London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী

চিররঞ্জন সরকার

দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, বোদ্ধা, এমন-কি সুশীল সমাজ, সবাই বর্তমানে সরকারের কাছে অবিলম্বে নির্বাচন দাবী করছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডঃ আকবর আলি খান বলেছেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে আমাদের চাই রাজনৈতিক সরকার দেশের অর্থনীতিতে যে-খারাপ পরিস্থিতি চলছে, তা অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় রাজনীতিবিদরা অসৎ, দুর্ণীতিবাজ হলেও তারা দেশের উন্নয়নে কাজ করেন, জনগণের সুবিধার জন্য অর্থনীতিতে অবদান রাখেন তারা ম্যানেজ করতে পারেন তাই নির্বাচিত সরকারের সময় দেশে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা থাকে না রাজনীতিবিদদের গুণাবলী নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাদের হাতেই শাসনভার ছেড়ে দিতে হবে আর এটা যতো দ্রুত সম্ভব দেয়া হবে, অর্থনীতির জন্য তা ততোই মঙ্গলকর হবে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি, দেশের অর্থনীতিতে মন্দা, মূল্যস্ফীতি, পর্যাপ্ত সার ও বীজ সঙ্কট এবং বিদ্যুৎ সঙ্কটের ফলে এক নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে অনেক কৃষক এবার বোরো আবাদ ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন তাদের যুক্তি, চাষাবাদ খরচ ও উচ্চমূল্যের বীজ ব্যবহারের পরও সময়মতো সার ও সেচ সুবিধা না পাওয়ায় তাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে তাই তারা বোরো আবাদে গিয়ে আবারও ঝুঁকি নিতে রাজী নন ফলে, দেশে খাদ্য উৎপাদন কমছে আর বেশি দাম দিয়ে আমদানি করে সঙ্কট মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে মূল্যস্ফীতির জন্য অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী হতে পারে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে এ-পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে

১১ জানুয়ারীর জুজু

১১ জানুয়ারীর আগের বাংলাদেশে না ফেরার কথাটি ইদানীং উচ্চারিত হচ্ছে বার-বার প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা প্রায়ই জোর গলায় একথা উচ্চারণ করছেন কিন্তু জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ১১ জানুয়ারীর আগের বাংলাদেশ কি কোনো আইয়ামে জাহেলিয়াত ছিলো? তখন কি অর্থনীতির কোন প্রবৃদ্ধি ছিলো না? বাড়েনি রিজার্ভ? তাছাড়া আমরা কি সংবিধানে ফিরবো না? গণতন্ত্রে ফিরবো না? লেখার স্বাধীনতায় ফিরে যাবো না?

এ-কথা সত্য যে, মানুষ ১১ জানুয়ারীর পূর্ববর্তী মানুষ মারার সহিংসতা দেখতে চায় না মানুষ রাজনৈতিক হানাহানি-দ্বন্দ্ব-সংঘাত-নৈরাজ্য-ধ্বংসলীলা দেখতে চায় না রাজনীতির নামে খেয়োখেয়ি-মারামারি-মৃত্যুও দেখতে চায় না মানুষ কিন্তু ১১ জানুয়ারীর আগে চালের দাম কত ছিলো? তেলের দাম? অন্যান্য জিনিসের দাম, জীবন-যাত্রার ব্যয়? হিংসা চায় না মানুষ সত্য কিন্তু সহনীয় দ্রব্যমূল্যের সাবেকি জামানার জন্য অনেকের মধ্যে ইতিমধ্যেই হা-হুতাশ দেখা দিয়েছে সেটাও সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই জানা উচিত সম্প্রতি সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ বলেছেন, 'রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত হলেই জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদেরই ঠিক করতে হবে তারা কোন সংস্কার করবেন কারণ সংস্কার কখনও চাপিয়ে দিয়ে হয় না।' প্রধান উপদেষ্টার কথায় সু-উপলব্ধি আছে বাস্তবতার প্রতি স্বীকৃতি আছে সংস্কার যে-চাপিয়ে দিয়ে হয় না, এটা সরকারের সবাই যতো দ্রুত অনুধাবন করবেন, ততোই সকলের মঙ্গল পাশাপাশি এ-কথাও সত্য, প্রধান উপদেষ্টার কথায় শর্তের আভাস আছে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার প্রশ্নে তিনি জবাবদিহির গ্যারান্টি চেয়েছেন কিন্তু এ-জবাবদিহি ও এ-গ্যারান্টি মাপা হবে কোন নিক্তিতে? তেমন নিক্তি আছে কি? নিক্তিই যেখানে ঠিক করা যায়নি, সেখানে পরিমাপ করার শর্তটি অবান্তর বললে অত্যুক্তি হয় না

