London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

দাতা-সংস্থা বলতে কী বুঝায়?

আনু মুহাম্মদ

আইএমএফ এর একটি মিশন এখন বাংলাদেশে তারা বাংলাদেশকে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর তারা বলছে পিএসআই বা যে-কোন একটি চুক্তি তারা করবেইনাইজেরিয়া-সহ বিপর্যস্ত কয়েকটি দেশ ছাড়া কেউ এ-চুক্তি করতে রাজী নয়বাংলাদেশ নিয়ে তারা অনেক আশাবাদী এরকম মিশন বছরে কতোবার এদেশে আসে সেটা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় জানে নাবাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমএফ এর অফিস করা হয়েছে কেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে তাদের ভূমিকা কী, তাও বাংলাদেশের মানুষের কাছে জানা নেই

বিশ্বব্যাংকের কতো মিশন সারা বছর আসে আর এখানকার অফিস থেকে কর্মকর্তারা কতোবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বসেন এবং  তাঁদের সামলাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আমলাদের কী পরিমাণ হিমশিম খেতে হয়, তা দেশের মানুষ জানে না জোসেফ স্টিগলিজ বিশ্বব্যাংকে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলেছিলেন, 'গরীব' দেশগুলোতে 'বিদেশী সাহায্য' যুক্ত প্রজেক্টের কাগজ-পত্র আর নিয়ম-কানুন ঠিক করতে করতেই আমলাদের সময় চলে যায়, অন্য কাজ আর করবে কখন? এদের সব উঁচু-পর্যায়ের সভায় কী-কী আলোচনা হয় আর কী-কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটা বাংলাদেশের মানুষ জানে নাবাংলাদেশের সরকার এবং কনসালন্ট্যান্ট ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জনগণ জানে যে, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইত্যাদি সংস্থা বাংলাদেশের মানুষকে সাহায্য করবার জন্য সদাব্যস্ততাদের সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারে নাএসব সংস্থা হলো 'দাতা সংস্থা'

সবার আগে জোর দিয়ে বলতে চাই, এ-কথাটা পরিষ্কার করে নেয়া দরকার যে, এসব সংস্থা কোন দাতা সংস্থা নয়দান করার জন্য হাতেম তাই, হাজী মুহম্মদ মহসীন বা আরপি সাহা আমাদের পরিচিতকিন্তু এসব সংস্থা কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়এসব সংস্থার গঠন, পরিচালনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সবকিছু বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে, বিভিন্ন দুর্বল দেশে অর্থ-সংস্থান একদিকে পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত, অন্যদিকে এই অর্থ-সংস্থান তাদের নিজেদের সাম্রাজ্যিক অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্যএ-মূহুর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দুর্বল দেশ যদি আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক-এডিবি ধরণের সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ/অনুদান নেয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে শরীরের ভেতর কাজ করা একটা ভাইরাস প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ যেমন ঝরঝরে হয়ে উঠে, এ-দুর্বল দেশগুলোও সেরকম ঝরঝরে অবস্থা লাভ করবে অন্যদিকে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের মোড়ল দেশগুলো ও তাদের বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যে ধ্বস নামবেকারণ কী? যদিও এ-রকম শুনতে-শুনতে আমাদের কান ঝালাপালা যে, এসব সংস্থা আমাদের উন্নয়নের জন্য সভা, সম্মেলন, ওয়ার্কশপ, গবেষণা ও সফর করে যাচ্ছে, কিন্তু এসব সংস্থা অর্থসংস্থান করে তাদেরই নিজেদের তাগিদে এবং নিজেদের কয়েকটি প্রয়োজনে

