London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

ইউকেবেঙ্গলির সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আনোয়ার ও অধ্যাপক হারুন

নানা ধরণের রহস্যের বাতাবরণ তৈরী করে, শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক ও একজন ছাত্রকে মুক্তি দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার বিকেলেতবে এখনও কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে ঢাবির আটজন ছাত্রকে

মুক্তিলাভের কয়েক ঘন্টার পরে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় প্রায়-মধ্যরাতে ঢাকা থেকে টেলিফৌনে ইউকেবেঙ্গলিকে বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন সদ্য-কারামুক্ত অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক হারুন অর রশীদ

মুক্তিলাভের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অধ্যাপক আনোয়ার জানান, তাঁর মধ্যে এক ধরণের মিশ্র অনুভূতি হচ্ছেতিনি বলেন, 'পরিবারের কাছে ও চির-পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের কাছে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে, কিন্তু কয়েক ছাত্রকে জেলখানায় রেখে আসতে হয়েছি বলে মনটা ভার হয়ে আছে।'

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক হারুন ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন, 'সকালে সাজা দেয়া এবং বিকেলে মুক্তির দেয়ার রহস্যটি কী?'  অধ্যাপক হারুন এহেন তৎপরতাকে বৈষম্য হিসাবে আখ্যায়িত করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, 'সাজা না দিয়ে যদি মুক্তি দেয়া হবে, তাহলে কেনো গ্রেফতার করা হয়েছিলো?' কয়েকজন ছাত্রকে মুক্তি না দেয়ার ব্যাপারেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন

সরকার কেনো মুক্তি দিয়েছে? এ-প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক হারুন অর রশীদ জানান, 'আমরাতো মুক্তি চাইনি, তাহলে কেনো মুক্তি দেয়া হলো, সে-প্রশ্নের উত্তরটাই খুঁজছি।' এ-প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'আমাদেরকে বিনা-বিচারে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, সরকার নিযুক্ত তদন্ত কমিশনের রিপৌর্টেও মুক্তিদানের সুপারিশ করা হয়েছিলো - কিন্তু সরকার কিছুই মান্য করেনি।' অধ্যাপক হারুন মন্তব্য করেন, 'কমিশন যদি শাস্তি-দানের সুপারিশ করতো, তাহলে হয়তো সরকার তা পালন করতো।' তিনি মনে করেন, দেশে ও দেশের বাইরে জনমত সাংঘাতিকভাবে বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে দেখে মুক্তি-দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

মুক্তিলাভ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আন্দোলনের চাপে আমাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।'  একবার সাজা দেয়া এবং সাজা দেয়ার সাথে-সাথে আবার মুক্তি দিয়ে দেয়া - এহেন প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, 'এসবের মধ্য দিয়ে আসলে জাতির বিবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেনস্থা করা হয়েছে।'

কয়েকজন ছাত্রের মামলা ঝুলিয়ে রাখা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনোয়ার জানান, ছাত্রদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলখানার ভেতরে থেকে যেতে চেয়েছেন, কিন্তু জেলকৌড ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাইরে চলে আসতে বাধ্য করেছেঅধ্যাপক হারুন বলেন, 'ছাত্র-শিক্ষকরা কোন অন্যায় করেনি - আমরা আক্রমণ করিনি, আক্রান্ত হবার পরে প্রতিবাদ করেছি মাত্র।' এই বাস্তবতার বিবেচনায় এখনও আটক-থাকা ছাত্রদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তিদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি তিনি আরও জানান, ঢাবিতে সেনা সদস্যের হাতে ছাত্র প্রহৃত হওয়া এবং তার পরবর্তী ঘটনা-প্রবাহে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে ছাত্রদের মুক্তি দেয়া না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করেন অধ্যাপক হারুন

মঙ্গলবার রাতের প্রতিক্রিয়ায় উভয় অধ্যাপক জানান, বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা কাজ করেছে কি-না, তা জানার জন্য তাঁরা উচ্চ-আদালতের শরণাপন্ন হবেনআদালত দেয়া জবানবন্দিতে সরাসরি সেনা বাহিনী ও সেনা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন কৃতকর্মের উল্লেখ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, 'দেশ-বিদেশে বাঙালীর মধ্যে এ-নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিভিন্ন খবর জানতে পেরে আমি আনন্দিত।'

সাক্ষাতকারের শেষ অংশে এসে অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, 'মানুষ যেভাবে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে অভিভূত করেছে।' মানুষের ভালোবাসা সারা জীবনের প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনিঅধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, 'দেশে গণতান্ত্রিক সরকার দরকার, নির্বাচন দরকার।' জরুরী অবস্থার সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, 'বর্তমান সরকারের কারণে দেশে নীরব দূর্ভিক্ষ চলছে।' 

আপলৌডঃ ২৩ জানুয়ারী, ২০০৮

   

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.