সঙ্কটগ্রস্ত অর্থনীতি-রাজনীতি

এ-কথা ঠিক, আমাদের দেশের রাজনীতিকদের অনেক দোষ আছে দোষ আছে বলেই তারা আপাততঃ চুপ রয়েছেন।  তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া সব কলঙ্কই নীরবে হজম করছেন কিন্তু দেশবাসী রাজনীতিকদের আত্মশুদ্ধির চেয়ে বর্তমান সরকার ঘোষিত নির্বাচনী রৌডম্যাপের বাস্তবায়ন দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কোনো সমাস্যার কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান না করে কেবল রাজনীতিবিদদের গালাগাল করে সময় ক্ষেপণ করাটাকে কেউ ভালোভাবে নিচ্ছে না দেশের বিভিন্ন সেক্টরে যে-হারে সমস্যা বাড়ছে, তাতে জনগণের ধৈর্য আর কতদিন অবশিষ্ট থাকে সেটা এখন বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে

একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বর্তমান সরকারের আমলেই ১৪ টাকার মোটা চাল ৪০ টাকা হয়েছে ৩৮ টাকা লিটারের সয়াবিন হয়েছে ১১০ টাকা অর্থনীতি এখন স্থবির এবং নেতিবাচক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ-অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ যা পুরো এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন গ্রামের খোঁজ-খবর যারা রাখেন, তারা এটা খুব ভালোভাবে জানেন যে, মানুষ এখন কর্মহীন বসে আছে - কোনো কাজ নেই এর ওপর দ্রব্যমূল্যের যে-আকাশছোঁয়া গতি, তা সরকার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না মূল্যস্ফীতির এমন লাগামহীন গতি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে তো নয়ই, পরেও কখনো হয়নি কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারি নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বললে মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক আছে যা দোষ, শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং এর ব্যবস্থাপনার যে-বিষয়গুলো আছে, সে-বিষয়ে সরকারের কোনো ধারণা আছে, এমন প্রমাণ এখানো পাওয়া যায়নি আমদানি-রপ্তানির করুণ-দশা ঘোচানোর কোনো ম্যাকানিজম সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের জানা আছে বলে মনে হয় না খাদ্যশস্যের মজুত কতটা তার কোনো স্পষ্ট হিসাব সরকারীভাবে দেয়া হচ্ছে না দেয়া হচ্ছে না সম্ভবতঃ পরিস্থিতি খুব সঙ্গিন এ কারণেই গত বছর পর-পর দু'দফা বন্যার পরে বিশেষজ্ঞরা যখন বলছিলেন যে, খাদ্যশস্যের ঘাটতি এ-বন্যায়ই ১০ লাখ টনের বেশি হবে, তখন সরকারের কেউ-কেউ বলেছেন, কোনো সমস্যা হবে না।  ঘূর্ণিঝড়ের পরে যখন আবার বলা হলো, এ-ঘূর্ণিঝড়েই খাদ্যঘাটতি হবে আরও ১০ লাখ টন তখন স্বয়ং অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, কোনো সমস্যা হবে না

