|
বিজয় দিবস সংখ্যা ২০০৮
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার পথে বাঁধা এসেছে
-
আব্দুল্লাহ আল নোমান
আব্দুল্লাহ
আল নোমান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭১ সালে ছিলেন যুদ্ধের
ময়দানে - তখন তিনি সবেমাত্র ছাত্র ইউনিয়ন থেকে কমিউনিস্ট পার্টিতে কাজ শুরু করেছেন।
ইউকেবেঙ্গলির সাথে তিনি
কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
দেশ-গঠন,
বিএনপির সাথে জামাতের বুঝাপড়া-সহ নানান প্রসঙ্গে।
ঢাকায় সাক্ষাতকারটি
নিয়েছেন পার্থ সারথী দাশ।
ইউকেবেঙ্গলিঃ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার কতদূরে বা কাছে অবস্থান করছে
বাংলাদেশ?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আরও দূর যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের
¯^vaxbZvi
জন্য আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির
জন্য একটি পতাকার জন্য
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম
দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি।
নানা প্রতিকূলতার কারণে
কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছুতে পারিনি।
অতীতে আমাদের অনেক ভুল
ছিলো,
এসব ভুল থেকে ভবিষ্যতে আমাদের
শিক্ষা নিতে হবে।
তবে একই সাথে খেয়াল রাখা দরকার
যে-দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাটা যেনো প্রধান বিষয় হয়।
এতো কষ্টের স্বাধীনতা
কোন কাজে আসবে না যদি তা
কোন মহলের দ্বারা কোন পরাশক্তির হাতে চলে যায়।
আমরা একটা ভূখণ্ড
পেয়েছি, এবার আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হবে।
ইউকেবেঙ্গলিঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ-গঠন করা গেলো না কেনো?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ এর জন্য দায়ী স্বাধীনতার পরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল।
তারাই মুক্তিযুদ্ধের
চেতনায় দেশ গড়তে দেয়নি।
ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
থেকে দেশ সরে গেছে।
তবে সামগ্রিকভাবে দেখলে
দেখা যাবে যে-বাংলাদেশ একটা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য লড়াই করছে।
তবে এটা হতে হবে
গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে।
কোন অগণতান্ত্রিক সরকার
পরাশক্তির কথামত চলে দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দিতে পারবে না।
ইউকেবেঙ্গলিকঃ যারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান
নিয়েছিলো, সে-সব রাজাকার আল-বদর আল-শামসদের
নিয়ে আপনার দল সরকার গঠন করছে।
একজন
মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আপনার কেমন লেগেছে?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দল করি।
শহীদ জিয়া আমার আদর্শ।
জিয়াউর রহমান নিজেও একজন
মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়
জাতিকে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে আদর্শের সাথে
মাঝে-মাঝে কৌশলও গ্রহণ করতে হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও
১৯৯৬ সালে জামায়েতের সাথে গোপন আঁতাত করেছিলো।
২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারীর
বাতিল হওয়া নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে ৫-দফা চুক্তিও করেছিলো।
এখন আবার সাবেক
স্বৈরশাসককে নিয়ে মহাজোট করেছে।
এর ফলে কি দলটির
মুক্তিযুদ্ধের প্রতি যে-ভাবাদর্শ, তা কি পরিবর্তন হয়ে গেছে?
হয়নি।
এটা ভৌটের কৌশল।
এটা এবার আওয়ামী লীগ
খোলামেলা করে বলেছে।
আমরা
জাতীয়তাবাদী শক্তি।
সকল ধর্মের প্রতি আমাদের
সমান শ্রদ্ধা রয়েছে।
তবে সাম্প্রদায়িক
দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা বিশ্বাস করি না এবং আমাদের দলের মেনিফেস্টৌতেও তা নেই।
ইউকেবেঙ্গলঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের
পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলো কেনো ব্যর্থ হচ্ছে?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে অর্থনৈতিক মুক্তি এবং স্বনির্ভর
বাংলদেশ।
সেই বাংলাদেশ গড়তে বারবার আমরা
ব্যর্থ হয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার
পথে বাধা এসেছে।
এ-বাধাগুলো বরাবরই পরাশক্তির
কাছ থেকে এসেছে,
যারা চায় না বাংলাদেশ একটি
স্বাধীন-স্বনির্ভর দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিক।
দেশী-বিদেশী যড়যন্ত্রীরা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে।
তাদের একক টার্গেটে
পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি।
ইউকেবেঙ্গলিঃ জেনারেল এরশাদের সাথে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির সাথে মৌলবাদী জামাতের
আঁতাতকে কীভাবে দেখেন?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ আমি এ-প্রশ্নের প্রায় সমার্থক উত্তর আগেই দিয়েছি।
প্রত্যেক দলই সরকার গঠন
করতে চায়।
আমরা ভালো-ভালো কথা বললাম
কিন্তু সরকার গঠন করতে পারলাম না,
তা কোন কাজের কাজ হবে না।
দেশ ও জনগণের কল্যাণে
কাজ করতে হলে সরকার গঠন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ যেমন
স্বৈরাচারীর সাথে জোট করেছে,
আমরাও জামায়ত ইসলামীর
সাথে জোট করেছি।
কিন্তু প্রত্যেক দলেরইতো নিজস্ব
এাজেন্ডা
থাকে, সেটা তারা বাস্তবায়ন করতে চায়।
এখন দেখতে হবে সেই
এাজেন্ডা
বাস্তবায়নে আমাদের দল কোন গড়িমসি করছে কি-না।
ইউকেবেঙ্গলিঃ এ-বিজয় দিবসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ
আরও একটি জন্মদিন অতিক্রম করবে,
আগামী দিনের
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভবিষাৎ
কি?
আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ আমরা বাংলাদেশকে একটি সুখী-সুন্দর দেশ হিসাবে বিশ্বের সামনে
তুলে ধরতে চাই।
যেখানে শিল্পায়ন,
গতিশীল কৃষি আর
প্রযুক্তির উৎকর্ষ থাকবে।
পরাশক্তির কোন যড়যন্ত্র
সফল হবে না।
এ-দেশ অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে
যাবে।
আপলৌডঃ ১৬
ডিসেম্বর ২০০৮ |