|
মোঙ্গল
পাণ্ডে মীরাটের গণিকারা আর অক্সফোর্ডে মুহাম্মদ ইউনূস
ওমর
তারেক চৌধুরী
ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যবাদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা-যুদ্ধ বা ভারতীয়
মহা-বিদ্রোহের ১৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ-বছর।
এ-সঙ্গে গত ৮ই এপ্রিল পূর্ণ হলো মহা-বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মোঙ্গল
পাণ্ডের প্রাণোৎসর্গেরও দেড়শো বছর।
সামান্যভাবে হলেও মহাবিদ্রোহের অগ্নিশিখার স্পর্শ পাওয়া বাংলাদেশে,
দেড়শো বছরপূর্তির ক্ষণটি দুঃখজনকভাবে অতি নীরবেই অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে বলে
প্রতীয়মান হচ্ছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে না যে, আমরাও এই গৌরবময় মহান
সংগ্রামের উত্তরাধিকারী।
আশঙ্কা
হয় যে, ১৮৫৭ সালের
নভেম্বর
মাসে
ঢাকা শহরে ফাঁসির দড়িতে জীবন উৎসর্গ করা ১১ জন সৈনিকের স্মরণে বধ্যভূমির উপরে
'বাহাদুর শাহ পার্ক' নামে এখনও যে একটি স্মৃতিসৌধ রয়েছে, সেকথা বিস্মৃত থাকাই হয়তো
অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক আজ।
আঠারোশো সাতান্ন
সালের ১০ই মে মীরাটে ভারতীয় জনগণের মহা-বিদ্রোহ যে ব্যাপক আকার নিয়ে ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যবাদের ভিতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলো, তার পূর্বরঙ্গটি শুরু হয়েছিল ২২শে
জানুয়ারী, কোলকাতার অদূরবর্তী দমদমে।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ২৫শে ফেব্রুয়ারী ১৯ নং দেশীয় রেজিমেন্ট
বিদ্রোহ করে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নতুন প্রবর্তিত এনফিল্ড রাইফেলের গরু এবং
শূকরের চর্বি মাখানো কার্তুজ দাঁত দিয়ে কেটে ব্যবহার করলে ধর্মনাশের ভয়ে
হিন্দু ও মুসলিম উভয় সমপ্রদায়ের সিপাহিরা এ-বিতর্কিত কার্তুজ ব্যবহার করতে আপত্তি
করে।
ধর্ম
রক্ষার্থে নিষিদ্ধ পশুর চর্বি মাখানো কার্তুজ ব্যবহার নিয়ে সিপাহিরা বিদ্রোহী হয়ে
উঠলেও এটা ছিলো বিদ্রোহের একটি মাত্র, বা বলা চলে, বিদ্রোহের বাহ্যিক কারণ।
বিতর্কিত কার্তুজের ঘটনা ধর্ম নির্বিশেষে সিপাহিদের ঐক্যবদ্ধ হতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বিদ্রোহের মূল কারণগুলো ছিলো সমাজের মধ্যে বহমান শত
বছরের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ-অত্যাচার-বঞ্চনা-প্রতারণা-বৈষম্য সৃষ্ট ব্যক্তিগত ও
জাতীয় ক্ষোভের মধ্যে প্রোথিত।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশীয় রাজন্যবর্গ ও নৃপতিদের
জীবন-জীবিকা, মর্যাদা, সংস্কৃতির উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নির্মম অর্থনৈতিক শোষণ
ও হামলার বিরোধিতা করতে দেশবাসী রুখে দাঁড়িয়েছিলো।
ইংরেজদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে স্বদেশের স্বাধীনতা ও
আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেতনা ছিল এই বিদ্রোহের উৎসে।
সিপাহিদের
বিদ্রোহী মনোভাব নাটকীয় মোড় নেয় ২৯শে মার্চে, কলকাতা থেকে ১৬ মাইল দূরে ব্যারাকপুরে।
এদিন
৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফেন্ট্রির সৈনিক মোঙ্গল পাণ্ডে এক ব্রিটিশ এডজুটেন্ট ও এক
সার্জেন্ট-মেজরকে আক্রমণ করে আহত করেন।
মোঙ্গল পাণ্ডেকে বিরত করতে জমাদার ঈশ্বরী প্রসাদকে হুকুম করা হলে
তিনি তা অমান্য করেন।
মোঙ্গল পাণ্ডে নিজের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে ট্রিগার
