|
সবুরের মেওয়া মাকাল ফল হয়ে ঝুলে থাকবে
না তো?
মিনহাজুল আলম মামুন
মাননীয়
সরকার,
আমার
সাংবাদিক বন্ধু ইব্রাহীম খলিল আপনাদের কর্মকান্ডে ভীত।
তিনি
শঙ্কিত দেশ কি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
তার
নিজের ভাষায়, তিনি ততোটা ভীত, যতোটা ভীত তাঁর হাজারো
স্বজন।
তিনি
ততটা শঙ্কিত,
যতোটা
শঙ্কিত দেশের হাজারো প্রগতিশীল মানুষ।
তাঁর
আশঙ্কা, দেশ এমন একটা সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যে-সময়টাতে কবিদের বলা হবে,
'এ-বিষয়ে কবিতা লিখতে পারবে, ও-বিষয়ে পারবে না'; বুদ্ধিজীবিদের বলা হবে, 'এ-বিষয়
নিয়ে ভাবো, অন্য-বিষয় নিয়ে ভাবতে পারবে না।'
না, আমি
সাংবাদিক বন্ধু ইব্রাহীম খলিল যে-বিষয়গুলো নিয়ে ভীত-শঙ্কিত, সে-বিষয়গুলো নিয়ে
ভীত-শংঙ্কি নই।
আমি
জানি, আমার জাতি ধর্মপ্রাণ হলেও, ধর্মান্ধ নয়।
এঁরা
চাপিয়ে-দেওয়া ও জোর-জবরদস্তি করে দেওয়া যে-কোন কিছুকেই ঘৃণা করে সাহসের সাথে
প্রত্যাখ্যান করবেন।
যেমনি করে এসেছেন অতীতে বহুবার।
আর
আপনাদের সরকারের প্রতি আমার এ-বিশ্বাসও রয়েছে যে, আপনারা আমার জাতির আবেগ অনুভূতির
প্রতি সম্মান দেবেন।
আমি বরং ভীত
ও শঙ্কিত এ-ভেবে যে, আপনারা হয়তো আপনাদের মূল কাজ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে যেতে
পারবেন না তা।
আপনারা যে-পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সে-পরিস্থিতির কথা মনে হতেই গা শিউরে উঠে।
মাননীয় সরকার, এমন এক পরিস্থিতিতে আপনারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, যখন হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলো
আমার মত লক্ষ-কোটি মানুষ।
আমরা কি
আপনাদের সরকার নিয়ে আশাবাদী না হয়ে পারতাম? কিন্তু আপনারা আপনাদের কর্মকান্ড দিয়ে
আমাদের চিন্তিত করে তুলেছেন। অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত আর অগোছালো কাজ কম করছেন না
আপনারা।
আপনাদের প্রথম মোটা মাথার কাজটা ছিলো বস্তি উচ্ছেদ ও হকার উচ্ছেদের ঘটনা।
এগুলো কি না করলেই হতো না?
আপনাদের চিন্তা করা উচিত ছিলো কতটা দুঃখে-কষ্টে পড়ে এবং
দারিদ্র্যের কষাঘাত কতটা তীব্রভাবে আঘাত করলে মানুষ বস্তিবাসী হয়। আয় উপার্জনের
ভালো কোন পথ থাকলে কেউ অন্তত হকার হয় না ফুটপাথে।
মাননীয়
সরকার, দেশের মানষের সুখ-শান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত
করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
রাষ্ট্র সে- দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে, তা তো আপনারা ভালো জানেন।
তাহলে?
বস্তিবাসী ও
গরিব হকারদের উপর এ-নির্মম খড়গ কেনো?
আপনারা বলবেন, বস্তি অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিলো, হকাররা অবৈধভাবে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা
করছিলো।
কিন্তু তাঁরা যদি প্রশ্ন তোলে, কোন বৈধতার বলে আপনারা আট মাস ধরে ক্ষমতায় আছেন?
