London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলার ক্ষতিপূরণ এবং বাজেটে জ্বালানী খাত বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে সিলেটের মাগুড়ছড়ায় মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের ইজারা-ভূক্ত গ্যাসফীল্ডে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়।  আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে যে, ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হলেও পরে এ-বিস্ফোরণের জন্য যে-মার্কিনী কোম্পানীর অবহেলা আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনাই দায়ী, তা প্রতিষ্ঠিত হয়।  

১৯৯৩ সালে সরকার আটটি ব্লক বিডিং এ দেয় এবং ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি (১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর) ব্লক প্রদান করে মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালকে।  তাদের প্রথম গ্যাসকূপ খনন শুরুর ১২ দিন পর, ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন রাতে সিলেটের ১৪নম্বর ব্লকের সুরমা বেসিনে মাগুড়ছড়ায় ভয়ংকর বিস্ফোরণটি হয়।  মাগুড়ছড়া বিস্ফোরণে তদন্ত কমিটির রক্ষণশীল হিসাবেও গ্যাস-সম্পদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট।  এছাড়া পরিবেশ এর যে-ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদের এবং পুরোটা পরিমাপযোগ্য নয়।  তারপরও মোটামুটি হিসাবে সব মিলিয়ে কম করে ধরেও ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।  দশ বছর পার হলো, ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি

১৯৯৯ সালে ইউনোকাল নামে আরেকটি মার্কিন কোম্পানীর সাথে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম বিনিময় করে অক্সিডেন্টাল চলে যায়।  মাগুড়ছড়ার ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন ফয়সালা না করেই সরকার তাদের এ-বিনিময় সম্পাদন করতে দেয়।  পরবর্তীকালে ইউনোকাল-এর ব্যবসা গ্রহণ করেছে আরেকটি মার্কিন কোম্পানী শেভরন

গত সরকারের সময়, জালিয়াতির মাধ্যমে  জীবন্ত গ্যাসক্ষেত্র ছাতক গ্যাস ফীল্ডকে প্রান্তিক ঘোষণা করে নাইকোর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়া হয়।  সম্পদ বেদখল ছাড়াও ফলাফল হয় আরেকটি বিপর্যয়, টেংরাটিলা বিস্ফোরণ।  টেংরাটিলা নামে পরিচিত ছাতক গ্যাসফীল্ডে ২০০৫ সালে ৭ জানুয়ারী ও  ২৪ জুন দুটো বিস্ফোরণ ঘটে।  এবারও কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার জন্যই এই ভয়ংকর ঘটনা  ঘটার প্রমান পাওয়া যায় ।   কিন্তু সরকারী দিক থেকে নানাভাবে এই ক্ষতি কম করে দেখানোর প্রবণতার কারণে দেশের বিশিষ্ট ভূবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদরা নিজেদের উদ্যোগে ঐ অঞ্চল সফর করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণ ও পরিমাণ নির্ণয় করেন।  তাদের হিসাবে ক্ষতির পরিমান সরকারী কমিটি বা মন্ত্রী/উপদেষ্টার ভাষ্য থেকে অনেক গুণ বেশি।  

গড় হিসাব বিবেচনা করলে মাগুড়ছড়া ও ছাতক টেংরাটিলার বিস্ফোরণগুলোতে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত প্রমাণিত সর্বমোট গ্যাস মজুতের মধ্যে কমপক্ষে ৫৫০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ধ্বংস হয়েছে অন্যান্য ক্ষতি তো আছেই সরকারী বিভিন্ন মহল বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশে সম্পদের অভাব বলে আহাজারি করলেও এ-সম্পদ ধ্বংস তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না।  বাংলাদেশে কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠানে কয়েক কোটি টাকা লোকসান হলে বিশ্বব্যাংক সহ যেসব বিশ্বসংস্থা সেগুলো বন্ধ করবার চাপ দিতে থাকে হাজার-হাজার কোটি টাকা ধ্বংস করলেও অক্সিডেন্টাল/ইউনোকাল/শেভ্রন বা নাইকো নিয়ে তাদের কোন কথা শোনা যায়নি কিংবা ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়েও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এসব কারণেই এ-ক্ষতিপূরণের টাকার কথা গত ১০ বছরের কোন বাজেট বক্তৃতায় এমনকি প্রসঙ্গক্রমেও কখনও উল্লেখ করা হয়নি। 

