|
সঙ্কট
সংলাপ
ও অনিশ্চয়তা
চিররঞ্জন সরকার
সন্দেহ, সংশয় আর অনিশ্চয়তায়
দোলাচলে দুলছে দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ।
দেশে কী হবে, বা কী হতে
যাচ্ছে, এ-ব্যাপারে বর্তমানে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক
সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জনগণের মধ্যে যে-আস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো, তা
ক্রমান্বয়ে ফিকে হয়ে
আসছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারে
অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি-দমনে ব্যর্থতা, নির্বাচনী রৌডম্যাপ বাস্তবায়নে সংশয়,
সিদ্ধান্ত-গ্রহণে সরকারের দোদুল্যমানতা এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত
রৌডম্যাপ অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যতোই গ্যারান্টী দেয়া
হচ্ছে, জনমনে সন্দেহ ততোই ঘনীভূত হচ্ছে।
দেশকে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নিতে
অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত
বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগকে জনগণ
স্বাগত জানিয়েছিলো।
কিন্তু বাস্তবে
এ-সংস্কার উদ্যোগ পুরোটাই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
বিএনপিকে ভাঙার
প্রচেষ্টা হিতে বিপরীত হয়েছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগকে
ভাঙার প্রয়াস বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে সমর্থ হলেও তা কার্যতঃ ব্যর্থ হয়েছে।
এ-পরিস্থিতিতে নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হলে এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মূলধারা নির্বাচনে অংশ না নিলে, তা জনগণের
কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এনিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াতকে নির্বাচনে
অযোগ্য ঘোষণার গণদাবী বাস্তবায়নে অনীহা, ডঃ কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, সংস্কারপন্থী
বিএনপি, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর পিডিপি ও নতুন কিছু দলকে নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা
বিরাজমান সন্দেহকে আরো ঘনীভূত করেছে।
একইসঙ্গে দ্রব্যমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি, অনির্বাচিত সরকার হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে দেশের তেল-গ্যাসের মতো
জাতীয় সম্পদ নিয়ে বিদেশী কোম্পানীগুলোর সঙ্গে অক্টোবরের মধ্যে চুক্তির সিদ্ধান্ত
সরকারের সততা উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও সেনা
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের ঘোষণাকে ঘিরে সেনাবাহিনী
সামনে চলে আসার বিষয়টিকেও বিশ্লেষকরা সন্দেহের চোখে দেখছেন।
সংলাপঃ চাপের মুখে
সরকার
বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে
গণতন্ত্রে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহুল আলোচিত
সংলাপের বিষয়টি নিয়েও চলছে সন্দেহ ও সংশয়।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি
দলের সঙ্গে সরকারের প্রাক-সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত সংলাপের কোনো এজেন্ডা এখনও
নির্ধারিত হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের কাছে
কী দাবী তুলবে, কতোটুকু সহযোগিতার অঙ্গীকার করবে, সরকারই বা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে
কতটুকু কী আশা করবে, কোন পক্ষ কতটুকু ছাড় দিবে, এসব বিষয় মোটেও স্পষ্ট নয়।
তবে এ-সংলাপ
ইস্যুতে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
সব দল
বলছে, বল
এখন সরকারের কৌর্টে।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
ও জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারকেই আনুষ্ঠানিক সংলাপে
রাজনৈতিক সংকটের সমাধান দিতে হবে।
আওয়ামী লীগ-বিএনপির
সঙ্গে সমঝোতা করলেই সংলাপের সাফল্য ষোল আনা।
জাতীয় নির্বাচনে বড়ো দুই
দলসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের সামনে ওয়ানওয়ে।
সংলালের মাধ্যমে
রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান ব্যর্থ হলে রাজনীতি অনিবার্যভাবেই সংঘাতের পথে যাবে,
মহাসঙ্কটের মুখোমুখি হবে দেশ - যা কারও কাম্য নয়।
এমনকি নেতারা বলেছেন,
সংলাপ ব্যর্থ হলে সরকার, নির্বাচন কমিশনম, রৌডম্যাপ সব তামাদি হয়ে যাবে।
১৫ মাসে সরকারকে জনগণের মনোভাব
ধারণ করেই তা করতে হবে।
এখন জনগণের কাছে
দুর্নীতির বদলে দ্রব্যমূল্য নাম্বার
ওয়ান ইস্যু।
৭ এপ্রিল রেইল ভবনে
সরকারের ৫ উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের ৪ নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করার মধ্য দিয়ে
প্রাক-সংলাপ শুরু করেন।
ওই সংলাপ নিয়ে আওয়ামী
লীগ হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ হলে, তারা দ্বিতীয় দফা আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদের সঙ্গে
প্রকাশ্যে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা-মেঘনায় ৫ উপদেষ্টা একে-একে জাতীয়
