|
সেলিম রেজা নিউটনের কলামঃ আট
স্বৈরতান্ত্রিক
গণতন্ত্রঃ
দুষ্টের দমন,
শিষ্টের পালন
[গত আগস্টে
সেনাবাহিনীর হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে গড়ে
ওঠা আন্দোলনে যুক্ত হবার কারণে কয়েকজন সহকর্মী-সহ জেইলে যেতে হয়েছিলো রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রাক্তন
চেয়ারপার্সন সেলিম রেজা নিউটনকে।
কয়েক
মাস কারাভোগের পরে নানা-ধরণের রাষ্ট্রিক সন্ত্রাসের ঝক্কি পেরিয়ে সহকর্মীদের সাথে
মুক্তি লাভ করেন তিনি।
ক্যাম্পাসে ফিরে এসে জেইল-জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে নিজের ভাবনাকে মিলিয়ে লিখতে শুরু
করেন সেলিম রেজা নিউট১ন।
ইউকেবেঙ্গলি প্রকাশ করতে
শুরু
করেছে সেলিম রেজা নিউটনের জেল থেকে বেরিয়ে
আসার পরবর্তী পর্যায়ের লেখাগুলো।
সম্পাদক।
]
আইনের
শাসনের ব্যানারে জরুরী জমানার সরকার বাহাদুর যে-'দুর্নীতি
দমন'
অভিযান চালাচ্ছেন,
সে-অভিযানে বাস্তবে
কিন্তু 'আইনের
শাসন'
বলে শনাক্ত করা যাচ্ছে বিশেষ
রকম দুষ্টের দমন আর বিশেষ রকম শিষ্টের পালনকে।
দুষ্ট মানে যারা দেশের
সম্পদ নিজের ব্যক্তিগত পকেটে ভরেন,
লুট করেন,
আর অপছন্দের লোকদের ওপর
নিপীড়ন চালান,
মানে সত্যিকারের দুষ্টু,
যথাঃ তারেক রহমান।
আবার,
দুষ্ট মানে মানুষের
অধিকার,
মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করার
জন্য যারা শাসকদের অন্যায় আচরণ ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুস্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করেন,
মানে রাষ্ট্রকথিত
মিথ্যাকারের দুষ্টু,
যথা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন
প্রমুখ।
রাষ্ট্রের যখন-যারা
হর্তা-কর্তা-বিধাতা থাকেন,
তাঁরা বিদেশী বহুজাতিক
বাণিজ্য-সঙ্ঘের সঙ্গে চুক্তির তরফে দেশের সম্পদ গাপ করে দিলেও এবং সুশাসন
প্রতিষ্ঠার নামে মধুপুরের আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিলকে নির্মমভাবে নিপীড়ন ও খুন করলেও
বা নাটোরের দেবরাজের মতো উজ্জ্বল যুবককে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে পাঁচ মাস জেলের
জুলুমে বন্দী রাখলেও রাষ্ট্রের চোখে
'দুষ্ট'
বলে বিবেচিত হন না।
আর,
শিষ্ট কারা?
শিষ্ট মানে শাসকদের
অনুগত,
শাসকদের আত্মীয়,
যাঁরা শাসকবর্গের গান
নিজের-নিজেদের মাইক ও মিডিয়ায় পরিবেশন করেন,
যথা মান্নান ভূঁইয়া,
ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী।
শিষ্ট মানে যাঁরা
লেখালেখি ও টক শো'র
মাধ্যমে সরকারের সাথে নানান কৌশলগত ও ইস্যুগত প্রশ্নে দ্বিমত পোষণ করলেও,
বা একেবারে গোড়ার নীতিগত
প্রশ্নে শাসকবর্গের সঙ্গে এক পাটাতনেই অবস্থান করেন,
যথা সুশীল সমাজের ও
মহাজনী মিডিয়ার তালিকাভুক্ত তারকা-বুদ্ধিজীবীবৃন্দ।
এ-পাটাতন-পার্টনারশিপের
আমি
কথা অন্যত্র বলেছি।
তো,
এ-ঐকতানমূলক
পাটাতন-পার্টনারশিপ কর্তৃক পরিচালিত গোটা কর্মকাণ্ডেরই অন্যতম ডাকনাম দেওয়া হলো
