London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

'বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে যুদ্ধপরাধীদের বিচার সম্ভব'

-অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

[ডঃ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা।  শহীদ বুদিধজীবি দিবস ও বিজয় দিবসকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বর্তমান বাংলাদেশ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ অফিস-কক্ষে বসে তিনি কথা বলেছেন ইউকেবেঙ্গলির প্রতিনিধি দীপায়ন খীসার সঙ্গে।]

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিজয় দিবসের মূল্যায়ন সম্পর্কে ডঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবারের বিজয় দিবস একটি বিশেষ কারণে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।  আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক ভিত্তি এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে আবারো একটি একটি ভিন্নমতের অবতারণা করা হয়েছে।  ভিন্নমতটি অবতারণা করেছেন তারাই যারা ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন গণহত্যায় অংশগ্রহণ করেছে পাকিস্তানীদের দোসর হিসেবে।  স্পষ্ট করে যদি বলি, বলা হয়েছে ১৯৭১-এ আমাদের যুদ্ধ নাকি মুক্তিযুদ্ধ ছিলো না, ছিলো একটি গৃহযুদ্ধআবার জামায়াতে ইসলামী থেকে বলা হলো, বাংলাদেশে কোন যুদ্ধপরাধী নেইএ দুটো বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে প্রাপ্ত বাংলাদেশে এখন যারা বসবাস করছেন, বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য একটা বড়ো আঘাত।  এ-ধরণের উক্তি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।  এ-ধরণের শহীদ পরিবারগুলো এবং মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীরা কতোটা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, কতটা ব্যথিত হতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়

এসবের  পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয়, এবারের বিজয় দিবস গভীর তাৎপর্য বহন করেমুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচার প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন তির্যকভাবে বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু এদের সবাইকে ক্ষমা করেছিলেন।  কথাটি ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে,  কিন্তু বাস্তবে সত্য নয়।  যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিলো বা আছে, তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি।  এদের বিচার করা হয়নিএটা জাতি হিসেবে আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা স্বাধীনতার প্রায় ৩৬ বছর পেরিয়ে গেছে এখনও এদের বিচার আমরা করতে পারিনি।  একইসঙ্গে এটাও বলতে হবে রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং অবমৃষ্যকারীতার সুবাদে এরা ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সরাসরি

রাষ্ট্র-ক্ষমতার অংশীদার হয়েছিলো।  এসব আমাদের চরম ব্যর্থতা, আত্মগ্লানির প্রশ্ন।  আরেকটি কথা বলা হচ্ছে, এখন বিচার করতে গেলে এদের অপরাধের প্রমাণ করবার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে কি-না।  আপাতদৃষ্টিতে বক্তব্যটির যুক্তি আছে।  এতোদিন পরে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া মুষ্কিল।  কারণ তা সংগ্রহ করার বা ব্যবহার করার কোন উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোন সময় নেয়া হয়নি।  কিন্তু সেই সময়ের নির্যাতিত মানুষ-জন  এখনও বেঁচে আছেন।  নির্যাতিত নারীরা বেঁচে আছেন, মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন, পত্র-পত্রিকা আছে।  যদি সরকার ইচ্ছা করে, তবে একটা বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে প্রমাণ সংগ্রহ করাটা কঠিন নয়।  এ-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।  সেটা যে-সরকারই হোক না কেনো।  অবশ্য যদি সে-সরকার বাংলাদেশের অস্তিত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দৃষ্টান্ত টেনে ডঃ আনোয়ার বলেন, বড়ো দৃষ্টান্তটি হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ইহুদী নিধনের যে-কাজটি চলেছিলো  হিটলারের নেতৃত্বে, সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোন ছাড় দেয়া হয়নিযেখানেই অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তাদেরকে বিচার করা হচ্ছে।  শাস্তি দেয়া হচ্ছে।  কাজেই আমরা কেন পারবো না? আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই, যদি ঐকান্তিক থাকি তাহলে এ-দেশেও যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা যাবে।  আমাদের শুধু ইচ্ছাটি দরকারসেটি তৈরী করতে হবে।  আমার মনে হয়, বর্তমানে একটি পরিবেশ তৈরী হয়েছে।  এতোদিন রাজনৈতিক কারণে মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমান্ডাররা বিভাজিত ছিলেন।  কিন্তু এখন সেক্টর কমান্ডাররা রাজনৈতিক ভিন্নতা অতিক্রম করে একই মঞ্চে অবস্থান করছেন।  তাঁদের মধ্য থেকে সম্মিলিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে দাবী উঠেছে যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করার এবং বিচার করার।   এর চেয়ে ভালো সময় অতীতে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও আসবে কি-না তা সন্দেহ আছে।  কাজেই বর্তমান প্রশাসন যদি যুদ্ধপরাধীদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট এবং বিবেকী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে তাহলে এ-প্রশাসন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখতে সক্ষম হবে।  তবে দায়িত্বটি এড়িয়ে গেলে সমালোচিত হবে

