|
ইয়র্কশায়ার কাউন্টি লীগে খেলতে আসছেন এনামুল হক জুনিয়র
এনামুল
হক জুনিয়র, যার নামটি শুনলেই চোখের সামনে
ভেসে ওঠে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের মুহুর্তটি।
দুই ইনিংসে বারোটি উইকেট
তুলে নিয়ে একাই জিম্বাবুয়েকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন এনামুল।
তখন থেকে দেশের ক্রিকেটে
অন্যরকম একটা অবস্থান তৈরী করে আছেন এই তরুণ।
গত কিছু দিন ধরে অবশ্য
এনামুল জাতীয় দলের বাইরে।
তাই বলে ক্রিকেটে ভাটা
পড়েনি তার।
সুখের কথা, এ-মৌসুমে ইয়র্কশায়ার
কাউন্টি লীগের হনলে ক্লাবের হয়ে খেলবেন এনাম।
ইয়র্কশায়ার
কাউন্টি লীগে
হ্যাট্ট্রিক শিরোপা জয়ী হনলে
এবার টানা চতূর্থবারের মতো শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে।
ইংল্যান্ডে যাবার দুদিন
আগে গত ২০ এপ্রিল ইউকেবেঙ্গলির
শাহাবুদ্দিন শুভর সাথে সিলেটে বসে কথা হয় বাংলাদেশের
একমাত্র টেস্ট জয়ের নায়কের সাথে।
আলাপচারিতাটি তুলে ধরা
হলো।
ইউকেবেঙ্গলিঃ কীভাবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেলেন?
এনামুল হক
জুনিয়রঃ আমরা যারা জাতীয় দলে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করি তাদের প্রত্যেকের একজন করে
এজেন্ট থাকেন।
তেমনি আমার এজেন্ট ইংল্যান্ডের পল ক্যারিক,
সেই
আমাকে প্রথমে সেখানে খেলার প্রস্তাবটা দেয়।
আমি
নিজে বেশ কিছুদিন সময় নিয়ে প্রসতাবের উত্তর দেই।
বোর্ড থেকে জানানো হয় যে জাতীয় দলের হয়ে কিংবা বোর্ডের কোন দলের হয়ে খেলা থাকলে
আমাকে দেশে চলে আসতে হবে।
আমি
সানন্দে সে-প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই।
ইউকেবেঙ্গলিঃ প্রথমবারের মতো কাউন্টি খেলার সুযোগ পেলেন তখন অনুভূতি কেমন হয়েছিলো?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ অবশ্যই
ভাল লাগছে, তবে দেশে এখন লীগ চলছে থাকলে
ভাল হতো।
কিন্তু
নিজেকে পরিপূর্ণ করার জন্য
আমাকে ইংল্যান্ডে খেলতেই হবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার সাথে তো ক্লাব প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে আবদ্ধ করেছে।
চুক্তির বাকী বিষয়বস্তু
কী, আর কী-কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে আপনাক?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ চুক্তিটা আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।
বস্তুতঃ সব ধরণের খরচ
ক্লাব বহন করবে।
এছাড়াও মাসে-মাসে বেতন হিসাবে
কিছু পাউন্ড দেয়া হবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি যে-দলে খেলতে যাচ্ছেন, সে-দলে তো ভারতের রমেশ পাওয়ার-সহ আরও দুজন
স্পিনার খেলেছিলেন।
তারা তো ইন্ডিয়ান
প্রিমিয়ার লীগের কারণে এবারের মৌসুম খেলতে পারছেন না।
সে-হিসাবে চাপটা একটু
বেশিই পড়বে আপনার উপর, তাই নয় কি?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ আমি জানি আমি কী দায়িত্ব নিয়ে যাচ্ছি।
আমাকে তারা মূলতঃ রমেশ
পাওয়ারের জায়গায় দলভুক্ত করেছে।
যতোদূর জেনেছি, গত
মৌসুমে এ-স্পিনার ৮০টিরও বেশি উইকেট সংগ্রহ করেছিলো।
টানা তৃতীয়বারের মতো
চ্যাম্পিয়ন হতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ-বৌলার।
সে-হিসেবে আমার উপর বেশ
বড়ো দায়িত্ব।
তাই আমাকে কী করতে হবে, সেটা
ভালো করেই জানা আছে আমার।
ইউকেবেঙ্গলিঃ ব্যাক্তিগতভাবে মুলতঃ কী টার্গেট নিয়ে ইংল্যান্ড যাচ্ছেন আপন?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ অবশ্যই ভলো খেলে দেশের মান উজ্জ্বল করা।
কারণ, জাতীয় দলে আমি
যেমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, সেখানেও তো দেশের প্রতিনিধিত্ব করি।
ভালো খেললে সবাই তো বলবে
যে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়।
ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি তো অনেকদিন থেকে জাতীয় দলে নেই।
খারাপ লাগে না যখন দেখেন
সতীর্থরা আপনার জায়গা দখল করে আছেন? সর্বশেষ কবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ দীর্ঘদিন বললে বোধহয় ভুল হবে।
আমি তো সর্বশেষ দেশের
বাইরে নিউজিল্যান্ডে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলি, বাকী একটিতে আমাকে বাইরে
বসিয়ে রাখা হয়।
তারপর তো আর দেশের হয়ে খেলতে
পারিনি।
আমি নিজে বিশ্বাস করি যদি আমাকে
সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই দলে আমার জায়গাটা পাকা পোক্ত হয়ে যাবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার সমসাময়িক ও কিছুটা পরে এসে আব্দুর রাজ্জাক আর সাকিব আল হাসানরা
বর্তমানে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য
।
কখনো কি দুঃখ হয় না এ-ভেবে যে,
আপনারতো এখানে থাকার কথা?
এনামুল
হক জুনিয়রঃ আসলে বাংলাদেশকে যদি আপনি বাঁহাতি স্পিনারদের খনি বলেন তাহলে ভুল বলা
হবে না।
বর্তমানে যারা দলে রয়েছেন আমি
তো মনে করি তারা নিজেদের যোগ্যতার বলেই টিকে আছে।
আমি এখনো হাল ছেড়ে দেইনি
এখনও দলকে দেবার মতো অনেক কিছু আছে আমার।
ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার দীর্ঘ ইংল্যান্ড সফর সফল ও সুন্দর হোক, সেখানে গিয়ে দেশের মান
আরো উজ্জ্বল করুন, সে-প্রত্যাশায় অনেক শুভাশীষ।
এনামুল
হক জুনিয়রঃ দেশের মানকে যেনো আরও উজ্জ্বজল করতে পারি, সে-চেষ্টা থাকবে।
ইউকেবেঙ্গলিকে অনেক
ধন্যবাদ।
আপলৌডঃ ১
মে, ২০০৮
|