এ-হতশ্রী দশা শুধু অর্থনীতিতেই নয়, রাজনীতির অবস্থা আরো করুণ রাজনৈতিক সংস্কারের যাবতীয় উদ্যোগ, রৌডম্যাপ এগুলো এখন বাক-সর্বস্ব বুলিতে পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক দলের সংস্কারের বদলে দল ভাঙন কিংবা দলের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি ছাড়া আদৌ কিছু হয়নি পুরো রাজনৈতিক কাঠামো লণ্ডভণ্ড করে দেয়া হয়েছে এ-অবস্থা থেকে উত্তরণ খুব সহজে সম্ভব হবে না রাজনৈতিক দলের সংস্কার এখন আর কোনো উচ্চারিত শব্দ নয়, রৌডম্যাপের রৌডের আরও বেহাল বলা হচ্ছে, গাড়ী এখন সঠিক পথে উঠেছে কিন্তু আসলে গাড়ীও নেই, রৌডও নেই এমন একটা পরিস্থিতি আম-জনতা দেখতে পাচ্ছে

সরকার ক্রমেই জনসমর্থন হারাচ্ছে

১১ই জানুয়ারী এ-সরকার ক্ষমতায় আসার সময় জনগণের সমর্থন এবং প্রত্যাশা ছিলো আকাশ-ছোঁয়া কিন্তু এক বছরের মাথায় এসে  জনপ্রিয়তা একেবারে তলানিতে চলে এসেছে পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, সরকার আসলে যারা চালান, তাদের মধ্যে সমন্বয় কতোটা আছে তা নিয়ে একটি বিষয় খুব ভালো বুঝা যায় যে, ক্ষমতার কেন্দ্র এখন অনেকগুলো হয়ে গেছে এ-কারণে বর্তমানে যে চরম একটা সঙ্কটকালীন অবস্থা চলছে, তার উত্তরণ খুব সহজ সরলভাবে এক গতিতে চলতে পারছে না

বর্তমান সরকারের এক বছরের বেশি সময় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা সংশয় ও সিদ্ধান্তহীনতায় অতীতের নির্বাচিত সরকারগুলোকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না নির্বাচিত সরকারকে ভৌট-ব্যাঙ্ক ধরে রাখার জন্য অনেক কিছু করতে হয় আবার ভৌটাররা যেনো বিগড়ে না যায়, এ-জন্য অনেক ইতিবাচক উদ্যোগও নিতে পারে না।  সারাক্ষণ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে  থাকতে হয় কিন্তু বর্তমান সরকারের জন্য এ-সব বিষয় প্রযোজ্য ছিলো না সরকারের সামনে ভৌটার তুষ্টির বা ভোটার হারানোর কোনো ব্যাপার ছিলো না সংস্কারের জন্য এ-সরকারের সামনে ছিলো বিরাট সুযোগ কিন্তু সে-সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকার মোটেও সফল হতে পারেনি

এখন পর্যন্ত তাদের বড়ো মাপের সংস্কার বলতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ফাইলে সই করা ছাড়া তেমন কিছুই উল্লেখ করা যায় না একথা ঠিক যে, বর্তমান সরকারের প্রশংসা করার মতো অনেক উদ্যোগ রয়েছে এর অনেকগুলোই দৃশ্যমান সরকার এ-ব্যাপারে একটা লম্বা ফিরিস্তি হয়তো ধরিয়ে দিতে পারে ইতিমধ্যে মানবাধিকার কমিশনের আইন চূড়ান্ত হয়েছে গ্যাজেটও প্রকাশ করা হয়েছে কিন্তু কবে এ-কমিশনের কাছে মানুষ নালিশ জানাতে যাবে এবং সে-অনুযায়ী প্রতিকার পাবে, তা কারও জানা নেই বাস্তবে ওই বিচার বিভাগ আলাদা করা ছাড়া সরকারের বড়ো গলায় বলার মতো কোনো কিছু নেই