আপনাদের গতি-প্রকৃতি কতোটা বৈধ? কোন বৈধতার ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকান্ডের
বাইরে গিয়ে অন্য-সব কর্মকান্ড করছেন? না, তাঁরা তো সে-প্রশ্ন তোলেননি।
তাঁরা আপনাদের মেনে নিয়েছে। মেনে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই, তাই আমরা সাধারণ মানুষও
মেনে নিয়েছি।
এ-মেনে নেয়া মানুষগুলোকে আপনারা আপনাদের কর্মকান্ড দিয়ে ক্ষুব্ধ করে তুলেছেন।
বলছি
না যে, আপনাদের সব কাজ খারাপ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানকে আপনাদেরকে জাতি সাধুবাদ জানিয়েছে।কিন্তু মান্নান
ভূঁইয়া ও আমির হোসেন আমুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াকে মানুষ কেনো ভালো চেখে দেখবে?
একদিকে নিরাপত্তার কথা বলে খালেদা জিয়াকে ত্রাণ বিতরণে যেতে বাধা দিচ্ছেন, অপরদিকে
ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ত্রাণ বিতরণের নামে মহড়া দিচ্ছেন।
এই
দ্বৈত নীতি কেনো? এ-জাতীয় দ্বৈত নীতিই মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
মাননীয়
সরকার, আপনারা কি বলতে পারবেন, দেশে আজ কোন মানবাধিকারটি হরণ হচ্ছে না? মাননীয়
সরকার, জাতির বিশেষ প্রয়োজনে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন বিধায়, জাতির কাছে দায়বদ্ধ নন,
কিংবা জাতি আপনাদের কাছে কোন প্রশ্ন করতে পারবে না, এমন তো নয়।
আপনাদের কর্মকান্ড নিয়ে কেনো মানুষ শঙ্কা প্রকাশ করছে, তা ভাবতে হবে।
হান্নান শাহ'র গ্রেফতার, অতঃপর মুক্তি নাটক মঞ্চায়ন কি, না-করলেই হতো না? কোন
অপরাধে জনকন্ঠ সম্পাদককে এতোদিন ধরে আটক রেখেছেন, তার কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আজও
দেননি।
সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ছাত্র বিক্ষোভের জের ধরে শিক্ষকদের গ্রেফতার ছাড়া কি অন্য কোন
পথ ছিলো না ? হ্যাঁ, জাতি অবশ্যই দুর্নীতিবাজদের বিচার চায়। শেখ হাসিনা, খালেদা
জিয়া, তারেক রহমান, শেখ সেলিম-সহ যারাই দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিচার করুন। কিন্তু
বিচারটা যেনো সাজানো না হয়। বিচারের নামে যেনো প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন না হয়।
মাননীয়
সরকার, আপনাদের দুয়েকজন উপদেষ্টা আমার খুবই প্রিয়।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তা নয়। তাঁদের সম্পর্কে দীর্ঘদিন থেকে জেনে, তবেই
তাদেরকে ভালবাসি। ব্যক্তিজীবনে তাঁরা সফল, আর মানুষের প্রতি সম্মানশীল ছিলেন।
আশা
করি, তাঁরা মানুষের আবেগ, সেন্টিমেন্ট ভালো করে বুঝবেন।
বাংলাদেশ নামক অসম্ভব সম্ভাবনাময় দেশের কোন সম্পদের অভাব নেই।
অভাব
কিছু সৎ রাজনীতিবিদের, যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে লুটে-পুটে খাবে না। চিন্তা করবে
দেশ-জাতির।
মানুষ দীর্ঘদিন থেকে এ-জাতীয় কিছু রাজনীতিবিদের অপেক্ষায়।
মাননীয়
সরকার, আপনারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন।
আমাদের সবুরের মেওয়া যেনো মাকাল ফল হয়ে ঝুলে না থাকে সারা বাংলায়।
মিনহাজুল
আলম মামুন, সমপাদক একুশে
মাদ্রিদ
৮
সেপ্টেম্বর, ২০০৭
|
|
|