স্বাধীনতা-বিরোধীরা জামায়াতে ইসলামকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না করার দাবী জোরদার হচ্ছে।  এ-বিষয়ে ডঃ আনোয়ার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী  রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামীকে যেনো নিবন্ধন করা না হয়, তার পক্ষে কোন কোন রাজনৈতিক মহল থেকে জোরালো দাবী উঠেছে।  এ-দাবীটি সম্পর্কে আমার দুটো বক্তব্য আছে।  একটি হচ্ছে অত্যন্ত বাস্তব সত্যলব্ধ বক্তব্য।  বিগত ৩৬ বছরে বাংলাদেশের দুটো বড়ো দলই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে কোন না কোনভাবে তোষণ করেছে।  একটু হেরফের হলেও দুটো দল কোনভাবেই এ-দায়িত্ব এড়াতে পারে না।  এ-কারণে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে।  তারা ক্ষমতারও অংশীদার হয়েছিলো।  এটা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে।  দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লগ্ন, তারা সব-সময় দাবীটি জানিয়ে এসেছে।  তাই দাবীটি নতুন নয়।  এ-দাবীর সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত হয়েছে মাত্র।   দাবীটি নতুন কি পুরনো  তা বিবেচ্য নয়।  সত্যটা হচ্ছে - বাংলাদেশ যে-লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো, সেই ৭২-এর সংবিধানে সুস্পষ্ট বলা ছিলো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না।  ইসলামও এই বিষয়ে পরিষ্কার, সেখানেও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করার অবকাশ নেই।  সুতরাং কোন দল যদি ইসলামিক  আত্মপরিচয়ে নিজেদের জাহির করতে চায়, তাহলে ইসলামের পরিপ্রেক্ষিতে কিন্তু প্রশ্ন উঠে যায়।  সুতরাং আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলাম-সহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন অনাকাংখিত।  গণতন্ত্র বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।  সেটা ধর্মেরই হোক বা রাজনীতিরই হোক।  যদি কোন না কোনভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হয় এবং সেই দলটি যদি কোন এক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন হয় তা হলে কি গণতান্ত্রিক আদর্শ অটুট থাকবে? আমার বিচারে অবশ্যই নয়।  সুতরাং গণতন্ত্রের স্বার্থেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকা উচিত

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম দেখা যাচ্ছেনা।  এ-প্রসঙ্গে ডঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, দুর্নীতি-বিরোধী কার্যক্রম বর্তমান সরকারের উজ্জ্বল দিক।  বিগত সময়ে বাংলাদেশ পর-পর ৫ বার দুর্নীতির শীর্ষে ছিল।  সেটি ছিলো আমাদের জাতীয় জীবনের দুঃখজনক ঘটনা।  সুতরাং এ-পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী কার্যক্রমকে স্বাগত জানাতে হয়।  কিন্তু এ-কার্যক্রমে একটি দুঃখজনক ঘটনা আমরা লক্ষ্য