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সংস্কার নিয়ে সরকারের সংশয় ও সিদ্ধান্তহীনতা ইতিমধ্যেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে হার মানিয়েছে তারা ব্যক্তি বদলে যতোটা আনন্দিত, পদ্ধতি প্রবর্তনে ততোটাই দ্বিধান্বিত।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে পৃথক করতে হবে এ-কথা এদেশের যে-কোনো দুধের বাচ্চাও জানে কিন্তু যে-সরকার নির্বাচনী বিরোধের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে শপথ নিলো, সে-সরকার এখনো পর্যন্ত এ- পৃথকীকরণকে বাস্তবায়িত করতে পারেনি ওদিকে প্রধান অন্য দু'কমিশনার-সহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতক্রমে জাতিকে জানিয়েছেন, পৃথকীকরণের ব্যাপারে তারা সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্তে ষোল আনা খুশি হতে পারছেন না

ভোটার তালিকা আগে হলে আগে নির্বাচন কিন্তু কতো আগে, সে-ব্যাপারে কোন ধারণা মিলছে না বা তারা দিতে পারছেন না ভোটার তালিকার কাজের অগ্রগতির খবর মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে না

আইনের নিজস্ব গতি বলে একটা কথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ চালু রয়েছে সরকার যখন কারো ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়, তখন তার বিরুদ্ধে অনেক সময় মামলা হয় এ-পর্বে সরকার আইনের নিজস্ব গতিপথের দোহাই দিয়ে থাকে দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানের সাফল্য দেশবাসী একান্তভাবেই চেয়েছে এবং এখনও চাইছে কিন্তু তাদের মনে এ-ব্যাপারে ধারণা পরিচ্ছন্ন নয় কারণ জনগণ দেখেছে আইনের নিজস্ব গতি অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব গতিতে চলেনি এটা কারো ক্ষেত্রে বেগবান হয়েছে কারো ক্ষেত্রে মন্থর থেকেছে আয়কর আদায় নিয়েও একই ঘটনা ঘটে দেশবাসী মনভরে চেয়েছে যারা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে যথা রাজস্ব আদায় করা হোক কিন্তু মানুষ দেখে এখানেও ভিন্ন-ভিন্ন বা মিশ্র ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বিচারবিভাগ থেকে অদক্ষ বিচারক সরাতে যে-আওয়াজ উঠেছিলো, তাতে সুপ্রিম কৌর্টের বারান্দায় কান পাতা দায় হয়ে উঠেছিলো কে-কে থাকবেন  ও কার-কার বাদ পড়ার আশঙ্কা আছে, এ-সব আলোচনা করতে-করতে অনেকেই এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন প্রধান বিচারপতি কেবল প্রলয়ের কথা বলেই দৃশ্যতঃ কর্তব্য শেষ করেছেন

এ-পরিস্থিতিতে সচেতন মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলেরই সংশয় কেবলই বাড়ছে শেষ পর্যন্ত কী হবে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে দেশ, এ-প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না দেশ-বিদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সবাই বলছেন, যতো তাড়াতাড়ি জরুরী অবস্থা তুলে নিয়ে অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ততোই মঙ্গল কারণ, কার্যকর গণতন্ত্র ছাড়া দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় অনির্বাচিত সরকার যতো বেশি ক্ষমতায় থাকবে, ততো বেশি মানুষ হারাবে আস্থা ও ধৈর্য

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মত হচ্ছে, বর্তমান অস্থায়ী সরকারের উচিত জটিল ও লম্বা পথ পরিহার করে সোজা-সরল পথ ধরে দ্রুততর সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে যেটুকু করা প্রয়োজন, শুধু সেটুকুই করা আর তাহলেই কেবল তাদের পক্ষে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেয়া সম্ভব

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০০৮

অন্যান্য কলাম 8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.