চাপলে গুরুতরভাবে আহত হন।
৬ই
এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সামরিক আদালতের বিচারে আহত মোঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসির দিন ধার্য করা
হয় ১৮ই এপ্রিল।
কিন্তু সম্ভাব্য উত্তেজনার আশংকায় ১০ দিন আগে, ৮ই এপ্রিল মোঙ্গল
পাণ্ডেকে এবং ২২শে এপ্রিল অবাধ্য ঈশ্বরী প্রসাদকে ফাঁসি দেয়া হয়।
মোঙ্গল ও ঈশ্বরের ফাঁসির পর রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে
এলাহাবাদ, আগ্রা ও আম্বালায়।
দেশের জন্য প্রাণোৎসর্গ করে মোঙ্গল পাণ্ডে অগ্নিগর্ভ ভারতে
বিদ্রোহের আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখটি খুলে দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা-যুদ্ধের
প্রথম শহীদ এবং বিদ্রোহের মূর্ত প্রতীক।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিদ্রোহীরা মোঙ্গল পাণ্ডের নামানুসারে
পাণ্ডিস হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে গোরা সামরিক কর্তাদের কাছে
।
ব্যারাকপুরের পর-পরই পুরোদমে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল মীরাটে।
৯০ জন
সিপাহিকে ২৪শে এপ্রিল বিতর্কিত টোটা ব্যবহারের হুকুম দেয়া হলে, তাঁদের ৮৫ জনই
দৃঢ়তার সঙ্গে সবিনয়ে অস্বীকৃতি জানান।
অবাধ্য সিপাহিদের ৮ই এপ্রিলে সামরিক আদালতে ১০ বছরের সশ্রম দণ্ড
দেবার পর ৯ই এপ্রিল অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে ৪ হাজার সৈনিকের সামনে তাঁদের পায়ে
লোহার বেড়ি পড়িয়ে দেয়া হয়।
মূলতঃ সাহেবদের দলিল-পত্রাদির ভিত্তিতে রচিত রিচার্ড কোলিয়ার এর
দ্য
গ্রেট ইন্ডিয়ান মিউটিনি বইয়ের নাটকীয় বর্ণনা অনুযায়ী ১০ই মে
বিকালে মীরাট ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন গণিকালয়ে মৌজ করতে যাওয়া সিপাহিরা বেশ্যাদের
তীব্র ভৎর্সনার মুখে পড়ে 'তোমাদের ভাইরা যখন জেলখানায়, তখন তোমরা এখানে শুয়ে মাছি
মারছ! কাপুরুষ কোথাকার, তোমাদের শরম করা উচিত! কোনো ভীরুকে আমরা চুমু দিই না।'
ভৎর্সনার চাবুকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সিপাইরা ঘোড়ার দিকে ছুটে যায়,
নানা রাস্তা ধরে গ্রামের লোকজন ছুটে আসা শুরু করে, সন্ধ্যার মধ্যে শুরু হয় বিদ্রোহ।
সুনির্দিষ্ট তথ্য নির্দেশ না থাকায় কোলিয়ার-এর এ-বিবরণের কতটুকু
সত্য ও আর কতটুকু নাটকীয়তার জন্য কল্পিত, তা যাচাই করা মুশকিল হলেও ইমার্সনের কথার
মধ্যে রয়েছে অমোঘ সত্যঃ 'ভারতবর্ষের লুপ্ত চেতনা কামান গর্জনে জেগে উঠলো' ১৮৫৭ সালে।
ঐ
দিন রাতেই বিদ্রোহীরা ঘোড়া ছুটিয়ে ১১ই মে ভোরে গিয়ে দিল্লিতে পৌঁছালে সেখানেও
সিপাহিরা বিদ্রোহে যোগ দেয় এবং বাহাদুর শাহ জাফরকে হিন্দুস্তানের সম্রাট হিসেবে
ঘোষণা করে।
আঠারোশো সাতান্ন
সালের জানুয়ারী থেকে ১৮৫৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলা মহা-বিদ্রোহ ছিলো ভারতের
ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ উপনিবেশবাদ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম।
এমনকি উনিশ শতকে সমগ্র বিশ্বে এত বৃহদাকার ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী
অভ্যুত্থান আর ঘটেনি।
মোঙ্গল পাণ্ডে ব্যারাকপুরে যে স্ফূলিঙ্গ জ্বেলেছিলেন, তা দাবানল হয়ে
ছড়িয়ে পড়েছিলো সমগ্র ভারতবর্ষে, বিশেষ করে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য-ভারতে।
