|
বিজয় দিবস সংখ্যা ২০০৮
সময় লাগবে কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই
-
মেঃজেঃ
(অবঃ) সিআর দত্ত (বীর উত্তম)
মেজর
জেনারেল (অবঃ) সিআর দত্ত (বীর উত্তম)।
মুক্তিযুদ্ধে চার নম্বর
সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার
স্বীকৃতি-স্বরূপ পেয়েছেন বীর উত্তম উপাধি।
বর্তমানে অন্য সেক্টর
কমান্ডারদের সাথে মিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে রাখছেন উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা।
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয় নিয়ে গত ১
ডিসেম্বর ঢাকায় ইউকেবেঙ্গলির মুখোমুখি হয়েছিলেন স্বাধীনতা-যুদ্ধের
এ-সৈনিক।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জগন্নাথ
বিশ্বাস।
ইউকেবেঙ্গলিঃ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কি সফল হয়েছে বলে মনে করেন?
সিআর
দত্তঃ না আমাদের স্বপ্ন সফল হয়নি।
যে-স্বপ্ন নিয়ে আমরা
যুদ্ধ করেছিলাম, তার প্রায় কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।
আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীন
দেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে।
কিন্তু এখন দেখছি সব
কেমন উল্টে যাচ্ছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
এখন পর্যন্ত হয়নি।
অথচ তারা আমাদের কতো
ক্ষতি করেছে।
আমাদের কষ্ট এ-জায়গায়।
যুদ্ধপরাধীদের বিচারের
দাবীতে আমরা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম গঠন করেছি।
আন্দোলন করছি।
যেহেতু একটা
অসাম্প্রদায়িক নীতির উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সফল হয়নি।
তাই বলবো
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নও সফল হয়নি।
ইউকেবেঙ্গলিঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীর আন্দোলনে সাধারণ গণ-মানুষকে কীভাবে আরও
বেশি সম্পৃক্ত করা যায়?
সিআর
দত্তঃ এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া।
আমাদের স্বাধীন হতেও তো
প্রায় ২১ বছর লেগেছিলো।
সেই ৪৮ থেকে শুরু তারপর
কতো কিছুর পরেই না স্বাধীনতা পেয়েছি।
মানুষকে সচেতন করতেও সময়
লাগবে কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই।
ইউকেবেঙ্গলিঃ যে-সাংস্কৃতিক চেতনা থেকে যুদ্ধ করেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ একটি স্বাধীন
রাষ্ট্র গঠনের জন্য।
সে-চেতনা অনুসারে দেশ
গঠন সম্ভব হলো না কেনো?
সিআর
দত্তঃ এর জন্য আমি সরকারগুলোকে দোষ দেবো।
আওয়ামীলীগ,
বিএনপি ও সামরিক সরকার,
প্রত্যেকেই এ-ব্যর্থতার জন্য দায়ী।
আদর্শ এবং স্বপ্ন
বাস্তবায়নের দ্বায়িত্ব সরকারের।
তারা কি যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার করেছে?
আওয়ামীলীগ,
বিএনপি এমন কি জিয়াউর
রহমান নিজেও তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,
তিনি কি যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার করতে পারতেন না।
প্রত্যেকের
ভুল-ভ্রান্তির জন্যই আসলে সব ব্যর্থ হয়ে গেছে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ সামনে দেশে নির্বাচিত সরকার আসবে।
নতুন সরকারের কাছে
সেক্টর কমান্ডার্স ফৌরামের প্রত্যাশা কী থাকবে?
সিআর
দত্তঃ আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দাবী জানিয়ে বলতে চাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
আমি চাই, রাজনৈতিক
দলগুলো সংসদ নির্বাচনের আগেই এ-ঘোষণা দিক।
তারা বলুক যারা
যুদ্ধাপরাধী তাদের সাথে আমরা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করব না।
তাদের প্রার্থীতা বাতিল
করতে হবে।
বিএনপির কাছে আমার অনুরোধ
থাকবে, তারা যেনো স্বাধীনতা-যুদ্ধ অস্বীকারকারীদের সাথে নির্বাচনে না যায়।
ইউকেবেঙ্গলিঃ রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস্, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর
দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ তাদের
চিনতে ভুল করবে না তো?
সিআর
দত্তঃ আমার তা মনে হয় না।
তারাই যে-যুদ্ধাপরাধী
এটা বুঝতে সাধারণ মানুষের ভুল হবে না।
বিশেষ-করে আমরা সেক্টর
কমান্ডার্স ফৌরাম যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি, তাতে এ-আশঙ্কাটা
একদম অমূলক।
আমরা বারবার বলছি, সেক্টর
কমান্ডার্স ফৌরামের আন্দোলনে গণ-মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সব শ্রেণী পেশার মানুষের
কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী আসতে হবে।
তা না হলে আন্দোলন
বেগবান হবে না।
ইউকেবেঙ্গলিঃ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে কি বঞ্চিত মনে করেন?
সি আর
দত্তঃ আমি তো একটা অবস্থানে আছি।
অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন,
যারা বঞ্চনার স্বীকার।
একজন মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে তাদের কথা ভাবলে হৃদয় বিদীর্ণ হয়।
স্বাধীন
দেশের সরকারের উচিত ছিলো
মুক্তিযোদ্ধাদের সমমান নিশিচত করা।
সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে ১ ডিসেম্বর ২০০৮,
ঢাকা
থেকে |