এই অর্থসংস্থান তারা যেভাবে ও যে-শর্তে করে থাকে, তাতে এ-ঋণের টাকায় তাদের অনেক পণ্য চড়াদামে বিক্রির ব্যবস্থা করে।  একেকটা প্রকল্পের অধীনে গাড়ী, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল, বাথরুম ফিটিংস, মেশিন, আলপিন এবং এমনকি বিদেশিদের জন্য খাবারের  পানিও আনা হয়আর এ-টাকায় কর্মসংস্থান হয় এসব দেশের ধড়িবাজ অর্ধ-শিক্ষিত বা স্মার্ট কনসালট্যান্টদেরতারা আমাদের ঋণের টাকায় মাসে ১০-২০ লাখ টাকা বেতন নেয়, বছরে দুই-তিনবার বিদেশে যায় এবং নানা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে বেড়ায়

এ-কনসালট্যান্টদের একটি বিশ্বজোট এখন সচল, যাদের অস্তিত্ব-স্ফীতি নির্ভর করে তথাকথিত এই বিদেশী সাহায্যের উপর বাংলাদেশের মতো দেশে এসব কনসালট্যান্ট কিছু না জেনেও তাদের থেকে অনেক যোগ্য ব্যক্তির মাথার উপর ছড়ি ঘোরায়সচিবালয়, মন্ত্রণালয় ও দলিল-পত্র-সহ সবকিছুই তাদের দখলেঅনেক কনসালট্যান্ট নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরী করে দশকের পর দশক কখনো অর্থ কখনো শিক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে নানা প্রজেক্টে আটকে থাকেএর থেকে লোভনীয় লাভজনক চাকুরি তাদের জন্য আর কোথাও নেইবাংলাদেশের সব মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বত্র আমাদের জনগণের ঋণের টাকায় এরকম অনেক কনসালট্যান্ট দেখা যাবেআর এদের ঔদ্ধত্ব কোন মাত্রায় যায় তার অভিজ্ঞতা দেশের অনেকেরই আছেকদিন আগে একজন কনসান্ট্যান্টের লেখায় ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়নের হুমকি পড়লে তার একটা চিত্র পাওয়া যাবে

প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র আর কনসালট্যান্টদের পেছনে ঋণের/অনুদানের টাকায় শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ব্যয় হয় বাকি টাকায় এখানে একটা সমর্থক ভিত্তি তৈরী হয় এখানকার কনসালট্যান্ট, এখানকার আমলা তার ঐ টাকার ক্ষুদ্র অংশের ভাগীদার হিসেবে কিছু আয়ের মুখ দেখে, এলিট হিসেবে দাঁড়ায় আর উঁচু গলায় 'বিদেশী সাহায্য' আমাদের কতো দরকার, সে-যুক্তি বিস্তার করতে থাকে কনসালট্যানসী রিপৌর্ট, সেমিনার  কিংবা ফাইল নৌটে।  এসব প্রকল্প জনগণের জন্য কী করে, তা বোঝার জন্য আমাদের সামনে নদী, পানি সম্পদ, জ্বালানী সম্পদ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পাটখাত আছেবিস্তারিত আলোচনায় সুযোগ এখানে নেই শুধু বলা যায় পাটশিল্পে উন্নয়নের নামেই বাংলাদেশ ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক থেকেসেই টাকায় দেশ-বিদেশ সফর, কন্সাল্ট্যান্সী করে অনেকেই লাভবান হয়েছে আর মূল কর্মসূচি পাটশিল্পে উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বদলে ধ্বস নেমেছেজ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ হাজার-হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, সে টাকায় অনেকের ভাগ্য ফিরলেও, গ্যাস ব্লকগুলো এখন বহুজাতিক কোম্পানীর দখলেতাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে আমাদের এখন প্রতি-বছর ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান দিতে হয়বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় প্ল্যান্ট না বসিয়ে বহুজাতিক কোম্পানীরর হাতে বিদ্যুৎ খাত তুলে দেয়ায়  প্রতিবছর সেখানে লোকসান যাচ্ছে ১১০০ কোটি টাকার বেশিএইসব 'উন্নয়ন সাহায্যের' প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন', পানি সম্পদ উন্নয়ন, সব ক্ষেত্রেই জাতীয় সক্ষমতা আর প্রতিষ্ঠান বিকশিত হবার বদলে প্রায় শেষ অবস্থাএসব দাতা সংস্থা তাদের 'মহান' উন্নয়ন কর্মসূচি দিয়ে এসব কাজই বাস্তবায়ন করে, এগুলো তারা করে দারিদ্র বিমোচনের নামে করতে পারে কারণ এদেশে দুর্নীতি, লুন্ঠনের উপর দাঁড়ানো শাসক গোষ্ঠী তাদের কনিষ্ঠ অংশীদার, তাদের কেনা আমলা ও কনসালট্যান্টরা ভূমিকা পালন করে  বিশ্বস্ত বাহিনীরতার ফলে উন্নয়নের নামে বাংলাদেশের মানুষের ঋণ বাড়ে আর কমে জাতীয় সক্ষমতার সুযোগ, ভেঙে পড়ে নিজেদের পায়ের নিচের মাটি, উৎপাদনশীল ভিত্তি