গিয়ে আইনের শাসন।
শুরু হলো আইনের শাসন কায়েম করার
পক্ষে মিডিয়া-মাইকিং,
কানাকে হাইকৌর্ট দেখানোর
কাহিনী।
জনগণ কানা না-হলে তাদেরকে
হাইকৌর্ট দেখিয়ে সুবিধা হয় না।
ইতিহাসের দিক থেকে
বঞ্চিত ও পরাজিত হওয়ার কারণে তো গণমানুষ অনেক বিষয়ে এক প্রকার কানা হয়েই আছে।
আইনের ডেইলী সৌপ
অপেরাসমূহের নায়ক-ভিলেন-ক্লাইম্যাক্স-সাসপেন্স-কমেডী-ট্র্যাজেডী-ইত্যাদি-প্রভৃতির
একেবারে সমস্তটা জনসাধারণ যেনো পরিপূর্ণভাবে দেখতে পায় ও হৃদয়ঙ্গম করে,
তার জন্য তাঁদেরকে
বাকিটুকু কানা করে দেওয়ার লক্ষ্যেই নবপর্যায়ের প্রচারণা-পর্ব সাজানো হলো।
প্রচারণা-প্রচারে এবং বিবিধ-মাত্রিক প্রহারে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে দেখা গেলো,
উপযুক্তভাবে আইনের শাসন
প্রতিষ্ঠিত হলে সেটা কোন মাত্রার রাষ্ট্রীয় জুলুম ডেকে আনতে পারে।
গত একটা বছর জুড়ে জরুরী
শাসনের দক্ষযজ্ঞ তার অকাট্য প্রমাণ।
বলতে গেলে, প্রত্যেকটা
মানুষ একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তার ঘাড়ের ওপর আইনের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস অনুভব করছেন।
অনুভূতিটা প্রীতিকর নয়।
নাগরিকদের সেবায় যে-কোনো
মুহূর্তে জেইল-জুলুমের সাদর আমন্ত্রণ-পত্র রাষ্ট্রপক্ষের হাতে সদাপ্রস্তুত আছে।
জেইলগুলোতে মানুষ আঁটছে
না।
ধারণ-ক্ষমতার কোথাও দ্বিগুণ
কোথাও ত্রিগুণ করে মানুষকে ধারণ করে আছেন আইনের সুপ্রাচীন ধারক জনাব কারাগার।
আইনের উপযুক্ত শাসন
কায়েম হলে এরকমই ঘটে।
গাদা-গাদা তথ্যমাধ্যম
থাকার পরও অনেকে জানতে পারেন না যে,
এ-জগতে সবচাইতে বেশি
জেলখানাওয়ালা দেশটির নাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
আইনের শাসন যেখানে
প্রশ্নাতীতভাবে কায়েম হয়েছে।
আইনের শাসনের একেবারে
গোড়ার আইডিয়াটা হচ্ছে,
পিটিয়ে ভয় দেখিয়ে বন্দী
করে সুপ্ত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে মানুষকে
'সুপথে'
রাখা।
এভাবে ছোটো বাচ্চাকেও
মানুষ বানানো যায় না।
হয় সে বখে যায়,
না-হয় সে চিন্তাশক্তি
বিচারবুদ্ধি আর স্বাধীনতার আলো হারিয়ে কর্তার অনুগত গোলামে পরিণত হয়,
আর পরিণামে অন্যের ওপর
গোলামী করতে থাকে।
মানুষ
তাহলে মানুষ থাকে কীসে?
এ-এক বছরে এ-প্রশ্নটা
পর্যন্ত কেউ তোলেননি।
কিংবা,
একটা গণতান্ত্রিক দেশের
সংবিধানে খোদ জরুরী আইনের মতো কালাকানুন আদৌ সন্নিবেশিত থাকবে কেনো,
সে-বিষয়ে প্রশ্ন তোলা তো
দূরের কথা,
সামান্য সংশয়ও অনুভব করেননি
মহাজনী মিডিয়ার তালিকাভুক্ত এ-বিশিষ্ট শিষ্ট বুদ্ধিজীবীবৃন্দ।
ভাবখানা এমন,
জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব
হলে তো জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতেই হবে,
অন্য কী উপায়?
২০০৭-এর পয়লা জানুয়ারীর
আগে-আগে যে-রকম মারাত্মক ধ্বংসাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো,
তাতে জরুরী অবস্থা জারীই
তো পথ,
তাই না?
