|
প্রথম
আলো'য় প্রকাশিত কার্টুন প্রসঙ্গে
বদরুদ্দীন
উমর
বাংলাদেশের
কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন মোল্লা-মৌলভী প্রথম আলো পত্রিকায়
প্রকাশিত কার্টুন প্রসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন (যুগান্তর ২৩.০৯.২০০৭)।
সে-বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ
নিজামী, হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশের যুগ্ম-সমন্বকারী কাজী মোরশেদুল হক, গণসংযোগ সচিব
মাওলানা মামুনুর রশীদ, রহিম মেটাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান
মমতাজী, পীর সাহেব জৈনপুরী মুফতি এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের
নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মওলানা আহমেদুল্লাহ
আশরাফ, মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা
নূরুল হুদা, প্রিসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, এটিএম হেমায়েত
উদ্দীন এবং ওলামা কমিটির মহাসচিব মুফতি মহম্মদ তৈয়ব।
এঁদের নাম এখানে এতো সবিস্তারে উল্লেখ করা হলো এ কারণে যে, এঁরা হলেন বুজুর্গ
ব্যক্তি এবং ওলামায়ে কেরাম।
এঁরা
যেহেতু ইসলাম ধর্মের মর্যাদা রক্ষাকারী এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের হেদায়েত করার
দায়িত্ব এঁদের ওপর, কাজেই এঁদের নাম উল্লেখ না করে উপায় নেই।
এ-সব
বুজুর্গ ব্যক্তি এবং ওলামায়ে কেরাম তাঁদের উপরোক্ত যৌথ বিবৃতিতে বলেন, 'প্রথম
আলো ও সাপ্তাহিক ২০০০ সারা দেশের জনগণের অন্তরে যে ক্ষোভের আগুন
জ্বালিয়েছে তা থামানোর একমাত্র উপায় অবিলম্বে সম্পাদক মতিউর রহমান, গোলাম মোর্তজা
এবং প্রকাশক মাহফুজ আনামকে গ্রেফতার-সহ এর ডিক্লারেশন বাতিল করা।'
ইসলামী
ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী এক পৃথক বিবৃতিতে'প্রথম আলো
গ্রুপের সব পত্রিকা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিকল্পিতবাবে বাংলাদেশ থেকে
ইসলামকে ধ্বংস করার নীলনকশা নিয়ে প্রথম আলো মাঠে নেমেছে।'
বাংলাদেশের ইসলামী আকাশে উদীয়মান দল হিযবুত তাহরীর এখন ইসলামের মর্যাদা রক্ষার জন্য
খুব মুখর হয়ে বীরদর্পে রাস্তায় নেমেছে।
মূলতঃ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকদেরকে নিয়ে দল খাড়া করার কারণে এদের বোলচালের
ধরণ অন্যদের থেকে একটু আলাদা।
কিন্তু বক্তব্যের মর্মবস্তু যেখানে ফাঁকা, সেখানে শুধু বোলচাল দিয়ে বেশি দূর অগ্রসর
হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এ-দলের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দীন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন,
'ধর্মীয়
দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত সভা-সমাবেশ-মিছিল প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে না।'
উল্লিখিত
এ-সব সংগঠন ছাড়া ইসলামী নামধারী আরও অনেক সংগঠন প্রথম আলোর ব্যাপারটি নিয়ে
বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে।
এগুলোর সব নাম উল্লেখ করতে গেলে এক দিস্তা কাগজ শেষ হবে, কারণ বাংলাদেশে সাধারণভাবে
যেমন রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অগুণতি হয়েছে, তেমনি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ইসলামী
নামধারী সংগঠনেরও সংখ্যার শেষ নেই।
প্রথম আলো'র
যে-বিষয়টি নিয়ে এতো মাতামাতি হচ্ছে, সেটি এখন অনেকের জানা হলেও তা এখানে উল্লেখ করা
দরকার।
আলপিন
নামে
