|
টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ
আন্দোলনের
বৈঠক অনুষ্ঠিতঃ
কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা
ভারতের
মনিপুর রাজ্যে নির্মিতব্য টিপাইমুখ বাঁধের ধ্বংসাত্মক অভিঘাত থেকে বাংলাদেশকে
রক্ষার জন্য বাঁধ-প্রতিরোধী কর্মপন্থা
নির্ধারণের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ও
তৎপর টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ
আন্দোলনের একটি বৈঠক গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্বলন্ডনের
৪৬/এ গ্রেটোরেক্স স্ট্রীটে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের
আহবায়ক মাসুদ রানা উপস্থিত সদস্যদেরকে জানান যে, ভারত-সরকার নতুন করে ও নতুন নামে
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য
পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মানুষের মধ্য ভীষণ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-সিলেটে মানুষ
রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে। লন্ডনের বাঙালী কমিউনিটীর মধ্যেও কিছু একটা করার উদ্যোগ
লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ-পরিস্থিতিতে
ব্যাপক মানুষকে সাথে নিয়ে কীভাবে একটি কার্যকরী
আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে বৈঠক বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং
‘টিপাইমুখ
বাঁধ প্রতিরোধ আন্দোলন’
শিরোনামে নিম্ন-লিখিত
পন্থায়
ব্যাপক ক্যাম্পেইন গড়ে তোলার বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়ঃ
(১)
গণ-মাধ্যমগুলোতে লেখা-লেখি, তথ্য প্রকাশ, সাক্ষাৎকার ও টকশৌর মাধ্যমে
টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে গণ-সচেতনতা গড়ে তোলা।
(২)
টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বন্ধের দাবীতে গণ-স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ভারত, বাংলাদেশ, ও
যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও যথাযথঃ আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহের কাছে পাঠানো।
(৩) হাউস
অফ কমন্সে টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়টি উত্থাপনের লক্ষ্যে স্থানীয় এমপিদের কাছে একটি
স্ট্যান্ডার্ড চিঠি লেখার জন্য যুক্তরাজ্যের সর্বত্র বাঙালী কমিউনিটির লোক-জনদের
উৎসাহিত করা। চিঠির ভাষ্য পত্রিকায় প্রকাশ করে
কপি করার জন্য সবার কাছে সহজলভ্য করা।
(৪)
টিপাইমুখ বাঁধ
প্রকল্প বন্ধের দাবীতে লন্ডনে ভারতীয় হাই-কমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা
ও হাই-কমিশনারের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি পাঠানো।
(৫)
বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থে আপোষহীনভাবে আন্তার্জাতিক পর্যায়ে তৎপর হবার জন্য
বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে
সমাবেশ করা হাই-কমিশনারের মাধ্যম প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি পাঠানো।
(৬)
টিপাইমুখ বাঁধ
প্রকল্প বন্ধের জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের
উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ১০ ডাউনিং স্ট্রীটের বাড়ীর সামনে সমাবেশ ও স্মারকলিপি
দেয়া।
(৭)
ইউরৌপের অন্যান্য দেশ-সহ পৃথিবীর দেশে-দেশে বাঙালীদেরকে একই পন্থায় আন্দোলন গড়ে
তোলার জন্য উৎসাহিত করা ।
(৮)
টিপাইমুখ বাঁধ
প্রকল্প বন্ধের দাবীতে বাংলাদেশে
ও ভারতে চলমান আন্দোলনকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা।
(৯)
টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান সংগঠিত বিস্তৃত করা লক্ষ্যে
সেমিনার-সিম্পোজিয়ার আয়োজন করা।
(১০)
টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য লন্ডনে একটি মহা-সমাবেশ
অনুষ্ঠিত করা এবং এ-লক্ষ্যে আন্দোলনকারী শক্তিসমূহকে একটী ধর্ম-নিরপেক্ষ ও
গণতান্ত্রিক সংগঠনের আওতায় সংগঠিত করা।
আপলৌডঃ ২৭ মে ২০০৯ |