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

এ-বছরের বাজেটেও এ-ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোন প্রতিশ্রুতি নেই।  জুন মাস বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণা আর তা নিয়ে আলোচনার মাস।  বাজেট আলোচনা কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা, সঙ্কট, প্রস্তাবনা ধরে অনেক আলোচনা আর বিতর্ক হয়।  সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অনেক বিশেষজ্ঞ দেশের সম্পদ সঙ্কটের ব্যাপারে জোর দেন এবং তা ধরে নিয়েই কথা বলেন।  সম্পদ নেই, দক্ষতা নেই, ক্ষমতা নেই এগুলোই বারবার বলা হতে থাকে।  অবধারিতভাবে  ধরে নেয়া হয় যে, বিদেশী ঋণ ছাড়া বাংলাদেশের উপায় নেই।  উপায় নেই বলে তাদের দেয়া নানা সুপারিশ, তাদের নানা বিনিয়োগ যদি দেশের জন্য খারাপও হয়, তবুও তা গ্রহণ না করে উপায় কী এরকম একটি ভাষ্যই সবসময় তৈরী করা হয়।  কিন্তু অনেক বিনিয়োগ যে-দেশের সম্পদ ধ্বংস ও পাচার করায় নিয়োজিত, সে-ব্যাপারে কোন মনোযোগ দেখা যায় না

আমরা সবাই জানি যে, তেল গ্যাস কয়লা সম্পদ দেশের স্বার্থে সর্বোত্তম ব্যবহার করতে গেলে দেশে নতুন-নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে হবে, দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে হবে, কার্যকর গবেষণার সুযোগ তৈরী করতে হবে সেজন্য এ-খাতে বরাদ্দ জাতীয়ভাবেই খুব গুরুত্বপূর্ণ।  দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ গ্যাস উত্তোলন করে।  ঋণ দরকার নেই, তাদের উপার্জিত অর্থের একাংশও যদি এখানে বরাদ্দ করা হয় তাহলে এ-গ্যাস-সম্পদ দেশের বড় পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।  কিন্তু সেটাও এখনও হয়নি। 

পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল, পেট্রোবাংলা এবং বেলার হিসাব ও সমীক্ষা পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি, মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলায় স্বল্প মেয়াদে ন্যুনতম ক্ষতির হিসাবে মার্কিন ও কানাডার কোম্পানীর কাছে আমাদের পাওনা দাঁড়ায় ১২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।  আমরা যদি দীর্ঘমেয়াদে জীব-বৈচিত্র্য বিপর্যয়-সহ পরিবেশ ক্ষতি বিবেচনা করি, যদি মানবিক ক্ষতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করি তাহলে এর পরিমাণ আরও ৯ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বাড়বে।  এখানে প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণটাই বিবেচনা করছি

মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলার কারণে মার্কিন কোম্পানী শেভরন টেক্সাকো এবং কানাডীয় কোম্পানী নাইকোর কাছে আমাদের পাওনা যে ১২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা তাঃ

  • এ-বছরে ঘোষিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় অর্ধেকের সমান

  •  এই অর্থ এশিয়া এনার্জি বা টাটা বা মিত্তাল ২৫/৩০ বছরে যা বিনিয়োগ করবে বলে দাবী করছে তার সমান

  • এটি তথাকথিত নীট বিদেশী সাহায্যের প্রায় দ্বিগুণ

অতএব এ-অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিলে দু'বছর কোনো 'বিদেশি সাহায্যের' যুক্তি থাকবে না।  জ্বালানী খাত শুধু নয় অন্যান্য খাতেও কার্যকর অনেক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব এই অর্থ দিয়ে।  কিন্তু আগের সরকারগুলোর মতো এ-সরকারও এ-অর্থ আদায় করে তা বাজেট প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাচ্ছেন না।  আমরা এ-ক্ষতিপূরণের অর্থ বাজেটে আয় দেখিয়ে তা আদায় করে জ্বালানী খাত শক্তিশালী করার  দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেবার দাবী জানাচ্ছি।     

পাওনা এ ১২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা অনাদায়ী রেখেঃ

  • জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অধীন পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে 'অর্থের অভাবে' ক্রমাগত পঙ্গু করা হচ্ছে

  • প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ জনশক্তির অভাব' এর অজুহাতে গ্যাস-ব্লকগুলো বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেবার পর এখন কয়লা খনিগুলো তুলে দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।  নিজস্ব দক্ষতা, যোগ্যতা গড়ে তোলার কোন চেষ্টাই নেয়া হয়নি