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যে উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশে তৈরী হয়েছে কয়েক হাজার চোরাই কোটিপতিঅন্যদিকে স্থায়ী কর্ম-সংস্থান কমেছে, দারিদ্র আরও টেকসই হয়েছে, সম্পদ ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকতর নাজুকতায় আক্রান্ত হয়েছেবন, জলাভূমি, নদী-নালা, খাল-বিল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের দখলদার দুর্বৃত্তদের আধিপত্য বেড়েছেবিদেশী বিনিয়োগের নামে তেল-গ্যাস-কয়লা নিয়ে জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী বহু ধ্বংসাত্মক চুক্তি করা হয়েছেগত বছর সেপ্টেম্বর মাসেই দিনাজপুরের ফুলবাড়ী অঞ্চলের মানুষ জীবন দিয়ে এরকম এক ভয়াবহ বিনিয়োগ প্রকল্প না ঠেকালে এই খাতে আরও বিপর্যয়ের দিকে আমাদের যেতে হতো।  যখন সরকার পাটশিল্প নবায়নের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে অনিচ্ছুক, যখন বাপেক্স-সহ জাতীয় সংস্থাকে সম্পদের অভাবের কথা বলে পঙ্গু করা হচ্ছে, তখন প্রতি-বছর বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর পছন্দের জ্বালানী বা বিদ্যুৎ চুক্তি করে বছরে জনগণের অর্থ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংক কিংবা এডিবি উন্নয়নের নামে বাংলাদেশে অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি তৈরীকে বাধাগ্রস্ত করেছে, আমদানীমুখি অর্থনীতি হিসেবে নাজুক অবস্থায় ফেলেছে পুরো অর্থনীতিকেবন্যায় বিপর্যস্ত কৃষকদের ঋণের সুদ বাড়াতে চাপ দিয়েছে তারাই, সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি-সহ বিনিয়োগ ব্যয়-বহুল করবার নানা কর্মসূচি নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেএদের জন্য বস্ত্রশিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, এদের উন্নয়ন দর্শন দিয়েই বিনাশের পথে এখন পাটশিল্পএদের এসব কর্মসূচির জুনিয়র পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী কন্সাল্ট্যান্সীর ছিটেফোঁটা পেয়ে এই দেশকে পরিণত করেছে দেশি ও বিদেশি লুটেরাদের চারণক্ষেত্রে।   