বাংলাদেশও মহাবিদ্রোহের আঁচ থেকে দূরে থাকেনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে।
ভারতবর্ষ জেগে উঠেছিলো ভৌগলিক, জাতিগত, ধর্মীয়, বর্ণ, শ্রেণীগত
বিভেদ রেখাকে অতিক্রম করে।
মোগল-মারাঠা, জমিদার-রায়ত-আদিবাসী, রানী-পেশোয়, হিন্দু-মুসলিম,
নারী-পুরুষ সবাই জেগে উঠেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে।
সিপাহিদের বিদ্রোহ পরিণত হয়েছিলো জনগণের বৈপ্লবিক সংগ্রামে।
বিভক্ত উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সেই সংগ্রামকে এগিয়ে নেবার
দায়িত্ব আজও ফুরিয়ে যায়নি।
আর
সে-দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সম্ভব মোঙ্গল পাণ্ডে আর মীরাটের অসীম
আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক গণিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
মোঙ্গল পাণ্ডের
বিদ্রোহের ঠিক দেড়শো বছর পর, কাকতালীয় ও পরিহাসপূর্ণভাবে ওই দিনই, এ-বছরের ২৯শে
মার্চ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহাম্মদ ইউনূস ক্লারেনডন লেকচার
দিয়েছেন।
দারিদ্র্য জাদুঘরের হবু-কিউরেটর হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলা
এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের নিষ্কলুষ চেহারা হাজির করার জন্য জনসংযোগপটু ডঃ ইউনূস
উচ্চ প্রচার-মূল্যসম্পন্ন বক্তৃতাটি দেবার সময় উপযুক্ত সুযোগটি হাত ছাড়া করেননি
স্বভাবসুলভভাবে।
অক্সফোর্ডে
দেয়া বক্তৃতার বিস্তারিত বিবরণ জানা না গেলেও সংবাদে জানা গেছে যে, 'অক্সফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রতিবছর অন্তত একজন বাংলাদেশী গরীব ছাত্রকে
বৃত্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন' ইউনূস।
শুধুমাত্র
বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের আজকের অনুন্নয়ন, দারিদ্র্য, অশিক্ষা,
স্বাস্থ্যসেবার অভাব, রাজনৈতিক হানাহানি, সাম্প্রদায়িক সংঘাত ইত্যাদির জন্য যে
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের ১৯০ বছরের নির্মম লুণ্ঠন দায়ী সেকথা
ইতিহাস-অর্থনীতি-রাজনীতি সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতন মানুষদের জানা আছে।
ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে বিদ্যমান এই অবস্থার বিপরীতে গ্রেট ব্রিটেনের
আজকের এই রমরমা অবস্থা, অগ্রগতি ও উন্নয়নটিও ঘটেছিল দু'শতাব্দীব্যাপী ভারত লুট করা
সম্পদের উপর ভিত্তি করেই।
আর
এ-লুণ্ঠনের জন্য সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ব্রিটিশ-সৃষ্ট কুখ্যাত ১১৭৬ (১৭৭০) সনের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের
এক-তৃতীয়াংশ মানুষ (এক কোটি) মৃত্যুর শিকার হয়েছে।
এটিই
একমাত্র বা দৈবক্রমে ঘটা দুর্ভিক্ষ ছিল না; ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো বাংলার কৃষি, শিল্প
ও অর্থনীতিকে।
কলেবর
বৃদ্ধির আণশঙ্কায় ব্রিটেন কর্তৃক ভারত লুণ্ঠনের বিস্তৃত বিবরণ দেয়া থেকে বিরত থাকা
হলো।
ডঃ ইউনূস
মর্যাদাসম্পন্ন যে অক্সফোর্ড থেকে স্কলারশিপ ভিক্ষা চেয়েছেন, ঔপনিবেশিক শাসনের
সঙ্গে সেই অক্সফোর্ডের সম্পর্ক এবং শিক্ষার জন্য ভারতে ব্রিটিশদের মহান অবদানের
দিকে একটু নজর দেয়া যেতে পারে।
ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে এক কোটি লোক মারা যাবার পর 'মৃত ব্যক্তিদের
দাহ করার জন্য জীবিত লোক' পাওয়া না গেলেও খাজনা আদায় যে আগের বছরের দ্বিগুণ
হয়েছিলো, সগৌরবে সে-কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস।