পার্টি, জামায়াত, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, বিএনপি সংস্কারপন্থী,
বিকল্পধারা, পিডিপি, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ইউপিআর, ইউনিয়ন পরিষদ ঐক্যজোট, নারী
সংগঠন, ব্যবসায়ী, এমনকি সোমবার খালেদা জিয়াপন্থী বিএনপিসহ ২২টি রাজনৈতিক
দল ও ৩টি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের ৫ উপদেষ্টা
২১ দিনের প্রাক-সংলাপ শেষ করেন।
প্রাক-সংলাপে সরকারের
উপদেষ্টারা কথা বলেছেন কম, রাজনীতিবিদদের বক্তব্য শুনেছেন বেশি।
তারা নোট নিয়েছেন।
কখনও কখনও রাজনীতিতে
গুণগত পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ইস্যুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রাক-সংলাপের
পোস্টমর্টেম করলে দেখা যায়, প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব ছিলো অভিন্ন।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও
জামায়াত দুই নেত্রীর মুক্তি দাবীকরেছে।
এছাড়া সবাই বলেছেন,
জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, দ্রব্যমূল্য কমানো, কেউ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার, কেউবা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচন নয়।
কেউ বলেছেন, জরুরী
অবস্থার মধ্যে উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন করা যাবে।
কোন কোন দল বলেছে,
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়া, ওয়ান-ইলেভেনের কার্যক্রম, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান
অব্যাহত রাখা, লাগাতার সংসদ বর্জন ও হরতাল-অবরোধের রাজনীতি পরিহার, স্বাধীন
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিরপেক্ষ প্রশাসন-সহ একটি চুক্তিনামায় সই করে রাজনৈতিক
দলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, যা ম্যাগনাকার্টা বলে চিহ্নিত হবে।
কোনো-কোনো নেতা বলেছেন,
প্রাক-সংলাপে উপদেষ্টাদের বক্তব্য পরিষ্কার ছিলো না।
প্রাক-সংলাপে সরকারের ৫
উপদেষ্টা নাকি মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন।
খুঁচিয়ে তাদের মুখ থেকে
কথা বের করতে হয়েছে।
যেমন- দুই নেত্রীর
মুক্তির ব্যাপারে তারা আশ্বাস না দিয়ে আইনের কথা বলে এড়িয়ে গেছেন।
এমনকি তারা রাজনীতিতে
গুণগত পরিবর্তনের কথা বললেও এ পরিবর্তনের ধরন কি তা খোলাসা করেননি।
তারা অর্থবহ নির্বাচন,
জনগণের আকাঙক্ষা পূরণ, সংলাপ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ
অব্যাহত রাখতে বলেছেন।
নেতাদের ধারণা, আনুষ্ঠানিক
সংলাপে তারা তা খোলাসা করবেন।
এ ক্ষেত্রে সরকারের
সিদ্ধান্ত হতে হবে পরিষ্কার।
রাজনৈতিক নেতারা মনে
করেন, কেউ ওয়ান-ইলেভেনের আগের জায়গায় ফিরতে রাজী নয়।
তবে এক্ষেত্রে সরকারকে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে জনগণের মানসিকতার ওপর নির্ভর করে।
বড়ো দলের নেতারা মনে
করেন, দেশকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে না চাইলে সরকারকে খোলামনে সিদ্ধান্ত নিয়ে
সংলাপ সফল করতে হবে।
এক্ষেত্রে কিছু
সিদ্ধান্ত সংলাপে নেয়া যায়, কিছু সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়া যায়।
রাজনৈতিক নেতাদের ভাষায়,
সরকারের প্রতি জনসমর্থনে এতোটাই ধ্বস নেমেছে যে, জনগণের আগ্রহ যেমন সংলাপ ঘিরে নেই,
তেমনি তারা নিজেরাও উল্লসিত নন।
এখন সংলাপ সফল করে
সরকারই পারে নতুন করে জনগণের আগ্রহ বাড়াতে।
মহাবিপর্যয়ের মুখে দেশ
ক্রমঃবর্ধমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস
সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান
সংকটকে খুব দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব না হলে রপ্তানি বাণিজ্য ও
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিপর্যয় অবধারিত।
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত
প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কিছু কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের কিস্তি খেলাপীর
খাতায় নাম লিখিয়েছে।
নতুন বিনিয়োগ থমকে
দাঁড়িয়েছে।
নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ারও
অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে।
দেশে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে
প্রায় ১০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪
হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অন্যতম উৎস হলো ব্যাংক ঋণ।
দেশের বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের শিল্প উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে এসব
শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
স্বাভাবিক নিয়মে এসব
প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় পর পর ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করে থাকে।
মূলত লাভের টাকা দিয়েই
কিস্তি পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু অতি সম্প্রতি