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন আইএমএফ প্রেসক্রিপশন প্রত্যাখ্যান করার জন্য ডাক দিয়েছেনঅনেকেই অবাক, ঘটনা কী? এটাই ঘটনা পৃথিবীর বহুদেশে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দাঙ্গা, সংঘাত, সহিংসতা, বেড়েছেলুন্ঠন, দুর্নীতির তো আছেই দুর্নীতিবাজ শাসক, গোষ্ঠী, আমল,কনসালন্টেটরা ছাড়া তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই সম্ভব নয়ব্যবসায়ীরা তাদের অনেক কর্মসূচির সুফলভোগী, কিন্তু যেহেতু তারা শেষ পর্যন্ত বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধি,তাই এক পর্যায়ে গিয়ে দেশি শিল্পোদ্যোক্তা বিশেষত আত্মমর্যাদা আছে এ-রকম মানুষদের  সঙ্গে তাদের সংঘাত অনিবার্যএদের চাপে বিপর্যস্ত বহুদেশই এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছেসে-সময় বাংলাদেশে তারা হাজির পিএসআই করতেএদের দরকার মাথাশূণ্য, মেরুদন্ডহীন, ইজ্জতের বোধহীন একটি শাসকগোষ্ঠী, যারা তাদের সকল কথা বিনা-বাক্য ব্যয়ে মেনে নেবে দাসত্বে ধন্য হবেএদের এই তৎপরতাতেই আজ আমাদের এই দশা আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংক মিশন প্রতিনিয়ত নানা সহায়তার নামে মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর দখলে নেয়আর এদের পাশাপাশি মার্কিন-ব্রিটিশ রাজদূতেরা ভাইসরয়ের মতো সারমন দেয়, এগুলো তারা আমাদের দেশের মেরুদন্ডহীন। দূষিত শাসক গোষ্ঠীর কারণেই

বাংলাদেশকে সবসময় বলা হয় গরীবকিন্তু তা ঠিক নয়মানুষ, পানি, ভূমি, এমনকি খনিজ সম্পদেও বাংলাদেশ সমৃদ্ধঅবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশের পাট ও পাটশিল্প বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাতে পারে;বাংলাদেশের সীমিত তেল-গ্যাস, কয়লা -খনিজ-সম্পদ নিজেদের কর্তৃত্বে থাকলে তা এ-দেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারে; সবার জন্য শিক্ষা/ চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব যদি বিদ্যমান বাজারমুখী-মুনাফামুখী নীতি পাল্টানো যায়; মানুষ, মাটি ও পানির সার্থক সমন্বয়ে এদেশ নতুন যাত্রা শুরু করতে পারেএসবই সম্ভব বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের উপর জনগনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলেআর তা সম্ভব করবার প্রথম শর্ত বিশ্বব্যাংক আইএমএফ  এডিবির মতো সংস্থাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করবার শক্তি অর্জন করাবিশ্বের বহুদেশ এখন এভাবেই নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করছেজনগণ যদি বিশ্ব মোড়লদের প্রত্যাখ্যান করতে পারে তাহলে এদেশে তার দেশি ভাগীদারদেরও জায়গা হবে না

এই পরিপ্রেক্ষিতে এখন তিনটি বিষয়ে সবার মনোযোগ ও সক্রিয়তা আহবান করতে চাইঃ

(ক) এসব অর্থলগ্নীকারী সংস্থাগলোকে 'দাতা সংস্থা' বলা বন্ধ করতে হবে

(খ) এসব সংস্থার সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি সম্পর্কিত সকল তথ্য আমরা জানতে চাইবাংলাদেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ নিয়ে চুক্তি হবে আর বাংলাদেশের মানুষ জানবে না তা আর চলবে না

(গ) দেশে-দেশে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে পাবলিক ট্রায়াল হচ্ছেআগামী ২১-২৪ সেপ্টেম্বর দিল্লীতে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে গণআদালত বসছেসেখানে অংশ নিচ্ছে বিশেষজ্ঞ সহ বহু সংগঠনআমাদের দেশেও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবির বিরুদ্ধে তাদের সকল প্রকল্প ধরে এর আয়োজন করতে হবেজনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা,  স্বচ্ছতা সম্পর্কে তারা যা-যা বলে তা এভাবেই কার্যকর করা শুরু হতে পারে

ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব স্পষ্ট হয় তার 'না' বলার শক্তির মধ্য দিয়ে।  একইভাবে একটি জনগোষ্ঠীর শক্তিও স্পষ্ট হয় সে দখলদার, দুর্বৃত্ত আধিপত্যকামী অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা অর্জন করেছে কিনা তার উপর

আনু মুহাম্মদ

অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭

 
 
   

অন্যান্য কলাম 8

© 2007 Confidence Services Ltd.