দৈনিক প্রথম আলোর একটি তথাকথিত সাময়িকীতে প্রকাশিত 'নাম' শীর্ষক একটি অতি বাজে
কার্টুনে একজন দাড়ি-টুপিওয়ালা লোক একটি অল্প বয়স্ক ছেলেকে বলছে যে, সব নামের আগেই
মোহাম্মদ বসাতে হয়।
তারপর ছেলেটির কোলে একটি বিড়াল দেখিয়ে লোকটি জিজ্ঞেস করছে তার কোলে ওঠা কী? জবাবে
ছেলেটি তার দেওয়া শিক্ষা অনুযায়ী বলছে মোহাম্মদ বিড়াল।
সব
দিক দিয়েই নিম্নস্তরের এই কার্টুনটি কার্টুন হিসেবে একটি বর্জ্য পদার্থ।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
এটার
মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে যে-রসিকতার চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে কোনো
সন্দেহ নেই।
এর
মধ্যে কোনো প্রকৃত রসিকতার উপাদান না থাকলেও তাতে তাঁকে খেলো করার চেষ্টা যে হয়েছে
এতে সন্দেহ নেই।
এ-কাজ যে-চরম নিন্দনীয়, একথা বলাই বাহুল্য।
কারণ
হজরত মোহাম্মদ মানব ইতিহাসে মহাপুরুষদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তি।
তাঁকে শ্রদ্ধা করার জন্য মুসলমান হওয়ার প্রয়োজন নেই।
যাঁরা মুসলমান নন, তাঁদের মধ্যেও কোটি-কোটি মানুষ তাঁর প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল।
কাজেই তাঁকে নিয়ে স্থূল কার্টুনটি যে তৈরী করেছে, সে তো মহামূর্খ বটেই, উপরন্তু তার
কাজের মধ্যে-যে উস্কানির উপাদান আছে, এতেও সন্দেহ নেই।
এখানে
অবশ্যই উল্লেখ করা দরকার যে, এর মধ্যে উস্কানির উপাদান থাকলেও তা দিয়ে ধর্ম রক্ষার
নামে যে-লাফালাফি করা হচ্ছে, তার সাথে প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ধর্ম রক্ষার কোনো সম্পর্ক
নেই, কারণ ইসলাম এতো ঠুনকো ধর্ম নয় যে, 'আলপিন'এর মতো একটি সাময়িকীতে ঐ তুচ্ছ
কার্টুন ইসলাম ধর্ম ধ্বংস করতে পারে।
যারা
এ-কথা বলে রাস্তায় মিছিল করছে ও রাজনৈতিক মতলবে বাতাস গরম করছে, ইসলাম সম্পর্কে
তাদের ধারণা যদি এ-ই হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে ধিক্কার দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
দ্বিতীয়তঃ
এর অন্য একটি দিক।
যাঁরা দৈনিক পত্রিকা পড়েন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সকালে পত্রিকা হাতে পাওয়ার পর
'আলপিন'-এর মতো অপাঠ্য সাময়িকী প্রথমেই বের করে ফেলে দিয়ে পত্রিকা পড়া শুরু করেন।
কাজেই পত্রিকার পাঠকদের অধিকাংশই 'আলপিন'-এর এই কদর্য কার্টুন দেখেছিলেন বলে মনে হয়
না।
এটা
তারা পরে দেখে থাকতে পারেন, এ নিয়ে শায়েখ, মাশায়েখ, মুফতি-মওলানা সাহেবদের বিরুদ্ধ
প্রতিক্রিয়া দেখে।
আসলে
এ-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে যা হয়েছে, তা হলো, যে-বিষয়টি অতি সামান্য সংখ্যক মানুষই
দেখেছে এবং যার কোনো খবর দেশের লোকের কাছে ছিলো না, সেটা এখন ইসলামের উপরোক্ত
ধ্বজাধারী ও খেদমতগারদের মিছিলের লাফালাফি, বক্তৃতা, বিবৃতি ও সংবাদপত্রে তা ফলাও
করা রিপোর্টের মাধ্যমে দেশের লোককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ বাস্তবতঃ যে কদর্য-রসিকতা অতি অল্প সংখ্যকের চোখে পড়েছিলো, সেটা
শেখ-মাশায়েখ-আলেমদের রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ঘরে-ঘরে ও জনে-জনে পৌঁছে গেছে।
আলোচ্য কার্টুনিস্ট যদি তার কার্টুনের মাধ্যমে গর্হিত কাজ করে থাকে, তাহলে ইসলামের
যে-ধ্বজাধারীরা কার্টুনটির বাণী দিকে দিকে এভাবে ছাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের কাজকে
গর্হিত না বলে কি কোনো উপায় আছে? এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন হবে?