  • প্রতিবছর 'অভাবের অজুহাতে' বিদেশী ঋণের জালে বাংলাদেশকে আবদ্ধ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানী, শিল্প, ব্যাংক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বন্দর ইত্যাদি ক্ষেত্রকে বহুজাতিক পুঁজির স্বার্থে দখল, নঙ্কোচন বা বাজারীকরণ করা হচ্ছে

  • বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে শিক্ষকরা যখন মানবেতর জীবনে টিকতে না পেরে অনশন করছেন তখনও বলা হচ্ছে 'সম্পদের অভাব'।  পাটশিল্পে লক্ষ-লক্ষ মানুষ বেকার বেতন বকেয়া থাকার কারণে না খেয়ে শ্রমিক মারা যাচ্ছেন।  অথচ সরকার শিল্পবন্ধ করবার বন্দোবস্ত করছেন সম্পদের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে। 

  • সম্পদের অভাব দেখিয়ে যেসব খাত থেকে রাষ্ট্র নিজের দায়-দায়িত্ব প্রত্যাহার করবার পথে সেগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তি ছাড়াও আছে স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ, শিল্প, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ এবং কৃষি

  • বাপেক্স ইতোমধ্যে ১০টি গ্যাসফীল্ড ও ১টি তেলক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে মাত্র ৯০০ কোটি টাকা খরচ করে।  এই 'অদক্ষ' জাতীয় প্রতিষ্ঠানের গ্যাস অনুসন্ধানে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।  তাদের খরচ বহুজাতিক কোম্পানীর খরচের এক দশমাংশেরও কম।  

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে এবছরের বরাদ্দ আগের বছরগুলোর মতোই এ-বছরেও উন্নয়ন বাজেটে বড় বরাদ্দ দেখানো হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে।  গত সরকারের পাঁচ বছরেও বরাদ্দ কম ছিল না, প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সেখানে ব্যয় করা হয়েছে।  এ-টাকার সদ্ব্যবহার হলে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব ছিললো।  কিন্তু এ-অর্থের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  আমরা এ-বিষয়ে অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবী করেছি।  কিন্তু এই সরকার এখনও কোন অনুসন্ধানে হাত দিয়েছেন বলে জানি না।  অতীত লুন্ঠন বা পাচার চিহ্নিত না করে একইভাবে বরাদ্দ দিলে একই ফলাফল হবার সম্ভাবনা

লক্ষণীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশে নতুন-নতুন খনিজ সম্পদের খবর পাওয়া যাচ্ছে।  সে-কারণে পুরনোর সাথে নতুন দখলদারদেরও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।  নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিকশিত না করবার ফলে আমাদের সম্পদ এখন প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় আছে

আমরা জানি ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় হলে, খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একটি দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনবল তৈরী সম্ভব এ- লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তাব নিম্নরূপঃ

জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগে ২০০৫-৬ অর্থ-বছরে উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা হয়েছিলো ১০০০ কোটি টাকা।  সংশোধিত বাজেটে সেটি শতকরা ৬৫ ভাগ কমিয়ে করা হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকা।  ২০০৬-৭ অর্থ-বছরে প্রথমে বরাদ্দ করা হয়েছিলো ৬৭৪ কোটি টাকা, পরে প্রায় ৭৫ ভাগ কমানো হয়েছে।  এবার আবার বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি টাকা।  আমাদের প্রস্তাব ক্ষতিপূরণের টাকার মধ্যে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য আগামী দু'বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখতে হবে।  এই অর্থে জ্বালানী সম্পদ উন্নযনে (ক) পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স-এ শূণ্যপদ পূরণ করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তির কাজের ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে। (খ) এ-দু'টি প্রতিষ্ঠানের জনশক্তি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠাতে হবে।  প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনতে হবে।  পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউটকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।  (গ) বাংলাদেশের প্রবাসী দক্ষ বিশেষজ্ঞদের দেশে জ্বালানী সম্পদ উন্নযনে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরী করতে হবে। (ঘ) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে।  (ঙ) ভূতত্ত্ব জরীপ বিভাগকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।  এখানে কাজের আকর্ষণ তৈরীর জন্য বিশেষ ইনসেনটিভ দিতে হবে।  (চ) নতুন-নতুন অনুসন্ধানে হাত দিতে হবে