করছি।  আমরা দেখছি বড়ো দুটো রাজনৈতিক দলের অনেক শীর্ষ নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছেতাদেরকে অভিযুক্ত করবার আইনী প্রক্রিয়াও চলছে।  কিন্তু ধর্মভিত্তিক দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বড়ো ধরণের কোন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার দাঁড় করাননি।  দুই-একটি ক্ষেত্রে হয়তো জামায়াতে ইসলামীর দুই-একজন নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।  কিন্তু সেটি আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মনে হয়নি।  সরকারের উচিত নিজেদের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীর দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার করা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পাঠ্যপুস্তকে সঠিকভাবে বর্ণিত হয়েছে কি-না এবং পাঠক্রমে তার সঠিক চর্চা কতটুকু হচ্ছে।  প্রশ্নের উত্তরে  অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে ইতিহাসের উপরে রাজনীতি চড়াও হয়েছে।  যখন যে-দল ক্ষমতায় থেকেছে, সে-দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে বিগত ৩৬ বছর পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃত হয়েছে।  তার ফলে ইতিহাসও বিকৃত হয়েছে।  এ-অভিজ্ঞতা খুবই বেদনাদায়ক।  বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ-বিকৃতিগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এটাকে অবশ্যই অভিনন্দন জানানো যায়।  তবে এখানেও ঘাটতি আছে।  শোধরানোর কাজটি যারা করেছেন তারা সকলেই প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি।  তাদের কর্মকে অবমূল্যায়ন না করেই বলবো এ ধরণের কাজে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা উচিত।  সেটা হয়নি।  কাজেই যে-ত্রুটি শোধরানো হয়েছে, সেটা  ত্রুটিমুক্ত কি-না, সে বিষয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।  অর্থাৎ উদ্যোগটি হয়েছে অর্ধ-উদ্যোগ, সম্পূর্ণ নয়

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা বিজয়ের চেতনা কিভাবে কতটুকু ধারণ করছে? এ বিষয়ে ডঃ আনোয়ার বলেন, ১৯৭১-এর ১৬ই  ডিসেম্বর আমরা জয়ী হয়েছিলাম।  সে বিষয়ে দ্বিমত নেই।  তারপর থেকে আমরা হারতে শুরু করেছি।  অর্থাৎ ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ডাক আর ১৬ই  ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল সে অঙ্গীকারের প্রতি আমরা নিবেদিত  থাকিনি।  বিগত ৩৬ বছরে বাংলাদেশ ৭১-এর বাংলাদেশের বিপরীতে হেঁটেছেআমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গা থেকে সরে এসেছি।  সবচেয়ে যা পীড়াদায়ক, তা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের রাষ্ট্র-ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।   সাম্প্রদায়িক মহল এদেশে রাজনীতি করছে।  কাজেই ২০০৭-এর বাংলাদেশ ১৯৭১-এর কথা বলে না

বর্তমানে দেশে একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে।  দীর্ঘদিন জরুরী অবস্থা বহাল আছে মুক্তচিন্তা এক প্রকার বন্ধ।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এই অবস্থা কতটুকু আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক? এ- প্রসঙ্গে ডঃ আনোয়ার বলেন, অনির্বাচিত সরকার বেশীদিন ক্ষমতায় থাকলে সমালোচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান বা  সংবিধানের রীতিনীতি কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে সেটাও একটা প্রশ্ন।  বাংলাদেশকে অনেকগুলো অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে বর্তমানে আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্যে আছি তা কাঙ্খিত নয়।  তবে সরকার যদি একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে অনেক বিতর্ক থেকে তারা মুক্ত হবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করাটা কঠিন।  যা সম্ভব সেটা হচ্ছে সন্তোষজনক নির্বাচনের আয়োজন করাযার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ সম্ভব হবে।  এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া। 

আপলৌডঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৭

   

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.