London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

প্রবাসী নাগরিক কমিটির (যুক্তরাজ্য) পক্ষ থেকে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে স্মারকলিপি

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে গঠিত প্রবাসী নাগরিক কমিটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য-সহ ইউরোপের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে এই সম্মিলিত মোর্চাটি গঠিতএর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণের সংকল্পবদ্ধ আন্দোলনে সমর্থন ও সাহায্য যোগানো

বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পেছনে প্রথম দিকে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন ছিলো এ-কারণেই যে, তারা বিশ্বাস করেছিলো এ-সরকার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দেশে সন্ত্রাস ও দূর্নীতি দমন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও সততা আনয়ন এবং প্রতিশ্রুত সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত হওয়ার একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাবেন এজন্যেই সন্ত্রাস ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে এই সরকারের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোকে দলমত নির্বিশেষে সারা দেশের মানুষ সমর্থন জানিয়েছিলো

কিন্তু এখন আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকার তাদের উপর ন্যস্ত নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন তথা একটা যুক্তিযুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে  অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন যা তাদের এখতিয়ারের বাইরে এসব পদক্ষেপ দেশের জনগোষ্ঠির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ সৃষ্টি করেছে যে, এ-সরকারের উদ্দেশ্য দেশে গণতন্ত্র ও দূর্নীতিমুক্ত সৎ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নানা অপবাদ দিয়ে তার অস্তিত্ব লোপ করা এবং নিজেদের পছন্দসই একটি অগণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর প্রচেষ্টা চালানো

ফলে দেশের শীর্ষস্থানীয় জননেতাদেরই শুধু নয়, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, ছাত্র, শিক্ষক - অর্থাৎ, সকল পেশার মানুষের  উপরেই নেমে এসেছে দমন-নীতির স্টীমরোলার একটি বেসরকারী সূত্রে জানা গেছে, ২  লাখ ৬০ হাজার কারাবন্দী এখন কারাগারে ধুঁকে মরছে তাছাড়া ঢাকার সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভকে  অজুহাত হিসেবে খাড়া করে শুরু হয়েছে  ছাত্র-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের উপরেও অত্যাচার একমাত্র পিনোচেট ও বাতিস্তার মতো ফ্যাসিষ্ট  শাসকদের আমল ছাড়া আর কোন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার নজির নেই বর্তমানে বাংলাদেশকে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার শাসিত দেশ বলা চলে না বলা চলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর ও রাব কর্তৃক শাসিত একটি দেশ, যার অবস্থা পুলিশ ষ্টেইটের চাইতেও ভয়াবহ দেশের কোনো নাগরিকেরই এখন ধন-প্রাণ-সম্মানের কোনো প্রকার নিরাপত্তা নেই

এই অবস্থার প্রতিবাদ করা এবং প্রতিকারের দাবীতেই ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার লন্ডনে সকল দলমতের বাংলাদেশীদের গণ-সমাবেশ এই গণ-সমাবেশ  বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নিম্নলিখিত দাবীগুলো মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার তাদের সম্পর্কে জনমনের সন্দেহ, অনাস্থা ও ভীতি অনেকাংশে দূর করতে পারবেন বলে মনে করছে

বিচার বিভাগ সংষ্কার ও বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দানের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

অবিলম্বে অন্যায়ভাবে ও তুচ্ছ কারণ দর্শিয়ে আটক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিক ও অন্যান্য পেশার ব্যক্তিদের মুক্তি দান

অবিলম্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঘোষণা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ

অবিলম্বে পুলিশ, রাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও জামিন-বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত এবং এই নির্যাতন বন্ধের দ্রুত ব্যবস্থা করা

দেশে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠা দান

অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য  জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রতি দাসত্বমূলক মনোভাব ও নীতি পরিবর্তন

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্ততঃ দু'জন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অর্বাচীন উপদেষ্টাকে অপসারণ

বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ পথকে অবিলম্বে উম্মুক্ত করা না হলে তার পরিণতি কী দাঁড়াবে, তা ভেবে দেখার জন্য আমরা বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই

প্রবাসী নাগরিক কমিটি

৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৭

লন্ডন, যুক্তরাজ্য

 
 
   

অন্যান্য কলাম 8

© 2007 Confidence Services Ltd.