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাগাতার সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ইতিমধ্যেই অধিকাংশ শিল্প
প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশঙ্কা
করছেন যে, উৎপাদন ঘাটতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে শিল্পখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে
আসতে পারে।
তাতে বহু প্রতিষ্ঠান যেমন ঋণ
খেলাপী হয়ে পড়বে, তেমনি কাজ হারাতে পারে লাখ লাখ মানুষ।
এ-মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড়
রপ্তানি খাত হলো নিটওয়্যার।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৬০০ নিটওয়্যার ফ্যাক্টরীতে প্রায় ৯ লাখ লোক কাজ
করছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক গ্যাস ও
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে শতভাগ রপ্তানিমুখী এই খাত।
অধিকাংশ এলাকায়ই ১ ঘন্টা
বিদ্যুৎ থাকলে পরের ১ ঘন্টা থাকে না।
এই হিসাবে দিনে ২৪
ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে।
কিন্তু বার বার
বিদ্যুতের আসা-যাওয়াজনিত বিভ্রাটের কারণে উৎপাদনের বেলায় ক্ষতি হয় আরও বেশি।
এই বিভ্রাটের ফলে একদিকে
পণ্যের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী
(বায়ারের অর্ডার) অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিল্প
মালিকরা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
কিন্তু গ্যাস জেনারেটরের
জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের প্রয়োজন, বাস্তবে যা মিলছে না।
প্রায় দিনই সকাল ৮ টা
থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতোই কম থাকে যে, সেটা দিয়ে জেনারেটর কিংবা
বয়লার কোনটাই চালানো যায় না।
এছাড়া রাত ১১টা থেকে ২টা
পর্যন্ত গ্যাসের চাপ একদমই থাকে না।
ফলে ডায়ীং ইউনিটগুলো ওই
সময় বন্ধ থাকে।
এ-কারণে জেনারেটরের ওপরও নির্ভর
করা যাচ্ছে না।
কিছু-কিছু প্রতিষ্ঠানে ডিজেল
জেনারেটর রয়েছে।
কিন্তু ডিজেলের দাম অনেক বেশি
হওয়ায় উৎপাদন খরচও অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
তাছাড়া ডিজেল জেনারেটর
একটানা চালানো যায় না।
মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে
চালাতে হয়।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ ও
গ্যাসের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এভাবে কোনো রপ্তানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা
অসম্ভব ব্যাপার।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এ-যন্ত্রণা
দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে আনতে না পারলে বিপর্যয় অবধারিত।
কারণ, এ-অবস্থা চলতে
থাকলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সময় মতো শিপমেন্ট দেয়া যাবে না।
ব্যাপকভাবে এমনটি ঘটতে
থাকলে বিদেশী ক্রেতারা আমাদের ওপর আস্থা হারিয়ে অন্যদেশে চলে যাবে।
এর ফলে অত্যন্ত
প্রতিযোগিতামূলক তৈরী পোশাকের যে-আন্তর্জাতিক বাজার আছে, তা হাতছাড়া হয়ে পড়বে।
কমে যাবে রপ্তানি
বাণিজ্য।
সেই সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো
খুব দ্রুত ব্যাংকের কাছে কিস্তি খেলাপী হয়ে পড়বে।
এ-প্রবণতা বাড়তে থাকলে
বন্ধ হয়ে যাবে বহু প্রতিষ্ঠান।
আর প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে
স্বাভাবিকভাবেই কর্মহীন হয়ে পড়বে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে
শিল্পখাতের উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
জনজীবনও অতিষ্ঠ।
এই অবস্থা আগামী ২/৩ মাস
চলতে থাকলে শিল্প ও অর্থনীতিতে চরম ধ্বস নামবে।
গত প্রায় বছরে বিদ্যুৎ
উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
জোট সরকারের ৫ বছরে
জাতীয় গ্রীডে নতুন এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও যুক্ত হয়নি।
বর্তমান সরকার অসংখ্য
গুরুত্বহীন ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামালেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে মনোযোগী হয়নি।
অথচ যন্ত্র-প্রযুক্তি
নির্ভর বর্তমান সমাজে বিদ্যুতের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম
নাকাল দেশবাসী চায়,
কোনো ছল-চাতুরি নয়, সকল দলের
অংশগ্রহণে অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার
ক্ষমতা গ্রহণ করুক।
তারপর তারা দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রণ-সহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
দেশবাসী আসলে বর্তমান
দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়।
হাফ ছেড়ে বাঁচতে চায়।
এ লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক
সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।
এর ব্যত্যয় ঘটলে
দ্রব্যমূল্যের আগুনে পোড়া চরম ক্ষুব্ধ মানুষ যে কোনো মুহূর্তে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে
দিতে পারে।
চিররঞ্জন সরকারঃ
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
আপলৌডঃ ১৪
মে, ২০০৮
|