কার্টুনের
কথা এখানেই শেষ নয়।
১৯৮৯
সালে 'কিশোর কণ্ঠ' নামে যশোরের বাঘারপাড়া দাখিল মাদ্রাসার একটি প্রকাশনায় হজরত
মহম্মদকে নিয়ে একই ধরনের স্থূল রসিকতা করা হয়েছিলো।
সেখানে শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কালু তোর পিতার নাম কী?' ছাত্র বললো, 'সাদেক।'
শিক্ষক বললন, 'এই বেয়াদব, তোকে না কতোবার বলেছি যে, কোনো নামের পূর্বে মোহাম্মদ
বলতে হয়।'
কিছুদিন পর শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলে কালু আজ তোর মা কী রান্না করেছে? ছাত্র
জবাব দিলো, 'স্যার মোহম্মদ কদু।'
বাংলাদেশের
একটি মাদ্রাসায় এহেন কার্র্টুন বের হওয়ার পর ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র থেকে নিয়ে
শেখ মাশায়েখ কারও কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং ইসলাম যায় যায় আওয়াজ শোনা যায়নি।
বিষয়টি মনোযোগের যোগ্য বলে কেউ মনে করে নি।
প্রথম আলোর
কার্টুনটিও মনোযোগের যোগ্য একেবারেই ছিলো না।
বর্জ্য পদার্থ হিসেবে তাকে আবর্জনার স্তূপেই ফেলা দরকার ছিলো।
কিন্তু এ-কার্টুনটির কপাল বড়ো; কাজেই আবর্জনার স্তূপে নিক্ষিপ্ত না হয়ে এটি এখন শেখ
মাশায়েখদের রাজনৈতিক দলগুলির হাতে পড়েছে।
কার্টুনটি
বের হওয়ার পর প্রথম আলোর বিরুদ্ধে, বিশেষতঃ তা নিষিদ্ধ করার জন্য মৌলভী
সাহেবরা বিরাট হৈচৈ শুরু করলে পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান বায়তুল মোকাররম
মসজিদের খতিব ওবায়দুল হকের হাত ধরে মাফ চেয়েছেন ও তওবা করেছেন, যার ছবি-সহ
রিপোর্টটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
এ-কাজ করে মতিউর রহমান কতখানি আত্মসম্মান জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন, সে-কথা বাদ দিয়ে
এটা বলা দরকার যে, এর পর ব্যাপারটি নিয়ে অধিকতর হৈচৈ-এর কারণ আর ছিলো না।
কিন্তু এদিক দিয়ে কারণ না থাকলেও অন্যদিক দিয়ে মাওলানা সাহেবদের হৈচৈ অব্যাহত রাখার
কারণ রয়েছে।
তাঁরা ধর্মের নাম নিয়ে এসব কারলেও এর পেছনে তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার,
কারণ যাঁরা এ-কাজ করছেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ধর্মগুরু বা ইসলাম ধর্মের রক্ষক নন।
তাঁরা হচ্ছেন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং একশো ভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই তাঁরা
এ-কাজ করছেন।
ধর্ম
নিয়ে রাজনীতি করতে নেমে তাঁরা-যে এ-সুযোগের ষোলআনা ব্যবহারের সর্বাত্মক চেষ্টা
করবেন, এটিই স্বাভাবিক।
হিযবুত
তাহরীরের উপরোক্ত নেতা বলেছেন, 'ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত
সভা-সমাবেশ, মিছিল প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে না।'
কেনো পারে না? কেউ নিজের কাজকে 'ধর্মীয় দায়িত্ব পালন' বললেই সেটা ধর্মীয় দায়িত্ব
পালনের ব্যাপার হবে এমন নয়।
তাছাড়া যে-কোনো ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের নামে অনাসৃষ্টি করলেই এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি
করলেই সেটা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
'আলপিন'-এর
কার্টুন নিয়ে যারা হৈচৈ করছেন, তাঁদের মধ্যে জামাতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, রহিম মেটাল
জামে মসজিদের খতিব-সহ অধিকাংশই কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণার দাবী জানিয়ে তাঁদের
অফিস ভাংচুর, বাড়ীঘর আক্রমণ ইত্যাদি অনেক ধরণের বিশৃঙ্খলা ও অপকর্ম করেছেন এবং
সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আবার করবেন।