হেস্টিংস আরও অনেক অপকর্মের জন্য নিন্দিত হয়েছিলেন, অভিশংসনের মুখে
পড়তে হয়েছিল তাকে।
বেনারসের
রাজা চৈত সিং আর অযোধ্যার বেগমদের সঙ্গে নির্মম ও অসম্মানজনক আচরণ, এক লাখ
স্টার্লিং কেড়ে নেবার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে।
ভারত
লুটকারী এ-মহাপুরুষকে তার দেশ ইংল্যান্ডের দুঃসময়ে অসাধারণ সেবা করার পুরস্কার
হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ল ডিগ্রি প্রদান করেছিলো! ১৯৪৭
সালে ভারত ত্যাগের সময় ব্রিটেন রেখে গিয়েছিল ৮৮% নিরক্ষর মানুষ, ৯৫% শিশু কোনো
ধরণের প্রাথমিক বিদ্যার সুযোগ পেতো না।
১৭৫৭
থেকে পুরোদমে লুণ্ঠন শুরুর পর ১৯১১ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৬%, ১৯৩১ সালে ৮% আর
১৯৪৭ সালেও ১২%।
১৯৩৫
সালে প্রতি ১০ হাজার ছাত্রের মধ্যে মাত্র চার জন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার সুযোগ পেতো।
৩৫ কোটি
মানুষের দেশে ছাপা হয়েছির ১৬ হাজার বই, তার কতটুকু পড়ার জন্য বিলি হয়েছিলো জানা
যায়নি।
ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসে অতুলনীয় লুণ্ঠনের বিনিময়ে আমাদের শিক্ষার
জন্য এই ছিলো অক্সফোর্ডের প্রভুদের অবদান।
এসব অন্যায়ের
প্রতিকার না চেয়ে, ক্ষতিপূরণ দাবী না করে, ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবী
না তুলে, ডঃ ইউনূস ভিক্ষা চেয়েছেন প্রতিবছর একটি মাত্র বৃত্তি! নোবেল পাওয়ার
পর কথাবার্তায় বিপ্লবীপনা ফুটে উঠলেও দারিদ্র্য ও বঞ্ছনা, শান্তি ও ন্যায় বিচার এবং
উন্নয়ন বিষয়ে তাঁর অসাধারণ (!) উপলব্ধি এবং ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় ভিখারির চেয়ে ক্ষুদে
মানসিকতায় হতভম্ব হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
কেনো ডঃ
ইউসূস এ-বৃত্তি ভিক্ষা চাইলেন? অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি থাকলেই কি
গরিব ছাত্ররা পড়তে যেতে পারবে? সেখানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের জন্য যে ধরণের
প্রস্তুতি দরকার, তার সুযোগ কি আছে তাদের জন্য? তাছাড়া, স্বল্প কিছু ব্যতিক্রম
ছাড়া, অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব বাংলাদেশী ছাত্ররা পড়াশুনা করে,
তাদের একটি বড়ো অংশই কোনো না কোনোভাবে, কোনো এক পর্যায়ে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে
আর্থিক সহায়তা এখনই পেয়ে থাকে।
তাহলে
ঘটা করে এ-বৃত্তি ভিক্ষা করার কারণ কী? এসবই হচ্ছে সমস্যার মূল থেকে নজর ঘুরিয়ে
দেবার এবং প্রচারণার স্পট লাইটে নিজের ও প্রভূদের চেহারা উজ্জ্বল দেখাবার চোখ
ধাঁধানো পাবলিক রিলেশনস কৌশল।
সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো দারিদ্র্য সৃষ্টির যে জাল পেতে রেখেছে, অক্সফোর্ডের বৃত্তি
দিয়ে সেই দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।
শিক্ষার প্রসারের জন্য নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নয়, দরকার দেশের মধ্যে
শিক্ষার জনমুখী প্রসার।
ব্রিটেনের কাছ থেকে ওডিএ নামক দানছত্রের করুণা নয়, দরকার আত্মমর্যাদার সঙ্গে ভারত
লুঠের টাকা ফিরিয়ে এনে শিক্ষা ও মানবসম্পদ, কৃষি ও অবকাঠামোর উন্নয়নে বিনিয়োগ করা।
সর্বোপরি আমাদের প্রয়োজন, মীরাটের গণিকাদের; যাঁদের ভৎর্সনার চাবুকে আমরা সম্বিত
ফিরে পাবো, ঘোড়ায় পিঠে চড়ে বসে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণে ছুটে যাবো
।
|
|
|