বাংলাদেশের বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা ২০০৮

London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

বিজয় দিবস সংখ্যা ২০০৮

জনগণ স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করবে - অধ্যাপক ডঃ আনোয়ার হোসেন

অধ্যাপক ডঃ আনোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক১৯৭১-এ ছিলেন রণাঙ্গনেস্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ভূমিকা রেখে চলেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের সংগ্রামেবিজয় দিবসকে সামনে রেখে গত ৪ ডিসেম্বর ইউকেবেঙ্গলির  সাথে আলাপে তিনি কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার-সহ আগামী নির্বাচন সম্পর্কেসাক্ষাৎকার নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্বাস

ইউকেবেঙ্গলিঃ ১৯৭১-এ মুক্তিযোদ্ধারা যে-বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজকের বাংলাদেশ সে-স্বপ্ন থেকে কতো দূরে অবস্থান করছে ?

ডঃ আনোয়ার হোসেনঃ যোজন-যোজন দূরে অবস্থান করছেমুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে-সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম তার আশেপাশেও আজকের বাংলাদেশ আসতে পারেনিস্বাধীনতার ৩৭ বছর পর দেশের দিকে তাকিয়ে আজকে যে-পরিণতি দেখতে পাই, মুক্তিযোদ্ধারা দু;স্বপ্নেও  কখনও এমন পরিণতির কথা চিন্তা করেননি

ইউকেবেঙ্গলিঃ এমন পরিণতির জন্য কোন কারণগুলো দায়ী বলে মনে করেন?

আনোয়ার হোসেনঃ বাংলাদেশের আজকের পরিণতির জন্য যে-কারণগুলোকে দায়ী করবো তার মধ্যে প্রধানতম হলো,  আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছেবঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন একটা ভুখণ্ড পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু সেই ভূখণ্ডে একটি মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্টের স্বপ্নও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছেদুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানী রাষ্ট্র কাঠামোটি এখনও অক্ষুন্ন রয়েছেসুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে রাষ্ট্র কাঠামোর মূল-বিষয় যেমন প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি আমরা পুরাতন পদ্ধতিতেই রেখে দিয়েছিরাষ্ট্র কাঠামোটি পাকিস্তানী পদ্ধতিতে রয়ে যাওয়ার ফলে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রবর্তনই করতে পারিনি এ-রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জায়গা করে নিতে পেরেছে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিসঠিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-নির্মাণের ব্যর্থতাই বাংলাদেশের এ-পরিণতির জন্য দায়ী

ইউকেবেঙ্গলীঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার-বিরোধী শক্তির বিকাশ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

আনোয়ার হোসেনঃ পরাধীন আমলের রাষ্ট্র কাঠামোটি রেখে দেয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল অংশ সরাসরি লাভবান হয়েছেসামরিক শাসন আমলে জেইলে চার জাতীয় নেতা হত্যা, কর্নেল তাহের-হত্যা এবং সংবিধান পরিবর্তনের মতো ন্যাক্কারজনক কাজগুলো হয়েছেঅনেক ক্ষেত্রেই সামরিক শাসকদের অবস্থান ছিলো মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তির পক্ষেসব সরকারের আমলেই মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি কম বেশি পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছেএকমাত্র ১৯৯৬ এর আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাতিক্রম

ইউকেবেঙ্গলিঃ স্বাধীনতার-বিরোধীদের বিপক্ষে গণ-মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হলো না কেনো?

আনোয়ার হোসেনঃ এ-দায়িত্বটা ছিলো সরকারগুলোরবিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারতোজনমত যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে তখন সংগঠিতই ছিলোক্ষমা করে তারা ভুল করেছেন আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিতবে জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে তখনও অবস্থান নিয়েছিলোএবং সে-শক্ত অবস্থান এখনও বজায় রয়েছে বলেই আমরা এখনও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়নের আশা করছি

ইউকেবেঙ্গলিঃ বর্তমান সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথমদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বললেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত-কারণে সে-উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যুতে যুদ্ধাপরাধীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো কতোটা প্রভাবিত করবে বলে আপনার ধারণা?

আনোয়ার হোসেনঃ এ-সরকার কতোটা নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে, সে-ব্যাপারে আমি এখনও সন্দিহানএখনও রাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াশীল অংশ তৈরী হয়ে আছে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তির পক্ষে কাজ করার জন্যকেনো-না, এ-ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি স্বার্থ জড়িতপ্রশাসনের দল নিরপেক্ষ ভূমিকাকে পূর্ববর্তী সরকার এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যে, বর্তমান সরকার তার দুষ্ট প্রভাব থেকে বের হতে পারবে কি-না সন্দেহ

ইউকেবেঙ্গলিঃ সামনে ১৬  ডিসেম্বরএবারের বিজয় দিবসকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কী হবে?

আনোয়ার হোসেনঃ নির্বাচনের আগে এ-১৬ ডিসেম্বর খুবই তাৎপর্যপূর্ণআমি আশা করি, বাংলার সাধারণ জনগণ ভৌটের মাধ্যমে আরেকবার স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করবেআমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে-সোনার বাংলা গড়ার যে-স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়ন করতে পারবো

আপলৌডঃ ১৬ডিসেম্বর ২০০৮

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.