এ-হচ্ছে বিশেষভাবে শিষ্ট
যুক্তি।
কিন্তু মিডিয়া-মহারথী
'এক্সপার্ট'দের
প্রচারণা ও শোনা-কথার বাইরে গিয়ে সামান্য একটু ভাবলেও বুঝা যাবে,
রাষ্ট্রীয় জরুরী সঙ্কটের
সময়,
এমনকি ভয়ানক যুদ্ধের সময়ও,
সারাদেশের সমস্ত মানুষের
সক্রিয় অটুট ঐক্যই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে রক্ষা করার একমাত্র উপায়।
এই এক বছরের জরুরী
অবস্থা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে,
রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ
বলপ্রয়োগের বৈধতা প্রদান করা ছাড়া জরুরী আইন জারীর অন্য বিশেষ কোনো উপকার নাই।
আর,
এ-নিরঙ্কুশ বলপ্রয়োগের
ক্ষমতা আর যা-ই হোক, জনগণের পক্ষে ব্যবহৃত হয় না,
সেটা আমাদের এ-এক বছরের
জরুরী অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে বোধগম্য।
সবচেয়ে বড়ো কথা,
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে
নাগরিকদের ওপর বলপ্রয়োগের যে-কোনো পন্থা-পদ্ধতি অবৈধ।
সুতরাং,
যে-সংবিধান নিজেকে
গণতান্ত্রিক বলে দাবী করে,
তাতে জরুরী আইন জারী
করার মতো মানবাধিকার-বিরোধী কালাকানুন সন্নিবেশিত থাকতে পারে না।
গায়ের জোরে মানুষের
মঙ্গল সাধন করা যায় না,
এ-কথা পাগল এবং শিশুর
পক্ষেও বুঝা সম্ভব।
বল-প্রয়োগের
ভিত্তিতে
নয়,
মানুষের উন্নত নীতি-বোধের অটল
ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা-সহযোগিতা-সংহতি-সৃশজনশীলতার শক্তিতে রাষ্ট্র
পরিচালনা করার মতো দূরদৃষ্টি কারও আছে বলেও তো মনে হয় না।
জরুরী অবস্থার এক বছর
ধরে বহু কামান দেগে সব মিলিয়ে দাঁড়ালোটা কী?
সবচাইতে বড়ো
গোলন্দাজ-ব্যারিস্টার নিজেই সবান্ধব বিদায় হয়েছেন।
আরও এক বছর ধরে ভালো
মানুষদের জরুরী শাসন চলার পর সবচেয়ে ভালো অবস্থা কী দাঁড়াবে?
যে-সব সংস্কার হয়েছে,
তা কী করে অপরিবর্তনীয়
রাখা যাবে?
কোনো কিছুই অপরিবর্তনীয় রাখা
যায় না।
আপনারা ভাবছেন ভেবেচিন্তে
ভবিষ্যতে রাজনীতিকদের হাত-পা বেঁধে দেবেন?
তা সম্ভব নয়।
এক ধরণের সমঝোতার ভিতরে
আসতে হবে।
আইন করে যে-সমস্যার সমাধান হয়
না,
তা আপনারা ভালো করেই জানেন।
(মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান,
'সুষ্ঠু
নির্বাচন হলেই কেবল সরকার প্রথম শ্রেণী পাবে'
প্রথম
আলো বিশেষ সাক্ষাৎকার,
বাঁকা
হরফ সাক্ষাৎকারগ্রহীতার প্রশ্ন,
সাক্ষাৎকার গ্রহণে প্রথম আলো'র
সহযোগী সম্পাদক মিজানুর রহমান খান,
প্রথম আলো,
পৃষ্ঠা ৮,
১১ই
জানুয়ারী,
২০০৮)
শুধু তাই
নয়,
এক বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর
সস্ত্রীক শ্রাদ্ধ করার পর আবার সেই থোর-বড়ি-খাড়া আওয়ামী লীগ,
বিএনপি আর জাতীয় পার্টি।
(সাত কাণ্ড রামায়ণ পড়ে
সীতা রামের মাসি!) এখন সামনে বাকি আছে ৯-১০ মাস।,
সর্বোচ্চ ধরেন ১১ মাস,
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ,
বিএনপি,
জাতীয় পার্টিকে কীভাবে
আমরা বিশুদ্ধ করবো?
পরিশুদ্ধ কররো?