ধর্মের নামে আসলে এভাবে যা করা হয়, তা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
এ
সবের সাথে ধর্মের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
এখানে অন্য
একটি বিষয়ের উল্লেখ করা দরকার।
উপরোক্ত যৌথ বিবৃতিদাতারা 'জনগণের অন্তরে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া' প্রসঙ্গে
প্রথম আলোর সাথে 'সাপ্তাহিক ২০০০'-এর কথাও বলেছেন।
কিন্তু ঐ-সাপ্তাহিকটি জনগণের অন্তরে কীভাবে ক্ষোভের আগুন জ্বালালো তা বোঝা গেল না।
কারণ
সেটি বের হওয়ার পর পাঠকদের হাতে পৌঁছাবার পূর্বেই স্টল থেকে তুলে নেওয়া হয়।
জামাতে
ইসলামী ও বিএনপির মদদপ্রাপ্ত জঙ্গীদের তৎপরতা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চরম বিশৃঙ্খলা ও
নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে থাকার এক পর্যায়ে সরকার তাদেরকে দমন করতে বাধ্য হয়।
সরকারী সাহায্য প্রাপ্ত হয়ে যারা এই উপদ্রব সৃষ্টি করেছিলো, তাদের নিজেদের
যে-প্রকৃত কোনো শক্তি ছিলো না, সর্বোপরি জনগণের মধ্যে-যে তাদের তিলমাত্র সমর্থন
ছিলো না, এটি আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই ধরা পাড়ার পর ভালভাবেই দেখা গিয়েছিলো।
জনগণের কোনো অংশই তাদের পক্ষে দাঁড়াননি, উপরন্তু দলে-দলে বিভিন্ন জায়গায় জনগণ
রাস্তায় নেমে তাদের ফাঁসি দাবী করেছিলেন।
এর
ফলে শুধু-যে, সেই ক্রিমিনাল জঙ্গীরাই মার খেয়েছিলো তাই নয়, ধর্ম ব্যবহারকারী
রাজনৈতিক দলগুলিও প্রায় ঘরে ঢুকে গিয়েছিলো।
'আলপিন'-এর
কার্টুনের মতো একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন তারা আবার নিজেদের বাজার গরম করার
উন্মত্ত চেষ্টা শুরু করেছে।
এ-চেষ্টার অসারত্ব ও বন্ধ্যাত্ব এর প্রতি জনগণের বিরুদ্ধতার মধ্যে দিয়েই প্রমাণিত
হবে।
প্রথম আলোর মতো তথাকথিত সামপ্রদায়িকতা-বিরোধী পত্রিকার সম্পাদক ও কোন-কোন কর্মী
মাঝে-মাঝে ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলসমূহকে উস্কানির খোরাক জুগিয়ে
তাদেরকে যতই সাহায্য করুক, এ-দেশের সামাজিক ভিত্তিতে ধর্মীয় রাজনীতির বিকাশের
সম্ভাবনা নেই।
এ
বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে, তবে এটা আবার অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে,
বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়, পাকিস্তানকে বর্জন করেই বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে।
কাজেই এ-দেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা যারা যতোই করুক, তার সাফল্যের কোনো বাস্তব
ভিত্তি এদেশে নেই।
সাধারণ
মানুষ এখন নিজেদের দৈনন্দিন সমস্যায় জর্জরিত।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কাজের অভাব, আয়ের অভাব, ছাঁটাই, সময়মতো মজুরি না পাওয়া,
কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, সারের অভাবে কৃষকদের উৎপাদন সঙ্কট, বান-বন্যায় মানুষের
অবধিবিহীন দুর্দশা, নানা রকম রোগের প্রাদুর্ভাব ও সেই সাথে চিকিৎসার অভাব, ইত্যাদি
মানুষকে এমন অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যাতে তাঁরা এসব সমস্যার সমাধানের কথাই
ভাবছেন।
কোন্ পত্রিকায় কোন্ মুর্খ ও পাজী কার্টুনিস্ট কী কার্টুন আঁকলো, তার খবর যেমন
এ-মানুষেদের কাছে নেই, তেমনি এ-নিয়ে আকাশ-বাতাস উতলা করার মতো কোনো অবস্থা তাঁদের
নেই।
কাজেই ধর্মব্যবসায়ী 'ধর্ম রক্ষকরা' ধর্মের ছাতা মাথায় দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক
উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করলেও সাময়িক হৈ-চৈ ছাড়া তাদের অন্য কোনো সাফল্যের
সম্ভাবনা একেবারেই নেই।
আপলৌডঃ
৫ অক্টোবার,
২০০৭
|
|
|