিশীল করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড সংগ্রহ করা হবে।
ইউকে
বেঙ্গলিঃ ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদ কে কার্যকর করার ব্যাপারে কিছু চিন্তা-ভাবনা করেছেন
কি?
অধ্যাপক
আরেফিন সিদ্দিকঃ
ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলে ছাত্ররা হল ও ক্যাম্পাস দখলের
রাজনীতিতে লিপ্ত হতো না।
এ-সব
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউকে
বেঙ্গলিঃ
সরকার পরিবর্তনের সাথে-সাথে
হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অস্থিরতার নজীর দেখা যাচ্ছে।
হলের দখল নিয়ে ইতিমধ্যে
সহিংসার ঘটনাও ঘটেছে।
এ-ব্যাপারে আপনাদের
পদক্ষেপ কি হবে?
অধ্যাপক
আরেফিন সিদ্দিকঃ
ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে এটিই স্বাভাবিক।
গণতন্ত্রের মূল শিক্ষা
হচ্ছে সব দল ও মতের মানুষ মিলে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করা।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা
হলেই অবস্থান করবে।
সে যে কোনো দল বা
মতাদর্শে বিশ্বাসীই হোক না কেনো।
ক্যাম্পাসে সব ছাত্র
সংগঠনের সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অতীতে শিক্ষক নিয়োগে
রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব
দেয়ার অভিযোগ এসেছে।
এ-অভিযোগ থেকে আপনি মুকত
থাকতে পারবেন কি?
অধ্যাপক
আরেফিন সিদ্দিকঃ
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।
নিয়োগের ব্যাপারে
সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
সেগুলো অক্ষরে-অক্ষরে
পালন করা হবে।
একমাত্র মেধা এবং যোগ্যতার
ভিত্তিতেই নিয়োগ দেয়া হবে।
এ-বিষয়ে সর্বোচ্চ
সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
শিক্ষকরা যোগ্য না হলে
আগামী প্রজন্ম যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে না।
ইউকেবেঙ্গলিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল সঙ্কট নিরসনে আপনারা কি ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ
করতে যাচ্ছেন?
ডঃ
আরেফিন সিদ্দিকঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বাড়ানোর ব্যাপারে
সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।
গ্রীন
রৌড,
মিন্টো রোড-সহ
ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জমি বেহাত অবস্থায় রয়েছে।
সেগুলো উদ্ধারের
সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
ওই জমিগুলোর বর্তমান
মূল্য অনেক।
সেগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের
পর্যাপ্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ইউকেবেঙ্গলিঃ
ধন্যবাদ।
আপলৌডঃ ৩০ জানুয়ারী ২০০৯ |