এটা আমার-আপনার কাজ নয়।
আপনাকে-আমাকে দিয়ে এটা
সম্ভবও নয়।
তো আমরা প্রচার করবো,
আমাদের কথা আমরা বলতে
থাকবো।
যদি কখনও দলের নেতৃত্বের মধ্যে,
কর্মীদের মধ্যে,
মানুষের মধ্যে বোধোদয় হয়।
না হলে,
এই নিপীড়ন,
সন্ত্রাস,
দুর্নীতি,
কালো টাকার মালিকদের
অত্যাচার নির্যাতনের মধ্যে আমাদের থাকতে হবে।
আর কিছুই করার নেই
আমাদের।
এটা তো হতাশাব্যঞ্জক।
এটা তো হতাশারই কথা।
(মতিউর রহমান,
উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা জরুরী,
এটিএন
বাংলার লিড নিউজ বাঁকা হরফ সাক্ষাৎকারগ্রহীতার প্রশ্ন,
সাক্ষাৎকার গ্রহণে এটিএন বাংলার প্রধান বার্তা সম্পাদক জই মামুন,
প্রথম আলো,
পৃষ্ঠা ৯,
৯ই
জানুয়ারী ২০০৮)
।
কী করুণ
অবস্থা! সমঝোতা ছাড়া যদি পথই না থাকে,
আইন করে যদি সমস্যার
সমাধানই না হয়,
শুধুমাত্র প্রচার করে বোধোদয়ের
অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই যদি করার না থাকে,
তাহলে এ-সুদীর্ঘ এক বছর
ধরে সারা দেশের সমস্ত মানুষের ওপর দিয়ে অভাব-আতঙ্ক-অত্যাচারের স্টীম রোলার চালানোকে
এতো সোৎসাহে সমর্থন করতে গেলো কেনো,
সুশীল সমাজ! তার মানে
গামছা দিয়ে হাত-পা-মুখ বেঁধে গায়ের জোরে গেরস্থের কল্যাণ করার নীতি ভুল ছিলো।
আর,আপনি
যদি বলেন,
না,
ভুল ছিলো না,
স্টীম-রোলার না-চালালে
রাজনৈতিক দলগুলোকে সোজা করা যেতো না,
তাহলে তো ভবিষ্যতেও
রাজনৈতিক দলগুলোকে সোজা রাখার জন্য নিপীড়নের সিস্টেম বানিয়ে রাখতে হবে,
নইলে রাজনৈতিক দলগুলোকে
আগের জায়গায় ফেরত যেতে না-দেওয়ার অন্য উপায় কী?
তাহলে কি সেরকম একটা
নিপীড়নের দীর্ঘমেয়াদী সিস্টেম যেনো থাকে, সে-ব্যবস্থারই আয়োজন চলছে?
সে-রকম কোনো আয়োজন দিয়ে,
সুপ্ত বা প্রচ্ছন্ন
ত্রাসের রাজত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশের জনগণের অমঙ্গল ছাড়া কিছুই সাধিত হবে না।
ডান-বাম-উত্তম-মধ্যম রাজনৈতিক দল,
বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়
এবং হরেক রকম সুশীল প্রতিষ্ঠান মিলেও যখন বছরের পর বছর ধরে গণতন্ত্রের সঙ্কট এড়ানো
গেলো না,
শেষ পর্যন্ত অক্টোবর-মহাসংকটের
মাৎস্যন্যায় পর্ব এসে হাজির হলো,
তখন যখন সেনাবাহিনী
হস্তক্ষেপ করে জরুরী অবস্থা জারী করালো,
তখন সেনাবাহিনীকে
দোষারোপ করার কোনো সুযোগই ছিলো না,
এটাই রূঢ় সত্য।
আপাত অর্থে আওয়ামী লীগ
বিএনপি জামায়াত জাতীয় পার্টির হিংস্রতার হাত থেকে তাৎক্ষণিক নিষ্কৃতিই পাওয়া
গিয়েছিলো,
সন্দেহ নাই।
কিন্তু জরুরী অবস্থাকে
মহিমান্বতি করারও কোনো সুযোগ ছিলো না।
বরঞ্চ,
স্বৈরতান্ত্রিক দলগুলোর রাক্ষসতন্ত্রের জুলুম থেকে তাৎক্ষণিক নিষ্কৃতি পেতে গিয়ে
রাষ্ট্রের অধিকতর কর্তৃত্বপরায়ন স্বৈরতন্ত্র হয়ে ওঠার বিপজ্জনক বাস্তবতাকে আমাদের
সুশীল সমাজের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা হিসেবের মধ্যে নেননি।
এভাবে স্বৈরতান্ত্রিক
দাওয়াই দিয়ে গণতন্ত্র হয় না।
গণতন্ত্রের কোনো শর্টকাট
রাস্তা নাই।
গণতন্ত্র অর্জন করার পথ শুধু
গণতন্ত্রই,
তাতে যত দুঃখকষ্টই আসুক না কেনো।
মুক্তিমুখীন
সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ও সাহিত্যের সাথে আমাদের তারকা বুদ্ধিজীবীদের পরিচয়
থাকলে,
অথবা নিদেনপক্ষে বাস্তবতা
সম্পর্কে স্বাধীন সাধারণ জ্ঞান থাকলে,
জরুরী অবস্থাকে তাঁরা আর
যাই হোক মহিমান্বিত করা চেষ্টা করতেন না।
(রচনাটি
লেখকের প্রকাশিতব্য,
কারাগারের স্বাধীনতা সৃজনশীলতা
গ্রন্থের একটি অংশ।)
আপলৌডঃ ২৪ জুন,
২০০৮ |