(১) আগামী পাঁচ বছরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খনি প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ, বিশেষজ্ঞ তৈরীর জন্য নতুন বিভাগ খোলা, পুরনো বিভাগগুলো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে

(২) দেশের উত্তরাঞ্চল-সহ বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নেয়া কিংবা বিদ্যুতের জন্য এডিবি-র উচ্চ ব্যয়বহুল ও অপচয়ী প্রকল্প বাতিল করে ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে।  প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ে যৌথ ব্যবস্থাপনায় বিদেশী ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করা যেতে পারে

(৩) কয়লা খনি উন্নয়ন ও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কয়লা সম্পদ উত্তোলন ও তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলবার জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে।'কোল বাংলাদেশ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী ও তার কাজ শুরুর জন্য প্রথমেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে

(৪) বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে দক্ষতা অর্জন ও প্রযুক্তি সংগ্রহের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেঃ

  • বাংলাদেশের সীমিত জ্বালানী সম্পদ দেশের বিদ্যুতায়ন ও শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সুদৃঢ় ভিত্তি দাঁড় করাতে সক্ষম হবে

  • নিজেদের সম্পদের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে, যার ফলে আমরা প্রতিটি বিন্দু অনবায়নযোগ্য সম্পদ দেশের মানুষের কাজে লাাগাতে পারবো

  • গ্যাস ও কয়লা সম্পদ নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে পারলে তেল আমদানির ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পাবে

  • বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে

  • বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমবে, জ্বালানী ব্যবহার নিরাপদ ও টেকসই হবে, জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

জ্বালানী সম্পদ তথা দেশ ও মানুষকে রাহুমুক্ত করতে গেলে, অর্থনীতিকে অব্যাহত রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা করতে গেলে তেলগ্যাস ও কয়লা খাতের যেসব জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেগুলো বাতিল করতেই হবে।  আর নির্দিষ্টভাবে মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলা বিষয়ে, আন্তর্জাতিক বিধিমালা অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ না দিলে ইউনোকাল/ শেভরন-এর সম্পত্তি বাজেয়াফত করে তা উশুল করতে হবে।  

এখানে বলা দরকার যে, এ-সরকার অস্থায়ী এবং অনির্বাচিত।  এ-সরকারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব নয়।  কিন্তু দেশ ও জনগণের স্বার্থে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলে এ-সরকার এ-বিষয়ে একটি সূচনা করতে সক্ষম। 

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

ফুলবাড়ী ধ্বংসাত্নক কয়লা প্রকল্প বাতিল, উন্মুক্ত কয়লা খনি না করা এবং দুর্নীতি ও জালিয়াতির দোষে দুষ্ট এশিয়া এনার্জিকে এদেশ থেকে বিতাড়ন করবার জন্য জনগণের সাথে সরকারের সম্পাদিত চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত করা হয়নি।  দুর্নীতি ও লুন্ঠন বিরোধী কর্মসূচি কার্যকর করতে হলে এর অবিলম্বে বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি

দেশে একইরকম উন্মুক্ত কয়লা খনি ও সীমিত গ্যাস সম্পদ দখলের মতো প্রস্তাবনা নিয়ে এখনও টাটা অপেক্ষা করছে।  অপেক্ষা করছে আবুধাবী গ্রুপ।  এর মধ্যে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে কয়লা খনিতে যাদের অনেক দুর্নাম আছে, সেই মিত্তাল গ্রুপ নতুনভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।  আমরা পরিষ্কার বলতে, চাই জনগণের সম্পদ কোম্পানীর মুনাফার জন্য নয়, তা জনগণের কাজেই ব্যবহার করতে হবে।  প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনগণের ১০০ ভাগ মালিকানা, শতকরা ১০০ ভাগ সম্পদ দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহার নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার অনুকূল পদ্ধতিতে উত্তোলন এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিকশিত করবার শর্ত মৌলিকভাবে রক্ষা করে প্রণীত জ্বালানী নীতির অধীনেই আমাদের তেল গ্যাস ও কয়লা সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  কেবলমাত্র এসব শর্ত পূরণ করেই জ্বালানী নিরাপত্তা ও জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এই কাজের জন্য টেকসই প্রতিষ্ঠান ও সক্ষমতা অর্জনেই আমাদের পাওনা সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে

ধন্যবাদ সহ,

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।  ১৪ জুন ২০০৭

 
 
   

অন্যান্য কলাম 8

© 2007 Confidence Services Ltd.